সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন

গাইবান্ধা গ্রাম পুলিশরা মানহীন সাইকেল গ্রহণে অস্বীকৃতি 

গাইবান্ধা গ্রাম পুলিশরা মানহীন সাইকেল গ্রহণে অস্বীকৃতি 

অল নিউজ ডেস্ক :

টেন্ডারের সিডিউল অনুযায়ী বাইসাকেল সরবরাহ না করে নিম্নমানের সাইকেল দেওয়ায় গাইবান্ধার গ্রাম পুলিশরা তা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসন বাধ্য হয়ে বাইসাইকেল বিতরণ স্থগিত করেছে। বিষয়টি গাইবান্ধায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের আঙুল ঠিকাদার নজরুল হকের দিকে। সচেতন মানুষ বলছেন, তদারককারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।

 

 

প্রশাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গাইবান্ধা জেলার সাত উপজেলার ৮১ ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত গ্রামপুলিশদের (দফাদার ও মহল্লাদার) ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে পোশাক ও সরঞ্জামা বিতরণের জন্য ১ কোটি ৪ লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয় বরাদ্দে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে রংপুর, গাইবান্ধা, খুলনা ও ঢাকার ঠিকাদাররা অংশ নেন। এরমধ্যে গাইবান্ধা শহরের ঠিকাদার নজরুল হকের নামে সিয়াম স্টোর ১ কোটি ৪ লাখ ৬৬ হাজার ১৬০ টাকা ও মেসার্স নজরুল হক ১ কোটি ৪ লাখ ৯১ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রী মালেকা নজরুলের নামে ড্রেসি টেইলার্স ৫৭ লাখ টাকা দরে দরপত্র দাখিল করে।

 

 

অপরদিকে খুলনার নূর এন্টারপ্রাইজ ৬৬ লাখ ৯৬ হাজার ৭৯০ টাকা, এস.আর কর্পোরেশন ৯২ লাখ ৫২ হাজার ২০০ টাকা, আনন্দ ট্রেড কর্পোরেশন ৯৮ লাখ ৫৩ হাজার ৮০০ টাকা এবং রংপুরের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। পরে ঠিকাদার নজরুল হক মালামাল সরবরাহের কার্যাদেশ পান।

 

 

সিডিউল অনুযায়ী পুরুষদের ৭৯০টি ও মহিলাদের ২০টি ভারতীয়-বিএসএ/ হিরো/ দূরন্ত বাংলাদেশি সাইকেল সরবরাহ করার কথা। কিন্তু ঠিকাদার নজরুল হক বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জোড়া দিয়ে নিম্নমানের বাইসাইকেল তৈরি করে হিরো স্টিকার লাগিয়ে বিতরণের চেষ্টা করেন। ফলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সদর উপজেলার গ্রাম পুলিশদের মধ্যে বিতরণ করার সময় এসব নিম্নমানের বাইসাইকেল গ্রহণে গ্রাম পুলিশরা অস্বীকৃতি জানায়। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বাই সাইকেল বিতরণ স্থগিত করা হয়।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী গ্রাম পুলিশ বলেন, নানা কাজে তাদের প্রত্যন্ত এলাকায় যেতে হয়। সরবরাহ করা সাইকেল এতটাই দুর্বল যে তা নিয়ে পথে নানা মুশকিল হবে। নমুনার সাথে ঠিকাদারের দেওয়া সাাইকেলের মিল নেই। জোড়াতালি দেওয়া পার্টস জুড়ে ঝাকি খেলেই খুলে যাবে। তিনি বলেন, তাদের মতো সাড়ে ৬ হাজার টাকা বেতনের চাকরের পক্ষে বারবার মেরামত করাটাও সম্ভব নয়।

 

 

তবে অভিযুক্ত ঠিকাদার নজরুল হকের দাবি, যথানিয়মে দরপত্রে অংশ নিয়ে তিনি বাইসাইকেল সরবরাহের কার্যাদেশ পান। বাইসাইকেলগুলো কোনোভাবেই নিম্নমানের নয়। দরপত্রে যা আছে তারচেয়েও ভালো সাইকেল দেওয়া হয়েছে। তিনি এ সব কর্মকর্তাদের দেখিয়ে জমা দিয়েছেন।

 

 

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোছা. রোখছানা বেগম বলেন, বিতরণ করার জন্য নয়, গ্রাম পুলিশদের সাইকেলগুলো দেখানোর জন্য ডাকা হয়েছিল। প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া নমুনার সাথে মিল না থাকলে ঠিকাদারের কাছ থেকে সাইকেল সরবরাহ নেওয়া হবে না।আপত্তির কারণে তা বিতরণও করা হয়নি।

 

 

অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার নজরুল হক নিজের নামে দুটি ও স্ত্রীর নামে একটি লাইসেন্স করে বিভিন্ন দপ্তরের টেন্ডার হাতিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহ করে আসছেন।

 

সামাজিক সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর কবীর তনু বলেন, বিষয়টি তদন্ত কমিটি গঠন করে খতিয়ে দেখা দরকার। কারণ দরিদ্র গ্রামপুলিশদের সাথে প্রতারণা করা চরম অমানবিকতার পরিচয়। সুত্র/কালের কন্ঠ

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com