বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:২১ পূর্বাহ্ন

নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ২টি প্রকল্প বাতিল

নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ২টি প্রকল্প বাতিল

অল নিউজ ডেস্ক :
নাটোরের লালপুরের ‘নর্থ বেঙ্গল চিনিকলে কো-জেনারেশন পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন। ও সুগার রিফাইনারি স্থাপন’ শিরোনামে প্রকল্প সাত বছর আগে অনুমোদিত হলেও মাঝপথে এসে বাতিল করে দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রকল্পের অন্য কোনো কাজ না হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১০ কোটি টাকা। এই অর্থ থেকে কেনা হয়েছে একটি জিপ, ৫টি ট্যাংকলরি এবং একটি ডাবল কেবিন পিকআপ।

চিনিকল সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতির কথা উল্লেখ করে এবং সারা বছর চিনি পরিশোধনের পরিকল্পনা তুলে ধরে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস লিমিটেডের (নবেসুমি) নামে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) একটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়।

 

প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) পাস হয়। প্রকল্পটি ৭৩ কোটি টাকা খরচে দুই বছরের মধ্যেই অর্থাৎ ২০১৬ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর ভারত ও চীন থেকে যন্ত্রপাতি আমদানির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়। ইউরোপ থেকে যন্ত্রপাতি আমদানি করতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরপর তিনবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেও সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি।

 

 

ইউরোপ থেকে যন্ত্রপাতি আমদানির কথা বলে প্রকল্পের ব্যয় ৭৩ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৩২৪ কোটি টাকায় উন্নীত করে ২০১৮ পর্যন্ত মেয়াদ বাড়িয়ে আবার একনেক সভায় অনুমোদন করা হয়। কিন্তু আরো দু’বার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেও সর্বনিম্ন দরদাতা ঠিক করতে পারেনি বিএসএফআইসি।

পাঁচবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেও যখন কোনো ঠিকাদার পাওয়া যায়নি, তখন বিএসএফআইসি তৃতীয় দফায় প্রকল্পের খরচ বাড়িয়ে ৩২৪ কোটি থেকে ৯২৭ কোটি টাকায় উন্নীত করে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়। এই প্রস্তাবে খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৬০৩ কোটি টাকা অর্থাৎ ১৮৫ শতাংশ। অস্বাভাবিক ব্যয় দেখে প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত রেখেই বাতিল করে দেয় পরিকল্পনা কমিশন। একই সঙ্গে নতুনভাবে বিস্তারিত সমীক্ষার ভিত্তিতে পুনরায় প্রকল্পটি তৈরির পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

 

নবেসুমির শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম কাওছার ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পিন্টু রবিবার (২৯ আগস্ট ২০২১) বলেন। কৃষক, শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থে মিলটিকে অবশ্যই লাভজনক করতে হবে। এ জন্য গৃহীত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন জরুরি।

মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কৃষিবিদ হুমায়ুন কবীর বলেন, নর্থ বেঙ্গল চিনিকলকে লাভজনক করতে ২০১৪ সালে প্রথম যখন প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। তখন প্রকল্পের ব্যয় সঠিকভাবে ধরা হয়নি। ভারত ও চীনের বাজারের ওপর ভিত্তি করে যন্ত্রপাতির দাম ধরা হয়েছিল। কিন্তু দরপত্র আহ্বান করা হয় ইউরোপের বাজার বিবেচনায়। নতুনভাবে সমীক্ষা করে প্রকল্পটি প্রণয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রকল্পের জন্য কেনা জিপটি এখন বিএসএফআইসির সদর দপ্তরে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর বাকি যানবাহনের মধ্যে ৩টি ট্যাংকলরি কেরু এন্ড কোম্পানী লিমিটেডের নিকট বিক্রি করা হয়েছে। দুইটি ট্যাংকলরি ও একটি ডাবল কেবিন পিকআপ নবেসুমি প্রকল্প এলাকায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

 

৫৮ নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, প্রকল্প ব্যয় বর্তমান বাজার দরের সাথে সামঞ্জস্য না হওয়ায় তা বাতিল হয়েছে। এই মিলের অবকাঠামো ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে লোকসান কাটিয়ে লাভজনক করতে হবে। নতুন করে প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com