মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩২ অপরাহ্ন

শরীরে সিরিঞ্জ পুশ করলেও দেওয়া হলো না ভ্যাকসিন, সত্যতা পেল তদন্ত কমিটি

শরীরে সিরিঞ্জ পুশ করলেও দেওয়া হলো না ভ্যাকসিন, সত্যতা পেল তদন্ত কমিটি

অল নিউজ ডেস্ক :
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের শরীরে সিরিঞ্জ পুশ করলেও ভ্যাকসিন প্রবেশ না করিয়ে সিরিঞ্জ ফেলে দেওয়ার ঘটনার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। টাঙ্গাইলের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম হুসাইন চৌধুরীসহ তিন সদস্যের ওই কমিটি তদন্ত শেষে সিভিল সার্জনের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

 

তদন্ত প্রতিবেদনে এক স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। সোমবার (২ আগস্ট) দুপুরে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। ওই স্বাস্থ্যকর্মীর নাম সাজেদা আফরিন। তিনি দেলদুয়ার উপজেলায় সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদে কর্মরত। টাঙ্গাইলের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম হুসাইন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

 

তদন্ত কমিটির প্রধান মো. শামীম হুসাইন চৌধুরী জানান, তদন্ত করে তারা ভ্যাকসিন পুশ না করেই সিরিঞ্জ ফেলে দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। অভিযুক্ত সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক নিজেও লিখিতভাবে ভ্যাকসিন পুশ না করে সিরিঞ্জ ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। তার নিজের অসুস্থতা এবং ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের চাপ বেশি থাকায় এমনটি হয়েছে বলে ওই সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন।

 

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, প্রতিবেদনটি ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক সাজেদা আফরিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

এর আগে, গতকাল রবিবার (১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই নম্বর বুথে সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক সাজেদা আফরিন ভ্যাকসিন দিচ্ছিলেন। এসময় ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের শরীরে সিরিঞ্জ পুশ করছিলেন ঠিকই তবে ভ্যাকসিন প্রবেশ না করিয়েই তাড়াহুড়া করে সিরিঞ্জ ঝুড়িতে ফেলে দিচ্ছিলেন।

 

 

বিষয়টি টিকা কেন্দ্রে আসা কয়েকজনের নজরে আসে। তারা আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শামীম হোসেনকে ঘটনাটি জানান। পরে ঝুড়িতে থাকা পরিত্যক্ত সিরিঞ্জগুলো বের করে দেখেন আরএমও। তখন তিনি সেখান থেকে ২০টি সিরিঞ্জের ভেতর ভ্যাকসিন দেখতে পান। ড. শামিম নিশ্চিত হন, সিরিঞ্জ পুশ করা হলেও ভ্যাকসিন শরীরে প্রবেশ করানো হয়নি। তিনি বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জানান।

 

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শামিম বলেন, বিষয়টি অনাকাঙ্খিত। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

অভিযোগ প্রসঙ্গে সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক সাজেদা আফরিন বলেন, অনেক লোকের চাপ ছিল। অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাটি ঘটে গেছে।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com