মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪৪ অপরাহ্ন

রামেকে ভর্তি থাকা রোগীতে সব পরীক্ষা হবে হাসপাতালে

রামেকে ভর্তি থাকা রোগীতে সব পরীক্ষা হবে হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের কোন পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য বাইরে যেতে হবে না। কম খরচে সব পরীক্ষায় হবে হাসপাতালের ভেতরে। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এ উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে রোগীরা খুব উপকৃত হবেন।

রোববার (০১ আগস্ট) থেকে হাসপাতালে ভর্তি থাকা করোনা রোগীদের সব পরীক্ষা-নীরিক্ষা শুরু হয়েছে। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী নিজের রক্ত পরীক্ষা করতে দিয়ে এর উদ্বোধন করেন। অন্যান্য রোগীদের সব পরীক্ষা-নীরিক্ষা ভেতরেই করতে চলছে একটি প্যাথলজির অবকাঠামো নির্মাণের কাজ। এই প্যাথলজি ল্যাবটি প্রস্তুত হতে পারে সেপ্টেম্বর নাগাদ। এটি চালু হলে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার চিত্রই বদলে যাবে।

 

রোববার বেলা ১১টায় হাসপাতালের সভাকক্ষে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী। তিনি বলেন, এখন থেকে ভর্তি থাকা কোভিড রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আর বাইরে যেতে হবে না। ডি-ডাইমার, ডি-হাইড্রোজেনেস, সিআরপি, সিরাম ফেরিটিন টেস্ট হবে হাসপাতালের ভেতরেই। এগুলো বাইরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করাতে অনেক টাকা নেয়। সে জন্য ভর্তি থাকা রোগীদের হাসপাতালেই এই টেস্ট শুরু হলো।

 

সরকার নির্ধারিত ৬০০ টাকায় ডি-ডাইমার, সিরাম ফেরিটিন ২৫০ টাকা এবং ১৫০ টাকায় ডি-হাইড্রোজেনেস, সিআরপি পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) রোগীদের আরও তিনটি পরীক্ষা একসঙ্গে করা হবে ৬০০ টাকায়। ইসিজির ব্যবস্থা আগে থেকেই ছিল। এরসঙ্গে এখন ট্রপোনিন আইও টেস্ট করা হবে ৫০০ টাকায়। এগুলো বাইরে করতে বেশি টাকা লাগে। করোনা রোগীর কোন টেস্ট এখন থেকে বাইরে করা লাগবে না।

 

অন্যান্য সাধারণ রোগীদের সব পরীক্ষা ভেতরে করার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন হাসপাতাল পরিচালক। জানান, মোট চারটি ক্যাটাগরিতে টেস্ট করা হবে। এগুলো হলো- ইনডোর, আউটডোর, ওয়ান স্টপ সার্ভিস এবং কার্ডিয়াক প্যাথলজি। নতুন আউটডোর প্যাথলজি নির্মাণের কাজ প্রায় শেষে। কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের রোগীদেরও মুভমেন্ট করতে হবে না। সেখানেই সব টেস্ট হবে।

 

পরিচালক বলেন, ‘ভর্তি থাকা সব রোগীর টেস্ট ভেতরেই হবে। বহির্বিভাগে যাঁরা চিকিৎসা নিতে আসবেন, তাঁদেরও সব টেস্ট করার প্রচেষ্টা থাকবে। আমরা দেখেছি, ভর্তি থাকা রোগীদের নমুনা নিয়ে যায় বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মীরা। এই কাজটাই এখন থেকে আমরা করব। হাসপাতালের ভেতরেই আমরা অনেকগুলো কালেকশন পয়েন্ট বানাব। কর্মীরা বসে থাকবেন। আমাদের কাছে রোগীরা হলেন ‘ভিআইপি’। তাঁরা যখন ভর্তি হবেন, বেড থেকে যেন তাঁদের মুভমেন্ট করতে না হয়। কারণ, ট্রলিতে করে যাওয়াটাও বিড়ম্বনার। তাই কালেকশন বুথ থেকে গিয়ে আমাদের কর্মীরাই রোগীর নমুনা নিয়ে আসবে। শুধু সিটি স্ক্যান, এমআরআই মেশিন যেহেতু নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে রোগীকে আসতে হবে।’

 

 

শামীম ইয়াজদানী বলেন, আমাদের হাসপাতালে প্যাথলজি টেকনিশিয়ান মাত্র ১১ জন। এরমধ্যে ব্লাড ব্যাংকে কাজ করেন পাঁচজন। অন্য ছয়জন কাজ করেন প্যাথলজিতে। এই ছয়জন লোক নিয়ে কীভাবে ২৪ ঘণ্টা প্যাথলজি চালাব? এই জন্য আমরা পরিকল্পনা করেছি যে, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কিছু লোক নেব। এ জন্য হালকা কিছু সার্ভিস চার্জ নেওয়া হবে। এটা যদি করতে পারি, তাহলে চিকিৎসাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন হয়ে যাবে। রোগীদের দুর্ভোগ কমবে। বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের দৈরাত্বও কমবে।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com