বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দুর্গাপুরে খোলাবাজারে চাল আটা পেতে মারামারি

দুর্গাপুরে খোলাবাজারে চাল আটা পেতে মারামারি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহীর দুর্গাপুরে খোলাবাজারে চাল আটা পেতে মারামারি ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে দুর্গাপুর পৌর এলাকার শালঘরিয়া বদিরমোড়ে লাইন অতিক্রম করে আগে চাল আটা পেতে ক্রেতাদের মধ্যে মারামারি লাগে। পরে দায়িত্বরত ডিলার ও স্থানীয় লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করলে আবারও চাল আটা বিক্রি শুরু হয়।

 

জানা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খোলা বাজারে বিক্রির ওএমএস’র চাল-আটা পেতে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ভিড় বেড়েছে আগের তুলনায় দ্বিগুণ। বাজারে চাল আটার দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন খোলাবাজারে ধনীরাও এই চাল আটা কিনতে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। এ কারণে বিতরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে ডিলারদের। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও চাল আটা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই। ডিলাররা বলছেন, বরাদ্দের চেয়ে চাহিদা অনেক বেশি। তাই বিক্রির শুরুতে কিছুক্ষণের মধ্যেই চাল আটা শেষ হয়ে যাচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খোলাবাজারে বিক্রির ওএমএস’র চাল-আটা পেতে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে হাহাকার। এরমধ্যেও লাইনে ধনীরাও অপেক্ষা করছেন। রোদ উপেক্ষা করে বিভিন্ন মোড়ের সামনের লাইনে শিশু কিশোর নারী ও বৃদ্ধ মানুষের দীর্ঘ লাইন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও স্বল্প মূল্যে চাল ও আটা কিনতে না পেরে তাদের অনেককেই ফিরতে হচ্ছে শূন্য হাতে। দীর্ঘ লাইনের কারণে কয়েকদিন অপেক্ষা করেও পণ্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে অনেক ক্রেতার। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন ডিলাররা।

 

ইউওএনও অফিস সূত্রে জানা যায়, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় দুর্গাপুর পৌরসভার তিনটি পয়েন্টে (ওএমএস) স্বল্প মূল্যে চাল ও আটা বিক্রি শুরু হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, শালঘরিয়া বদির মোড়, সিংগাবাজার ও দুর্গাপুর সদর বাজার। প্রতিটি ডিলারকে প্রতিদিন ১৫০০কেজি চাল ও ১ হাজার কেজি আটা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। ডিলারদের কাছে থেকে প্রত্যেক ব্যক্তি ৫কেজি চাল ও ৫কেজি আটা ক্রয় করতে পারবেন। চাল ৩০ ও আটা ১৮টাকা কেজি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

বাজার ঘুরে জানা গেছে, হঠাৎ চালের দাম ২-৩ টাকা কেজি প্রতি বেড়েছে। বর্তমান বাজারে ৫৫ থেকে ৬০টাকায় বিক্রি হচ্ছে চিকন চাল। মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৮টাকা কেজিতে। ফলে বাজারে চাল ও আটার এমন দামে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। যে কারণে খোলাবাজারে ৩০ টাকা কেজিতে চাল ও ১৮ টাকা কেজিতে আটা কিনতে তারা ওএমএস’র দিকে ছুটছেন। অনেকেই চাল ও আটা বিক্রি শুরু হওয়ার আগেই এসে অপেক্ষা করছেন।

 

শালঘরিয়া গ্রামের ট্রলি চালক আমেজ উদ্দিন বলেন, খোলাবাজারে নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বলা হলেও সব শ্রেণির মানুষ চাল আটা পেতে চায়। এমনকি ইউনিয়নের লোকজনও চাল আটা পেতে পৌরসভায় ভিড় করছেন। তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ খুবই কম। একারণে প্রতিদিন চাল আটা পেতে মানুষের মধ্যে হট্টগোল বাধে।

 

তিত্তরকুড়ি গ্রামের সোখিনা বেগম বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে বেলা ১২টার দিকে চাল পেয়েছেন। গত দিন আসতে দেরি হওয়ায় তিনি চাল পাননি। স্বামী কাজে যায়, তিনি নিয়মিত খোলাবাজার ওএমএস চাল পেতে যুদ্ধ করেন। তিনি বলেন, চাল আটার মান ভাল হওয়ায় চাল আটা কিনতে ধনীরাও ভিড় করে। এ কারণে সবাই লড়াই করে চাল আটা কিনতে হয়।
ভ্যানচালক কামাল হোসেন বলেন, লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। শেষ পর্যন্ত চাল পাবো কিনা জানি না। বাজারে চালের দাম বাড়ায় খোলাবাজারে চাল আটাই ভরসা।

 

শালঘরিয়ার ডিলার বজলুর রহমান বলেন, গতকাল মঙ্গলবার সকালে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে ভিড়ের মধ্যে একটু ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। তবে এটা সামান্য ব্যাপার বড় ধরনের কিছু না। পরে পরিস্থিতি শান্ত করে আবারও পণ্য বিক্রি শুরু হয়। তিনি আরও বলেন, খোলাবাজারে কম দামের চাল ও আটার মান খুবই ভাল। এ কারণে সব শ্রেণির লোকজন ভিড় করে। তবে আমরা গরিব মানুষকে চাল আটা বিক্রি করছি। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন ১৫০০ কেজি চাল ও ৯৬০ কেজি আটা বরাদ্দ পাচ্ছি। কিন্তু বরাদ্দের চেয়ে চাহিদা অনেক বেশি।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com