সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপট

চট্টগ্রামে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপট

অল নিউজ ডেস্ক :
চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১২ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ২৮টি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট, যা মোট নমুনার ৯৩ শতাংশ। অপর একটি নমুনার মধ্যে আলফা (যুক্তরাজ্য) ভ্যারিয়েন্ট এবং একটির মধ্যে চীনের উহানের ভাইরাসের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। ডেল্টা সংক্রমিত রোগীর মধ্যে ১৫ জনই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। যাদের মধ্যে ৯ জনের বয়স ৫০ এর বেশি। ফলে চট্টগ্রামে এখন চলছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপট।

 

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) যৌথ গবেষণায় এসব তথ্য ওঠে আসে। গত ১ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত গবেষণায় সংগৃহীত নমুনার ৩০ জনের বয়স ২১ থেকে ৭৪ বছরের মধ্যে। এসব রোগীর মধ্যে ১৫ জন শহরের এবং ১৫ জন গ্রামের বাসিন্দা। এখন শহরের পাশাপাশি গ্রামেও ডেল্টার সংক্রমণ ছড়িয়েছে। সংক্রমিত রোগীর মধ্যে আছেন তরুণ, যুবক, মধ্যবয়সী ও বৃদ্ধ।

 

সিভাসু উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশের তত্ত্বাবধানে ‘কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন’ শীর্ষক এই গবেষণায় পোলট্রি রিসার্চ ও ট্রেনিং সেন্টার (পিআরটিসি) সহযোগিতা করে। মুখ্য গবেষক ছিলেন প্রফেসর ড. পরিতোষ কুমার বিশ্বাস। গবেষক ছিলেন সিভাসুর প্রফেসর ড. শারমিন চৌধুরী, ডা. ইফতেখার আহমেদ রানা, ডা. ত্রিদিব দাশ, ডা. প্রণেশ দত্ত, ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম ও ডা. তানভীর আহমদ নিজামী। জিনোম সিকোয়েন্সে সহযোগিতা করেন বিসিএসআইআর ল্যাবের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সেলিম খান ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মোরশেদ হাসান সরকার।
মুখ্য গবেষক প্রফেসর ড. পরিতোষ কুমার বিশ্বাস বলেন, চট্টগ্রামে এখন চলছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপট। জুলাই মাস থেকে এ ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ছড়িয়েছে। এতে সব বয়সীরাই সংক্রমিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে মানুষের মধ্যে অনীহা, শারীরিক দূরত্ব না থাকা এবং হাঁচি-কাশিতে শিষ্টাচার বজায় না রাখাসহ করোনাকালে বিধিনিষেধের মধ্যেও সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ না করায় শহর ও গ্রামে সমানতালে সংক্রমণ বাড়ছে।

 

 

সিভাসু উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট অত্যন্ত সংক্রামক। এটি এখন দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রভাবশালী স্ট্রেইন। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট যখন কাউকে আক্রান্ত করে তখন তার শরীরে সেই ভাইরাসটি সংখ্যায় অনেক বেশি থাকে। ভাইরাসটি খুব দ্রুত তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে। যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে অধিক সংখ্যক ভাইরাস বেরিয়ে আসে, যা সহজেই অন্যকে আক্রান্ত করতে পারে।

 

 

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের একটি রূপান্তরিত রূপ হচ্ছে ডেল্টা। রূপান্তরটা ঘটে তার বাইরের সুচালো স্পাইক প্রোটিনে। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নোভেল করোনা ভাইরাসের তুলনায় খুবই ছোঁয়াচে। একজন থেকে অন্যজনে খুব দ্রুত ছড়াতে পারে। এ কারণেই চট্টগ্রামে করোনা দ্রুত ছড়াচ্ছে বলে মনে করি।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com