বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদীতে আ.লীগের রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি

ঈশ্বরদীতে আ.লীগের রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি :

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে বাইর থেকে বহু মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ জনগণকে হত্যাকারী নকশাল পরিবারের সদস্যকে যুগ্মসম্পাদক পদে কো-আপ করার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগসহ সহযোগি সংগঠনগুলোর মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এই অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদীতে আওয়ামীলীগের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাকার্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন সময় তা সহিংস্র রূপ নিতে পারে। তবে বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণসহ সমঝোতার ভিত্তিতে রাজনীতি করার পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে পাবনা জেলা আওয়ামীলীগ। পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স মুঠোফোনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগসহ সহযোগি সংগঠনগুলোর একাধিক সুত্রে জানা যায়, ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিতে বাধা দিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ১৯ আগষ্ট স্বেচ্ছাসেকদলের প্রতিষ্টা বার্ষিকী ঘোষণা ও পালন করেন। ঈশ্বরদীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা মামলার দন্ডপ্রাপ্ত ফাঁসির আসামীর স্মরণে এই দিবসে বিএনপি নেতাদের নিয়ে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু পূর্ব টেংরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদীতে আওয়ামীলীগের মধ্যে তীব্রক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

 

এরপর থেকেই একটি পক্ষ উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্মসম্পাদক পদে সাবেক মেয়র মিন্টুর পক্ষের একজনকে কো-আপ করা এবং সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কারের দাবীতে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বে থাকা নেতার সঙ্গে জোড় তদবির শুরু করেছেন। এই খবরের সত্যতা চাউর হওয়ায় ঈশ^রদীতে আওয়ামীলীগের মধ্যে গ্রুপিংসহ তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সুত্রগুলোর দাবী, বিষয়টি কেন্দ্রিয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দসহ সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) এসএম কামাল সুদৃষ্টি দিয়ে কাউন্সিলের আগে দলের মধ্যে সহিংস্র পরিস্থিতি শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করবেন। একই সঙ্গে বহিরাগতকে সংগঠনের বিধিনিষেধ অমান্য করে কো-আপের নামে দায়িত্বশীল যুগ্মসম্পাদকের মতো পদে এনে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করবেন না এমনটায় প্রত্যাশা স্থানীয় নেতাকর্মীদের।

 

খোজঁ নিয়ে যানা যায়, গত ২০১৩ সালে ১১ জুন ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আনিচুন্নবী বিশ্বাসকে সভাপতি, মকলেছুর রহমান মিন্টুকে সাধারণ সম্পাদক ও মীর জহুরুল হক পুনোকে ১ নং সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৬৭ সদস্যের একটি পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। যা পরবর্তিতে প্রয়াত সাবেক ভূমিমন্ত্রী পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা শামসুর রহমান শরীফ ডিলু অনুমোদন স্বাক্ষরের মাধ্যমে অনুমোদন দেন। এই কমিটিতে বর্তমান ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খানের নাম নেই। কিন্তু তাকে হঠাৎ করে একটি পক্ষ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে যুগ্মসম্পাদকের মতো পদে কো-আপ করার চেষ্টা করছেন। যা আওয়ামীলীগের রাজনীতির জন্য অত্যান্ত নিন্দনীয় এক চেষ্টা।

 

ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর জহুরুল হক পুনো মুঠোফোনে জানান, আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্রে কমিটির বাইরে থেকে আকর্ষিকভাবে কাউকে দায়িত্বশীল কোন পদে কো-আপ করার বিধান নেই। শুধু মাত্র সদস্য পদেই কো-আপ করার বিধান রয়েছে। কাউকে সদস্য পদ ছাড়া অন্যকোন পদে কো-আপ করা হয় তা হবে আওয়ামীলীগের গঠন তন্ত্রের পরিপন্থি। যা হবে আওয়ামীলীগের জন্য অত্যান্ত লজ্জ্বাকর ও নিন্দনীয়।

 

একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে সম্প্রতি আব্দুস সালাম খান নামের একজনকে বাহির থেকে এনে যুগ্মসম্পাদক পদে কো-আপ করার চেষ্টা করছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এই নিয়ে ঈশ্বরদীতে আওয়ামীলীগের রাজনীতিকে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান পুনো।

 

 

ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র ইছাহক আলী মালিথা মুঠোফোনে জানান, আওয়ামীলীগের গঠন তন্ত্রে সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ন কোন পদে কো-আপ করার বিধান নেই। সদস্যপদে কো-আপ করার বিধান আছে। তবে তারজন্য উপজেলা কমিটি রেজুলেশনের মাধ্যমে জেলা কমিটিকে জানাতে হবে। জেলা কমিটি মিটিংয়ের মাধ্যমে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে শুধু মাত্র সদস্যপদে কো-আপ করবে। এটা না করা হলে সেটা আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকার্ন্ড হবে বলে মন্তব্য করেন মেয়র ইছাহক আলী মালিথা। একই সঙ্গে মেয়র আরো জানান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান মিন্টুকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে বলে একটি পক্ষ প্রচার করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে প্রচারটি ষড়যন্ত্রের বহিপ্রকাশ। কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের নিকট থেকে এরকম কোন চিঠি জেলা ও উপজেলা কমিটিসহ আমরা পায়নি।

 

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মকলেছুর রহমান মিন্টু জানান, দলের কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকার্ন্ড পরিচালনা করছে বলেও নিন্দা জানান মিন্টু।

 

পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স মুঠোফোনে জানান, আব্দুস সালাম খান নামের কেউ উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নেই। এমনকি এই নামে সদস্য পদেও নেই। কমিটির বাহির থেকে কাউকে সম্পাদকীয় পদে কো-আপ করার বিধান নেই। কখনো এই রকম পরিস্থিতি আসেনি। কারণ কাউন্সিলের মাধ্যমেই সাধারণত দায়িত্বশীল পদে আনা হয়।

 

সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স আরো জানান, ঈশ^রদীতে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বড় দলের মধ্যে গ্রæপিং থাকবেই। তবে বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সমঝোতার মাধ্যমে রাজনীতি করানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সামনে দলীয় কাউন্সিল। তাই কাউন্সিলের আগে কো-আপের মাধ্যমে পদে প্রবেশ করিয়ে দলের মধ্যে নতুন করে সমস্যা সৃষ্টি না হয় সেদিকে নজর রাখা হয়েছে।

বাংলা কথা/শেখ মেহেদী হাসান/২০২১

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com