মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৫৫ অপরাহ্ন

লাশ চুরির ভয়ে শিবগঞ্জের বজ্রপাতে নিহতদের কবর করা হলো ঢালাই

লাশ চুরির ভয়ে শিবগঞ্জের বজ্রপাতে নিহতদের কবর করা হলো ঢালাই

মো: সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা :

মোহা: সফিকুল ইসলাম:গত বুধবারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের জনতার হাট এলাকার বরপক্ষের লোকজন শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ইউনিয়নের তেররশিয়া গ্রামে হোসেনের বাড়িতে বউভাতের অনুষ্ঠানে যাবার পথে বৃষ্টির সময় দক্ষিণপাকা ফেরী ঘাটের ঘরে আশ্রয় নেয়া বজ্রপাতে নিহত সকলের কবর রড সিমেন্ট ও বালু দিয়েঢালাই ও প্রাচীর দিয়ে ঘেরার কাজ শেষ করেছে।করব ঢালাইয়ের সংবাদটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় নতুন নয়।

 

১৯৯৮সাল থেকে ২০০০সাল পর্যন্ত বজ্রপাতে নিহত কোন লাশ দাফনের পর কবরে থাকতো না। সবগুলোর লাশ বা কঙ্কাল চুরি হয়ে যেতো। তখন থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তিদের লাশ বা কঙ্কাল চুরির আতঙ্ক তাদের আত্মীয়দের মাঝে বিরাজ করে আসছে। যাদের আর্থিক অবস্থা ভাল তারা লাশ দাফনের পরপরই ইট বালি, রড ও সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই দিয়ে নিশ্চিত হয়। আরা যারা গরীব শ্রেণীর লোক তারা লাশ দাফনের পর অনেকদিন পর্যন্ত কবর পাহারা দেয় রাতে।

 

১৯৯৮সালে শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের দফাদার মরহুম রফিক উদ্দিনের দুই ছেলে বজ্রপাতে নিহত হলে দাফনের পরই তাদের কবরদুটো ঢালাই করা হয়েছিল। অন্যদিকে বিনোদপুর ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের মরহুম রইসউদ্দিনের মেয়ে বজ্রপাতে নিহত হবার পর অভাবের তাড়নায় কবর ঢালাই করতে না পারায় কয়েকদিনের মধ্যে কবর থেকে তার লাশ বা কঙ্কাল চুরি করে লাশের কিছু অংশ আখের জমিতে ফেলে রাখা হয়েছিল।

 

স্বজনরা আবারো তার দাফন করেছিল।তখন থেকেই বজ্রপাতে নিহতদের স্বজনরা লাশ চুরির আতঙ্কে আছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত বুধবারে দুপুর ১২টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলায় পাকা ইউনয়নের দক্ষিণ পাকা ফেরী ঘাটে টোল আদায়ের ঘরে আশ্রয় নেয়া বজ্রপাতে নিহত ১৭জনের মধ্যে ১৬জনই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের জনতার হাট এলাকার। তাদের মধ্যে আবার একই পরিবারের ৭জন। এ সাত জনের নিকটতম আত্মীয় সফিকুল ইসলাম জানান,বজ্রপাতে নিহত আমাদের আত্মীয়দের দাফন বাড়ির উঠানেই করেছি। কারণ আমরা শুনেছি বজ্রপাতে নিহতদের লাশ বা কঙ্কাল কবর থেকে চুরি হয়ে যায়। তাই আমাদের একই পরিবারের ৭জনের মধ্যে ৬জনের লাশ বাড়ির উঠানে দাফনের কাজ সম্পূর্ন করেছি এবং কবর গুলিকে রড, সিমেন্ট, বালু দিয়ে ঢালাই করে দিয়েছি এবং কবরের চারদিকে ইটের প্রচীর দেয়া হয়েছে। যাদের কবর উঠানে প্রাচীর দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে তারা হলো সাদিকুল ইসলাম(৩৫) তোবজুল হক(৭০) তার স্ত্রী জমিলা বেগম (৬২) মেয়ে লাচন বেগম(৪০) সাদিকুলের স্ত্রী টকিয়ারা বেগম(৩২) ও বাবুল (২০)। সফিকুল ইসলাম আরো জানান আমার জানা মতে বাকী আরো ১০জনের লাশ একই ভাবে বাড়ির উঠানে দাফনের পর এভাবে ঢালাই ও ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা হয়েছে। তারপরও আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। তাই আমাদের আত্মীয়দের কবরগুলো সব সময় চোখে চোখে রাখছি।

 

এ ব্যাপারে সমাজের অনেক সচেতন মানুষ এটিকে শুধু মাত্র কুসংস্কার বলে আখ্যায়িত করে বলেন, যারা কবর থেকে বজ্রপাতে নিহত মানুষের লাশ বা কঙ্কাল চুরি করে, তারা মানুষ রুপী পশু ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবী যারা এ কাজে জড়িত তাদের পাকাড়াও করে সমুচিত শিক্ষা দেয়া হোক। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুল হক ড্যানি, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: মাহফুজ রায়হান, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা সায়রা খান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী একমত পোষন করে বলেন বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসা মতে বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির কঙ্কাল থেকে কোন কিছু তৈরী হয়না। এমনকি বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তিদের কঙ্কাল বা হাড় চিকিৎসা ক্ষেত্রেও কোন কাজে আসে না। এমনকি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও বজ্রপাতে নিহতদের কঙ্কাল বা লাশ কোন কাজে আসে না। তারা আরো বলেন এটি আমাদের সমাজে বড় ধরনের একটি কুসংস্কার। যেখান থেকে বেরিয়ে আসা নৈতিক দায়িত্ব।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com