বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশে ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথি শিক্ষা নিম্নমুখীর ১১ কারণ ও উত্তরণে বোর্ডের জন্য ১২ প্রস্তাব

বাংলাদেশে ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথি শিক্ষা নিম্নমুখীর ১১ কারণ ও উত্তরণে বোর্ডের জন্য ১২ প্রস্তাব

ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু) :
বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এর ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড। বর্তমান হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষা এবং হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ গুলোর অবকাঠামো তথা শিক্ষার মান সহ সার্বিক বিষয় সময়ের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তন দরকার। বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের অধিনে ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সের প্রায় ৬৩ টি সরকার স্বীকৃত বেসরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে।
এছাড়া রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ফার্মেসী বিভাগ এর অধিভুক্ত ব্যাচেলর ডিগ্রি বিএইচএমএস কোর্সের একটি সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও একটি বেসরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ।
বাংলাদেশে ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথি শিক্ষা ব্যবস্থা নিম্নমুখির হবার ১১টি প্রধান কারণ ও উত্তরণে বোর্ডকে ১২ দফা প্রস্তাব দেওয়া হলো।
বাংলাদেশে স্বাধীনতার ৫০ বছরে ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথি শিক্ষা ব্যবস্থা ও মান এবং মর্যাদা নিম্নমুখি হবার ১১টি প্রধান কারণ  :
=====================================
১। বাংলাদেশে বর্তমানে ৪ বছর একাডেমিক ও ৬ মাস ইন্টার্ণশীপ ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথি কোর্স করতে কোন বয়স লাগেনা। যেকোন বয়সে ভর্তি হতে পারে। ১৬ বছর বয়স হতে ৮০/৯০ বা তারও বেশি বছর বয়স ব্যক্তিগণও ভর্তি হতে পারে। কখনও আসন সংখ্যা কলেজ গুলো মানেনা। কয়েকগুণ অতিরিক্ত ভর্তি। কখনও ভর্তি পরীক্ষা হয়না। স্বাধীনতার ৫০ বছরে ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থা ও কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা বিহীন ও বয়য় বিহীন?
২। ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথি কোর্সে ভর্তি হতে কোন মতে ২য় বিভাগে মাধ্যমিক পাস পেলে ও যে কোন সাল হলেও ভর্তি হতে পারে। বিজ্ঞান বিভাগ বাধ্যতামূলক নয়। বিজ্ঞান, মানবিক, বাণিজ্য বিভাগ, কারিগরি (ভোকেশনাল), মাদ্রাসা, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হতে মাধ্যমিক পাসও ভর্তি হতে পারে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থা ও কোর্সের ভর্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পাসের গ্রুপ বিহীন?
৩। ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথি কোর্সে যে কোন বয়সে চাকুরিজীবীরা ভর্তি হলে কলেজে ক্লাশ হোক আর না হোক বা ক্লাস করুক আর না করুক দিবা ও রাত্রীকালিন/নৈশ শাখায় ভর্তি হতে পারে। সাধারণত নৈশকালিন ক্লাশ বেশির ভাগ কলেজে হয়না। মানহীন শিক্ষক? স্বাধীনতার ৫০ বছরে ডিপ্লোমা কোর্সে বাধ্যতাহীন ক্লাশ না করা বা না হওয়া ও নৈশকালিন ভর্তি এবং কোর্সের ভর্তির বয়সহীন চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থা? যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনহীন ও রেজুলেশন বিহীন চাকুরিজীবীরা কোর্সে ভর্তি ও পরীক্ষা এবং সার্টিফিকেট গ্রহণ? সবগুলো পরীক্ষা চাকুরিজীবীরা অংশগ্রহণ করলে চাকুরি প্রদানকারি কর্তৃপক্ষ ছুটি মুঞ্জুর করে কিনা? টানা সকল দিনের বেলায় পরীক্ষা গুলোতে নিজেরা অংশ গ্রহণ?
৪। ৪ বছর মেয়াদি একাডেমিক ও ৬ মাস ইন্টার্ণশীপ ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথি কোর্সের হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক হতে শুধুমাত্র মাধ্যমিক পাস সহ ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথি পাস করে চিকিৎসক রেজিস্ট্রশন সনদপত্র নিয়ে ৩ বছর অতিক্রম করলে প্রভাষক (শিক্ষক) হতে পারছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষার শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও শিক্ষকের পাঠদানের মান?
৫। নতুন ও পুরাতন বেশিরভাগ ডিপ্লোমা কোর্সের হোমিওপ্যাথিক কলেজে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রভাষক, মেডিক্যাল অফিসার, অফিস সহকারি (কেরানি), অফিস সহায়ক পদ গুলো বিষয়ে কোন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বেশিরভাগ কলেজ বিজ্ঞপ্তি দেয়না। ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে অস্থায়ী ভিত্তিতে স্থানীয় নিয়োগ নিয়ে কিছুদিন পর তা কমিটির মাধ্যমে বৈধতা করতে রেজুলেশন করে বৈধতা করে! স্বাধীনতার ৫০ বছরে ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষার বেশির ভাগ হোমিওপ্যাথিক কলেজ চাকুরির পদের জন্য জাতীয় দৈনিক পত্রিকা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত করেনা ও প্রতিযোগিতা বিহীন নিয়োগ ব্যবস্থা? শিক্ষকের মান ও পাঠদানের মান?
৬। জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাড়া কলেজ অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে বেশিরভাগ নিয়োগকৃতগণ পরবর্তীতে কমিটির মাধ্যমে রেজুলেশন করে কলেজের অফিস সহকারি, ফার্মাসিস্ট/কম্পাউন্ডার, সহকারী লাইব্রেরিয়ান, অফিস সহায়ক (পিয়ন) চাকুরি পদে স্থায়ী হয়ে সে কলেজ হতে ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথি কোর্স করে। অধ্যয়ন করতে ম্যানেজিং কমিটি হতে রেজুলেশন করা বা অনুমতি নেই, কখন ক্লাশ করে ও তারা কখন চাকুরি করে এবং কখন কোর্সের পরীক্ষা দেয়? পরবর্তীতে আবার ডিপ্লোমা পাসের সার্টিফিকেট দিয়ে প্রভাষক পদে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে ম্যানিজিং কমিটির মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে চাকুরি নিচ্ছে ও চাকুরি পরবর্তীতে স্থায়ী করছে এবং নিয়মিত বোর্ড হতে প্রভাষক স্কেলে বেতন পাচ্ছে? স্বাধীনতার ৫০ বছরে ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কলেজে নিয়োগ পদ্ধতি ও চাকুরি অবস্থায় ৪ বছরের ডিপ্লোমা কোর্স এবং নিয়োগকৃত প্রভাষক (শিক্ষক) এর মান এবং পাঠদানের মান?
৭। বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার ১/২ বছরের মধ্যে ৪ বছরের একাডেমিক ও ৬ মাস ইন্টার্ণশীপ ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথি কোর্সে বেশকিছু মেধাবিগণ ভর্তি হয়ে নিয়মিত ক্লাশ, কঠোর পড়াশুনা, অনেক হোমিওপ্যাথ দেশি-বিদেশী লেখকের মূল বই নিয়মিত অধ্যয়ন করে পরীক্ষা দিয়ে পাস করে হোমিওপ্যাথি চেম্বার দিয়ে সুনামের সহিত তথা মর্যাদার সঙ্গে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছেন।
আর অপরদিকে যে কোন ভাবে সম্ভবত ভর্তি ব্যবসায়ীদের নিকট হতে অনেকে জেনেছেন যে, ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথি কোর্স করতে কোন বয়স লাগেনা। যেকোন বয়সে ভর্তি হতে পারে। ১৬ বছর বয়স হতে ৮০/৯০ বা তারও বেশি বছর বয়স ব্যক্তিগণও ভর্তি হতে পারে। ভর্তি হতে কোন মতে মাধ্যমিকে ২ বিভাগ পেলেও ভর্তি হতে পারে। বিজ্ঞান বিভাগ বাধ্যতামূলক নয়। বিজ্ঞান, মানবিক, বাণিজ্য বিভাগ, কারিগরি (ভোকেশনাল), মাদ্রাসা, দূরশিক্ষণের উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হতে মাধ্যমিক পাসও ভর্তি হতে পারে। ক্লাশ করা বাধ্যতামূলক নয়। প্রতিবছর ২০/২৫ হাজার টাকা খরচ করে কলেজ হতে ফরম ফিলাপ করলে সকল কলেজ নয় বেশির ভাগ কলেজে সকলে নয় বেশিরভাগ সংখ্যক তথা একটি বড় অংশ পরীক্ষার দিন চটি বই কিনে তা দেখে পরীক্ষার কক্ষে ডেক্সের উপর সকলের সামনে রেখে করা যায়। যে কোনভাবে খাতা ভরালে পাস অনেকটা নিশ্চিত। তারপর সার্টিফিকেট নিয়ে নিজেই হোমিওপ্যাথি চেম্বার দিয়ে বসছে। ডাক্তার পরিচয় দিচ্ছে? স্বাধীনতার ৫০ বছরে ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থায় কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা ও বয়য় বিহীন শিক্ষা এবং কখনও ক্লাশ না করে সার্টিফিােট নিয়ে চিকিৎসক হয়ে চিকিৎসকের মান?
লক্ষ্য করুন দেশের বিভিন্ন স্থানের মধ্যবয়স্ক ও বয়স্ক মনোহারি দোকানদার, ডালা নিয়ে হাট-বাজারে খুচরা চাউল ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী, ডিম ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক/জোয়ান, সাব কন্টাকটর, গরুর দুধ বিক্রেতা , মাদ্রাসা শিক্ষক, হাইস্কুল শিক্ষক জনসাধারণ যারা একসময় হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের নিকট হতে নিয়মিত নিজের বা পরিবারের জন্য হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নিয়ে সেবন করে আসছিলেন। বোর্ডের কড়াকড়ি না থাকায় তাদের একটি বড় অংশ কখনও ক্লাশ না করে একটি বড় অংশ অসুদপায় অবলম্বন করে পরীক্ষা দেয় ও সার্টিফিকেট এবং চেম্বার দিয়ে ডাক্তার হচ্ছে?
এছাড়া গ্রামে গ্রামে অবৈধ হোমিওপ্যাথিক প্যারামেডিক্যাল পরিচয় দেওয়া ও মানহীন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি, হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার চেম্বারের ও হোমিওপ্যাথিক কলেজের শিক্ষকদের চেম্বারের কম্পাউন্ডার রয়েছেন। যারা শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়স শিথিল থাকায় বোর্ডের কড়াকড়ি না থাকায় তাদের একটি বড় অংশ কখনও ক্লাশ না করে অসুদপায় অবলম্বন করে সু্বিধা গ্রহণ করে পরীক্ষা দেয় ও ইন্টার্ণশীপ না করে সার্টিফিকেট গ্রহণ এবং চেম্বার দিয়ে ডাক্তার হচ্ছে?
দেশীয় হোমিওপ্যাথিক ঔষধ কোম্পানির স্থানীয় উপজেলা ও জেলা এবং আঞ্চলিক প্রতিনিধি/সেলস ম্যান রয়েছে। যারা শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়স শিথিল থাকায় বোর্ডের কড়াকড়ি না থাকায় কলেজে কখনও ক্লাশ না করে অসুদপায় অবলম্বন করে সুবিধা গ্রহণ করে একটি বড় অংশ তথা বেশিরভাগ সংখ্যক পরীক্ষা দেয় ও ইন্টার্ণশীপ ক্লাশ কখনও না করে সার্টিফিকেট গ্রহণ এবং চেম্বার দিয়ে ডাক্তার হচ্ছে। অনেকের চেস্বারে এসে ডাক্তার পরিচয় দেয়? স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা প্রকৃত শিক্ষা অর্জন ও কঠোর লেখাপড়া করে যারা ডাক্তার হচ্ছে তাদের মর্যাদা কোথায়?
৮। ব্যাচেলর হোমিওপ্যাথি পাস করার পর ইন্টার্ণশীপ করার পর নিয়ে যাচ্ছে একটি হোমিওপ্যাথি ঔষধ কোম্পানী পরিদর্শনে। যে কোম্পানী মূল টার্গেট ব্যাচেলর ডাক্তারদের মগজ ধোলাই। পরিচয় করে দিচ্ছে কম্বিশন ঔষধ, পেটেন্ট ঔষধ, মলম প্রভৃতি ঔষধের সঙ্গে পরিচয় ও বাস্তব জীবনে ব্যবহার করার মূলমন্ত্র পাঠ ও বাস্তবায়নের নির্দেশনা। ব্যাচেলর হোমিওপ্যাথগণ সরকারি হাসপাতালে চাকুরি পেলে সরকার ঔষধ ক্রয় করছে পটেন্সি ঔষধ ছাড়াও কম্বিশন ঔষধ, পেটেন্ট ঔষধ। হাসপাতাল হতে ব্যবস্থাপত্র করে দিচ্ছে ও ঔষধ প্রদান করে আসছে কম্বিশন ঔষধ, পেটেন্ট ঔষধ/মাদার। অনেকে মনে করছেন ঔষধ কোম্পানীর নিজেদের বিনিযোগ সার্থক করাচ্ছে ব্যাচেলরদের মাধ্যমে। ব্যবস্থাপত্র ও ঔষধ প্রদানে কম্বিশন ঔষধ, পেটেন্ট ঔষধ/মাদার?
৯। দেশে ব্যাচেলর কোর্সের হোমিওপ্যাথিক কলেজে উচ্চমাধ্যমিক বিজ্ঞান বিভাগে পাস করার ২ বছরের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় পাস করে ভর্তি ব্যবস্থা, কলেজের ভাল অবকাঠামো, একাধিক শ্রেণী কক্ষ ও ব্যবহারিক ল্যাব, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাশে উপস্থিতি, বাধ্যতামূলক, মূল বই হতে পাঠদান, সৃজনশীর প্রশ্নে সুন্দর ও কঠোরভাবে পরীক্ষা নেবার ব্যবস্থা, উচ্চশিক্ষিত অভিজ্ঞ প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক রয়েছে। রয়েছে ভালো অবকাঠামোর হাসপাতাল ও দক্ষ্য জনবলকাঠামো এবং আসবাসপত্র সহ প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ।
অপর দিকে দেশের বেশিরভাগ ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথিক কলেজে মাধ্যমিকে বিজ্ঞান, মানবিক, বাণিজ্য, ভোকেশনাল, মাদ্রাসা, বাউবি হতে ২য় বিভাগে পাসকৃতরা ১৬ বছরের পর হতে জীবনের শেষ বয়স পর্যন্ত ভর্তি হওয়া যায়। প্রায় ৫০/৬০ ভাগ ডিপ্লোমা কলেজ অবকাঠামো দূর্বল ও টিনের বেড়া, কলেজের ভাল অবকাঠামো নেই, একাধিক শ্রেণী কক্ষ ও ব্যবহারিক ল্যাব প্রায় বেশির ভাগ ডিপ্রোমা কলেজে নেই, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাশে উপস্থিতি প্রায় বেশিরভাগ ডিপ্লোমা কলেজে নেই , বাধ্যতামূলক মূল বই হতে পাঠদান সংকট, সৃজনশীর প্রশ্নে সুন্দর ও কঠোর পরীক্ষা নেবার ব্যবস্থা বেশিরভাগ ডিপ্লোমা কলেজে নেই, উচ্চশিক্ষিত অভিজ্ঞ প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক প্রায় ডিপ্লোমা কলেজে নেই। বেশির ভাগ ডিপ্লোমা কলেজে নেই ভালো অবকাঠামোর হাসপাতাল ও দক্ষ্য জনবলকাঠামো এবং আসবাসপত্র সহ প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ। স্বাধীনতার ৫০ বছরে ডিপ্লোমা কলেজের সরাসরি ভর্তি ব্যবস্থা, ভর্তির যোগ্যতা, বয়স, অবকাঠামো, শিক্ষা ব্যবস্থা পাঠদান, শিক্ষার মান, হাসপাতাল ভবন, জনবলকাঠামো?
১০। স্বাধীনতার ৫০ বছরে ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথিক কলেজের ভর্তি ব্যবস্থা, ভর্তির যোগ্যতা যে কোন গ্রুপ/বিভাগ হতে যে কোন সালে ২ শ্রেণীর মাধ্যমিক পাস ও অনেক বয়সে বা জীবনের শেষকালে ভর্তি, কলেজের অবকাঠামো দূর্বল, শিক্ষা ব্যবস্থা ও পাঠদান মানহীন, বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ক্লাশ না করা, অসুদপায় অবলম্বন ও সর্ট নোট নিয়ে পরীক্ষা দেওয়া, খাতা ভর্তি করলেই নম্বর ও পাস করানোর প্রবণতা, ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাস অদক্ষ শিক্ষক, বেশিরভাগ ভাল অবকাঠামো বিহীন হাসপাতাল ভবন ও হাসপাতালের জনবলকাঠামো, নিয়মিত ইন্টার্ণশীপ ক্লাশ না করে বা কখনও ইন্টার্ণশীপ ক্লাশ না করে ইন্টার্ণশীপ সমাপ্ত করার প্রত্যয়ন প্রদান, তারপর বোর্ড হতে সার্টিফিকেট ও চিকিৎসক রেজিস্ট্রেশন সনদপত্র নিয়ে ডাক্তার চেম্বার খুলছে। ডাক্তার পরিচয় দিচ্ছে? ফলে চেম্বারে চটকদারি বিজ্ঞাপন দিচ্ছে কিন্তু রোগী আরোগ্যে সফলতা দেখাতে পাচ্ছেনা। ফলে প্রকৃত হোমিওপ্যাথিক মেধাবি চিকিৎসক ও হোমিওপ্যাথির বদনাম করছে। তারা রোগী আরোগ্যে ব্যর্থতা কে হোমিওপ্যাথির ব্যর্থতা হিসাবে অপপ্রচার হয়ে জনপ্রিয় হোমিওপ্যাথি পদ্ধতির বদনাম করছে। এসব যোগ্যতাহীন বেশিরভাগ ডাক্তারগণ কোথায় কোথায় সেমিনাম হচ্ছে তা খুজে বেড়ায় ও বলে বেড়ায় সিনিয়র ডাক্তারগণ শিখাতে সহায়তা করছেনা। সেমিনার ব্যবসায়ীরা তাদের নিকট হতে সুবিধা নিতে চান্স নেয়?
১১। বাংলাদেশে পাড়ায়-পাড়ায় ও মোড়ে-মোড়ে হোমিওপ্যাথি ডাক্তার চেম্বার। ভারতে চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থা ও যারা ডিপ্লোমা করেছে বা ডিপ্লোমা করে বিএইচএমএস করেছে তাদের সেমিনার ব্যবসায়ী বা সিনিয়র ডাক্তারদের পিছে ঘুরতে হয় না। বাংলাদেশের অনেক সম্মানীত মেধাবি, উচ্চশিক্ষিত, অভিজ্ঞ ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথ রয়েছে যারা হোমিওপ্যাথিক কে ভালবেসে হোমিওপ্যাথ হয়েছেন। যারা শিক্ষা জীবনে ঠিকমত লেখাপড়া করেছেন। তারা হোমিওপ্যাথিক সেমিনার ব্যবসায়ীদের পিছনে ঘুরেনা বা সিনিয়র ডাক্তারদের পিছে ঘুরেনা। শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী ও প্রতিনিয়ত গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বই পুস্তক এবং রেফারেন্স বই অধ্যয়ন করে আসছে। হোমিওপ্যাথিতে তারা সফল।
কম মেধাসম্পন্ন বা কম যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথি কোর্সে ভর্তি, জীবনে কলেজে কখনএ ক্লাশ করেনি, কখনও ইন্টার্ণশীপ ক্লাশ করেনি, কখনও ভাল ভাল দেশ-বিদেশের লেখকের বই ক্রয় করেনি ও নিয়মিত অধ্যয়ন করেনি বা করেনা, তাহলে চেম্বারে প্র্যাকটিস কিভালে ভাল করবে। ভাল মেধা, যোগ্যতা, ধর্য্য না থাকলে সকলের দ্বারা সবকিছু হয় না। তাদের দ্বারা হোমিওপ্যাথিতে ভালকিছু আশা করা যায় না। চিকিৎসা শিক্ষা অর্জনের সময় নিজেকে ফাঁকি দিয়েছে? তার অবস্থা আর কেমন হবে?
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষা, অবকাঠামো, শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে তথা উত্তরণে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের জন্য ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু) কর্তৃক ১২ দফা প্রস্তাব :
====================================
১। নতুন ডিপ্লোমা কোর্সের হোমিওপ্যাথিক কলেজ অনুমোদন না দিয়ে পুরাতন কলেজ গুলোর আধুনিক অবকাঠামো ও শিক্ষক এবং শিক্ষার মান নিশ্চিত করা দরকার। যথাযথ জায়গা বিহীন ও অবকাঠামো বিহীন এবং মানহীন কলেজ গুলো কোন ধরনের ছাড় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড ও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কাউন্সিল (প্রস্তাবিত) হতে দেওয়া যাবেনা। ভারতেও অনেক বছর পূর্ব হতেই চিকিৎসা শিক্ষার মান ও অবকাঠামো বিষয়ে কোন প্রকার ছাড় কাউন্সিল দিচ্ছেনা। হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ গুলোতে থাকতে হবে একাধিক ডিজিটাল ক্লাশ রুম। প্রতি বিষয়ে আলাদা-আলাদা ডিপার্টমেন্ট কক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলোর জন্য আলাদা-আলাদা স্থায়ী ব্যবহারিক কক্ষ/ল্যাব৷ আধুনিক গ্রন্থাগার ও আইসিটি কক্ষ/ভবন। এগুলো বাধ্যতামূলকভাবে বোর্ড ও কাউন্সিল নিশ্চিত করা।
পাশাপাশি অবশ্যই প্রত্যেকটি হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজে আধুনিক সুবিধা সম্বলীত সম্পূর্ণ আলাদা কলেজ হাসপাতাল ভবন করা। হাসপাতালের প্রধান হবে মেডিক্যাল অফিসার বা অধ্যক্ষ নয় সরাসরি একজন চিকিৎসককে পরিচালক পদ সৃষ্টি করে নিয়োগ করা ও হাসপাতালে জনবল এবং সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি করা।
কেন্দ্রীয়ভাবে “সরকারি হোমিওপ্যাথিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট” স্থাপন করে পর্যায়ক্রমে সকল হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষককে ১ বছর মেয়াদি সরকারি খরচে আবাসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। তদারকির দায়িত্ব পালন করতে হবে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড ও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কাউন্সিল (প্রস্তাবিত) কে সে দায়িত্ব প্রদান করা।
২। স্বীকৃতপ্রাপ্ত যথাযথ অবকাঠামো বিহীন এবং মানহীন ডিপ্লোমা কোর্সের হোমিওপ্যাথিক কলেজ গুলো অফিসিয়াল চিঠি দিয়ে ১ হতে ২ বছর সময় বৃদ্ধি করা। তা পালন না করলে প্রয়োজনে স্বীকৃতি বাতিল করা। যেহেতু অনেক বছর হলেও ভাল অবকাঠামো ও নিজস্ব আধুনিক একাডেমিক ভবন নির্মাণ করতে পারেনি। যে হাত দিয়ে স্বীকৃতি বোর্ড দিয়েছে এবার সে হাত দিয়ে বোর্ড প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন। অনুমোদনহীন অবৈধ সকল হোমিওপ্যাথিক কলেজ দ্রুত বন্ধ করা। তদারকির দায়িত্ব পালন করতে হবে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড ও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কাউন্সিল (প্রস্তাবিত) কে সে দায়িত্ব প্রদান করা।
৩। ডিপ্লোমা কোর্সের হোমিওপ্যাথিক কলেজ শিক্ষক নিয়োগে সরকারিভাবে কেন্দ্রীয়ভাবে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ। কলেজ গুলোর বেতনভুক্ত শিক্ষকদের নিয়মিত নিজ নিজ কলেজে উপস্থিতি নিশ্চিত করুন ও প্রয়োজনে স্থানীয়ভাবে আবাসন ব্যবস্থা করা। কঠোর তদারকির দায়িত্ব পালন করতে হবে বোর্ড, কাউন্সিল, প্রয়োজনে জেলা প্রশাসন কে সে দায়িত্ব প্রদান করা।
৪। সময়ের চাহিদায় শুধুমাত্র দিবা বিভাগে কলেজ গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা। নতুন শিক্ষার্থী সরাসরি অনলাইনে ভর্তি করা, ভর্তির বিষয়ে বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আসন সংখ্যা, শিক্ষার্থী ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে আবাসিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। কঠোর তদারকির দায়িত্ব পালন করতে হবে বোর্ড, কাউন্সিল, প্রয়োজনে জেলা প্রশাসন কে সে দায়িত্ব প্রদান করা।
৫। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষার্থীদের রোল নম্বরের পরিবর্তে প্রত্যেকের আলাদা-আলাদা আইডি নম্বর ও ডাটাবেজ সিস্টেম চালু করে যাবতীয় তথ্য ডিজিটালভাবে বোর্ডে সংরক্ষণ করা। নিয়মিত শিক্ষার্থী ক্লাশে উপস্থিত না হলে ফরম ফিলাপ ও পরীক্ষা দেবার অনুমতি বোর্ড হতে দেওয়া যাবেনা। পরীক্ষা ফরম ফিলাপে কারা পরীক্ষা দিতে পারবে সে তালিকা ফরম ফিলাপের সময়কালে বোর্ড ও বোর্ডের ওয়েবসাইডে নিয়মিত প্রকাশিত করা। কঠোর তদারকির দায়িত্ব পালন করতে হবে বোর্ড ও কাউন্সিল কে সে দায়িত্ব প্রদান করা।
৬। ডিপ্লোমা কোর্সের জন্য দেশের বিশিষ্টজনদের নিয়ে কমিটি করে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী কোর্সের আধুনিক কারিকুলাম প্রণয়ন করা। সে ভিত্তিতে বোর্ড হতে বা বোর্ড খোলা টেন্ডারের মাধ্যমে কোর্সের সকল বিষয়ের মানসম্মত পান্ডুলিপি অনুসারে পাঠ্য বই প্রকাশিত করা। ভর্তি আসন অনুপাতে কোর্সের বর্ষ অনুযায়ী সে পাঠ্য পুস্তক প্রদানে সে বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিকট ফিস নির্ধারিত করে বাধ্যতামূলকভাবে বোর্ড ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহণ করে বোর্ডের প্রকাশনা বিভাগ হতে আসন অনুপাতে মানসম্মত টেক্সবুক সেট শিক্ষার্থীদেরকে কলেজের মাধ্যমে প্রদান করা। শুধুমাত্র কোর্সের  জন্য বোর্ডের টেক্সবুক হতে কলেজে পাঠদানের ব্যবস্থা করা। কোন শিক্ষার্থী সহায়ক গ্রন্থ একাধিক বই বাহির হতে ক্রয় করতে পারে। কোর্সের প্রতি বর্ষের মানসম্মত বোর্ডের টেক্সবুক সেট বোর্ড বাধ্যতামূলকভাবে শিক্ষার্থীকে প্রদান করা ও কলেজে সেটা হতে নিয়মিত পাঠদানের ব্যবস্থা করা। কঠোর তদারকির দায়িত্ব পালন করতে হবে বোর্ড ও কাউন্সিল কে সে দায়িত্ব প্রদান করা।
৭। বর্তমান ডিজিটাল যুগ ও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষার মান ও পরীক্ষা পদ্ধতি আধুনিক করা। সকল বিষয়ের তত্ত্বীক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার পূর্ণমান বৃদ্ধি করা। সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়ন। বোর্ডের বিভিন্ন সালের প্রশ্ন মিল রেখে ধারাবাহিক প্রশ্ন না করা। প্রশ্ন পত্র প্রণয়নে অভিজ্ঞ কমিটি ও কঠোর গোপনীয়তা এবং প্রশ্নের প্যাকেট সিলগালা করে কেন্দ্রে প্রেরণে আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করা।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষার মান ও পরীক্ষা পদ্ধতি পর্যবেক্ষণে সরকার স্বীকৃত সকল হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ গুলোতে বোর্ডের কোর্সের সকল পরীক্ষায় এখন হতে সংবাদকর্মী ও মিডিয়া এবং সরকারি মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের ব্যক্তিগণ সরাসরি পরীক্ষা কেন্দ্রে যথাযথ পরিচয়পত্রসহ যে কোন সময় পরিদর্শনে যাবে বা যেতে পারে। তাদেরকে যথাযথভাবে প্রটোকল ও পর্যবেক্ষণের সার্বিক সহযোগীতা করা। কলেজকে কোন ফোন করে যাবেনা। চা-নাস্তা খেতেও যাবেনা। কোন শিক্ষার্থী অসুদপায় অবলম্বন করলে ৩০ মিনিট বা ১ ঘন্টা খাতা কক্ষের শিক্ষকের নিকট জমা রাখার ব্যবস্থা করা বা পরীক্ষার শেষ সময় পর্যন্ত খাতা একেবারে শিক্ষক জমা রাখা। অসুদপায় অবলম্বন করে লিখলে সে উত্তর গুলো অবশ্যই সে শিক্ষার্থীর সামনে কলম দিয়ে খাতায় সে লেখা গুলো শিক্ষক কেঁটে দিয়ে খাতায় সে সে পাতায় কক্ষের সেই শিক্ষক নাম পদবি তারিখ সহ স্বাক্ষর করবে। কোন শিক্ষক পরীক্ষা কক্ষে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করলে বেতন ভাতা ১ বছরের জন্য বন্ধ করা। প্রয়োজনে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব সে অধ্যক্ষের নিকট হতে ২৪ ঘন্টার মধ্যে পরিবর্তন করে কলেজের অন্য কোন শিক্ষককে বা জেলা প্রশাসনের ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব প্রদান করা। প্রয়োজনে অনিয়মকারী কলেজের স্বীকৃতি স্থগিত করা। কঠোর তদারকির দায়িত্ব পালন করতে হবে বোর্ড, কাউন্সিল, প্রয়োজনে জেলা প্রশাসন কে সে দায়িত্ব প্রদান করা।
৮। ডিপ্লোমা কোর্সের হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ যে হিসাবে বৃদ্ধি পেয়েছে সে হিসাবে ডিএইচএমএসদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। অনুপাত ভারসাম্যহীন। ডিএইচএমএস পাসকৃতদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে হোমিওপ্যাথি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা। দ্রুত কারিকুলাম প্রণয়ন করে হোমিওপ্যাথিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে বা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করে বাংলাদেশের প্রতি বিভাগীয় শহরে ১/২টি করে ডিএইচএমএস কোর্সের ভাল অবকাঠামো হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজে ব্যাচেলর ডিগ্রি কোর্স চালু করা। অন্যান্য দেশের মত ডিপ্লোমাদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বয়সের বাঁধা বাংলাদেশেও দূর করা। কারণ ডিএইচএমএস’দের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ তাদের দাবি নয় অধিকার।
৯। গবেষণা চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য নিয়মিত কার্যক্রম। কাগজ কলমে নয় দ্রুত জায়গা নির্বাচন ও অবকাঠামো নির্মাণ করে জাতীয়ভাবে কেন্দ্রীয় হোমিওপ্যাথি রিসার্চ ইন্সটিটিউট স্থাপন ও কার্যকর করা। পাশাপাশি সরকারিভাবে ও বেসরকারিভাবে হোমিওপ্যাথি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে সেখানেও হোমিওপ্যাথি গবেষণার ব্যবস্থা করা। গবেষণা প্রতিবেদন মেডিক্যাল জার্নালে নিয়মিত প্রকাশিত করা। বাংলাদোশে সরকারিভাবে মাত্র বৈধ ২টি বৈধ কোর্স হলো ডিপ্লোমা ডিএইচএমএস ও ব্যাচেলর বিএইচএমএম। সরকারিভাবে শুধু বিএইচএমএস নয়, ডিএইচএমএসদেরও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে চাকুরির ব্যবস্থা করা।
১০। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এর সঙ্গে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড নিবিরভাবে যোগাযোগ করে ডিএইচএমএস চিকিৎসা শিক্ষার মেডিক্যাল কলেজ গুলোর মান উন্নয়ন ও স্বীকৃতি এবং নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এককভাবে বোর্ডের নিকট না রেখে যৌথভাবে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড ও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কাউন্সিল (প্রস্তাবিত) এর নিকট রাখা। এখনও আইন সংসদে পাস হয়নি।  দেশের হোমিওপ্যাথরা ক্ষমতাহীন বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কাউন্সিল (প্রস্তাবিত) চায় না। যৌথভাবে ক্ষমতাবান হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কাউন্সিল ও হোমিওপ্যাথি বোর্ড চায়। যৌথভাবে বসে সকল ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে ও কার্যকর করতে পারে সে ব্যবস্থা করা। যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণে আলোচনা, জবাবদিহিতা, গ্রহণযোগ্যতা, কার্যকর পদক্ষেপ নিতে যৌথ কর্তৃপক্ষের সুবিধা হয়।
১১। সরকার বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড পরিচালনা কমিটি গঠনে সব সময় দেশের উচ্চশিক্ষিত বিশিষ্টজন প্রবীন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথ ও এলোপ্যাথ উচ্চডিগ্রিধারী যারা পরবর্তীতে হোমিওপ্যাথকে ভালবেসে ডিএইচএমএস করে শুধুমাত্র হোমিওপ্যাথ পেশা গ্রহণ করেছে এবং উচ্চশিক্ষিত সহ ডিএইচএমএস হোমিওপ্যাথি মেধাবী চিকিৎসক/ডিএইচএমএস করে বিএইচএমএস করে এমফিল বা পি-এইচডি করেছে/সাধারণ শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত হয়ে ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) পাস করে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবসরপ্রাপ্ত সরকারি উচ্চপদস্থ সচিব বা অতিরিক্ত সচিব বা উপ সচিব প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি করা। রাজনীতি ও দলাদলি এবং কাদা ছোড়াছুড়ি মনে করে অনেকে কোন পদে আসতে চায় না। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আসার সে ভাল পরিবেশ সরকার ও সরকারি কর্তৃপক্ষকে তৈরি করা। যারা নিতে নয় ও হোমিওপ্যাথির জন্য কিছু করতে চায় এবং বর্তমান-ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য হোমিওপ্যাথিতে কিছু ভাল কিছু দিতে চায়। সেটা বোর্ড ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।
১২। বাংলাদেশের জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে ও ডিপ্লোমা ডিএইচএমএস’দের জন্য কাজ করার জন্য তাদের অর্থে পরিচালিত বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডকে সর্বদা সেবা প্রদানে জনবান্ধব ও জবাবদিহিতামূলক করা। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর আওতাভুক্ত ও ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ১১, ১২ ও ১৩ বিধি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্রতিপালনের মাধ্যমে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি সহ সকলের বিদ্যমান নিজ ও পরিবারের সকল সদস্যদের সম্পদ বিবরণী দাখিল করা। তা ১ হতে ৫ বছর পরপর সরকারি নিদিষ্ট ছক ফরমের মাধ্যমে তথ্য ছক পূরণ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের মাধ্যমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে জমা প্রদান করা।
পরিশেষ :
======
ন্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধিনে ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণে উচ্চমেধা সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসতে হবে। উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া হোমিওপ্যাথি কোর্সে মেধাবিরা পাস করার পর সরকারি ও বেসরকারিভাবে ভাল কর্মসংস্থান পায় তা সরকার ও হোমিওপ্যাথি বোর্ড এবং প্রস্তাবিত হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কাউন্সিলকে নিশ্চিত করতে হবে।
১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ হতে বাংলাদেশের ডিএইচএমএস পাসকৃতরা দেখে আসছে এককভাবে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড কিভাবে ও কতদূর করতে পেরেছে কলেজ গুলোর স্বীকৃতি, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, শিক্ষার মান, কলেজের অবকাঠামো, শিক্ষকদের মান, পাঠদান ব্যবস্থা, পরীক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষার কারিকুলাম, কোর্সের মান উন্নয়ন, কোর্সের সমমান, ডিএইচএমএস পাসকৃতদের উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা তা কতদূর এগিয়েছে?
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড যৌথভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কীত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রয়োজনে যথাযথভাবে প্রস্তাবিত আইনে সংশোধন ও সংযোজন এবং প্রস্তাবিত আইনটি দেশের সকল ডিএইচএমএস কৃতদের নিকট গ্রহণযোগ্য করে দ্রুত সংসদ হতে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন ২০২১ (প্রস্তাবিত) পাস ও কার্যকর করা। সে মোতাবেক দ্রুত বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করা।
বর্তমান প্রস্তাবিত আইনে ডিএইচএমএস কোর্সের হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ গুলোর এককভাবে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড নিজেদের নিকট রেখেছে। যা কাম্য নয়। পাশাপাশি আইনে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করে শুধুমাত্র ডিএইচএমএস পাস ও বিএইচএমএস পাসকৃতদের চিকিৎসক পেশার চিকিৎসক রেজিস্ট্রেশন সনদপত্র প্রদান-নবায়ন এবং মাঠ পর্যায়ে সেসব চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কাউন্সিলের নিকট রেখেছে। হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ গুলোর স্বীকৃতি ও কোর্সের কারিকুলাম প্রণয়ন এবং শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ করার কোন ক্ষমতা হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কাউন্সিলের নিকট রাখেনি। বাংলাদেশে ক্ষমতাহীন হোমিওপ্যাথিক কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা নিয়ে দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথগণ বিষ্ময় প্রকাশ করে আসছে।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত সহ অন্যান্য দেশে হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাাল কাউন্সিল যে দেশ গুলোতে আছে সেসব দেশ গুলোতে হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কাউন্সিল শুধু চিকিৎসক রেজিস্ট্রেশন সনদপত্র প্রদান করেনা। সেসব দেশ গুলোর হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কাউন্সিল গুলো চিকিৎসক রেজিস্ট্রেশন সনদপত্র প্রদান, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষার মান উন্নয়ন তথা কারিকুলাম প্রণয়ন, কলেজ স্বীকৃতি, নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি সে দেশ গুলোর বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর হোমিওপ্যাথি কোর্সের কারিকুলাম, শিক্ষার মান উন্নয়নে কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে কেন নয়? সার্বিকভাবে এগিয়ে যাক হোমিওপ্যাথি।
(তথ্যসূত্র ও মতামত)
=====================================
লেখক পরিচিতি :
ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু)।
ডিএইচএমএস (রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ)
গভ. রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথ
এমএসএস (এশিয়ান ইউনিভার্সিটি)
ডাক্তার চেম্বার ও বাসভবন :
ডা. আব্দুস সালাম হোমিওপ্যাথি হেলথ কেয়ার,
(প্রতিষ্ঠা : ২০০২ খ্রিস্টাব্দ)
“ডাক্তার বাড়ী”, জগন্নাথ পাড়া, শেরপুর, বগুড়া-৫৮৪০, বাংলাদেশ।
সভাপতি/প্রধান সমন্বয়ক,
বাংলাদেশ ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদ। কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশ।
(চিকিৎসক, শিক্ষক, কেন্দ্রীয় হোমিওপ্যাথি নেতা, কেন্দ্রীয় শিক্ষক নেতা, কলামিস্ট ও প্রাক্তন সাংবাদিক)

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com