মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:১৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ট্রেন দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন

ট্রেন দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন

অল নিউজ ডেস্ক :
একটি ট্রেন দুর্ঘটনা জীবনের সব স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে আব্দুল মজিদের। সমাজের আর দশজনের মতো মজিদের স্বপ্ন ছিলো স্ত্রী, সন্তানকে নিয়ে সুন্দর একটি সংসার সাজাবো। কিন্তু প্রায় ৮ বছর আগে ট্রেন দূর্ঘটনায় পা হারান আব্দুল মজিদ (৩৫)। দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ১নং খট্রামাধবপাড়া ইউনিয়নের সাতকুড়ি (বড়চড়া) গ্রামের ছয়মদ্দিনের ছেলে তিনি। স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে এখন তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 

 

জানাগেছে, আজ থেকে প্রায় ৮ বছর আগে আব্দুল মজিদ পার্শ্ববর্তী জেলা জয়পুরহাটের পুরানাপৈল এলাকায় একটি মালবাহী ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ছিটকে পড়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও পা হারান তিনি। দীর্ঘদিন রংপুর মেডিকেল ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন মজিদ। অভাবের সংসারে চিকিৎসা করতে গিয়ে বাবা ছয়মুদ্দিন ও নিজের জমানো সব সম্পদ শেষ হয়ে যায়।

 

আব্দুল মজিদ একজন সুদর্শন শারীরিক গঠনের অধিকারী ছিলেন। সুঠাম দেহের মানুষ সংসার চালানোর জন্য সব ধরনের কঠিন কাজ করতেন। তার দুই ছেলে-মেয়ে এবং স্ত্রীকে নিয়ে চারজনের সংসার। পা হারিয়ে তেমন কোনো কাজ করতে পারেন না, সংসারের চাহিদা মেটাতে এখন তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। পারছেন না সন্তানদের চাওয়া-পাওয়া পূরণ করতে। জীবনযুদ্ধে আব্দুল মজিদ একজন পরাজিত সৈনিক।

 

 

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে দেওয়া হয়েছে একটা পঙ্গু ভাতার কার্ড। তাতে তার সংসার চলে না। স্ত্রী সন্তানদের চাহিদা মেটাতে একটা ব্যবসা করবেন, মূলধনও নেই। একটা চার্জার ভ্যান, রিকশা কিংবা অটোবাইক কিনবেন তারও কোনো উপায় নেই। অন্য কোনো ভারী ওজনের কাজ করার ক্ষমতা তার নেই। একটি পা আর দুইটি স্কেসের উপর ভর করে চলতে হয় তাকে।

 

বড়চড়া গ্রামের স্হায়ী বাসিন্দা আব্দুল রহিম বলেন, আব্দুল মজিদ ছেলেটি স্বভাব চরিত্রে খুবই ভালো এবং সংসারী ছিলো। হঠাৎ একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে আজ বড় অসহায় হয়ে গেছে। সংসারে দেখা দিয়েছে অভাব। আগে তার সংসারে কোনো অভাব ছিল না। এখন আর কোন কাজ ঠিকমতো করতে পারে না।

 

 

কথা হয় আব্দুল মজিদের স্ত্রী সালমা বেগম এর সাথে তিনি বলেন, আমার স্বামী অনেক ভালো মনের একজন মানুষ। সে কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালাতো। আমাদের সংসারে কোনো অভাব ছিল না। হঠাৎ একটি ট্রেন দুর্ঘটনা আমার সংসারের সব সুখ-শান্তি কেড়ে নিয়েছে। আজ সে তেমন কোন কাজ করতে পারে না। ট্রেন দুর্ঘটনার পর ছেলে-মেয়ে আর তাকে নিয়ে বাবার বাড়ি উপজেলার ডাঙ্গাপাড়ায় চলে আসি। বাবার বাড়িতে থেকে তাদের সহযোগিতায় কোনো রকমে চলছি।

 

 

কথা হয় আব্দুল মজিদ এর সাথে তিনি বলেন, বর্তমানে আমি একজন অসহায় পঙ্গু মানুষ। একটি দূর্ঘটনায় পা হারিয়ে জীবনের সব স্বপ্ন হারিয়ে ফেলেছি। সংসারের চাহিদা মেটাতে পারি না। ছেলে-মেয়ে আর স্ত্রীর মুখের দিকে তাকাতে খুব কষ্ট হয়। আগে আমি রিকশা চালাতাম, এখন তো এক পা নেই, কীভাবে রিকশা চালাবো। নিজেকে সমাজ-সংসারের বোঝা মনে হচ্ছে।

 

হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার ১নং খট্রা-মাধবপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান বলেন, আমার ইউনিয়নের বড়চড়া গ্রামের মজিদকে আমি ভালো ভাবে চিনি। সে অনেক ভালো একটি ছেলে। একসময় সে সুস্থ ছিল, ট্রেন দুর্ঘটনায় তার একটি পা হারিয়ে ফেলে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে একটা পঙ্গু ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। তারপরও তাকে সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com