সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন

শিবগঞ্জে বাড়ছে সাপের উপদ্রব: নেই অ্যান্টিভেনম কমপ্লেক্সে

শিবগঞ্জে বাড়ছে সাপের উপদ্রব: নেই অ্যান্টিভেনম কমপ্লেক্সে

মোহাঃ সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি :
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা নদীর তীরে বাড়ছে বিষধর সাপের উপদ্রব। এসবের মধ্যে রয়েছে বিষধর রাসেল ভাইপারও। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। ঘরে ও উঠান থেকে শুরু করে সড়কেও দেখা যায় নানান প্রজাতির বিষধর সাপ। বাড়ির আঙিনা ও আশপাশে বিষধর সাপের আনাগোনা হওয়া সাপের কামড়ে হতাহতের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। অবাধে বিচরণ করতে দেখা যায় এসব সাপের।সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত অনেকেই মৃত্যুর মুখে পতিত হন অনেক।
সাপের দংশনে রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অত্যন্ত জরুরি।অথচ শিবগঞ্জ উপজেলায় সাপে কাটা রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দংশিত রোগীর জন্য নেই অ্যান্টিভেনাম। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ জানিয়েছেন।জানা যায়, সাপে কাটা রোগী শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বিভাগীয় কিংবা জেলা শহরে পাঠানো হয়। এ অবস্থায় সময়ক্ষেপণের কারণে অনেক সময় রোগী পথিমধ্যে মারা যান। আবার কবিরাজ ওঝার শরণাপন্ন হয়ে অনেকে অপচিকিৎসার শিকার হন। ধারণা করা হচ্ছে, ভারত থেকে পদ্মায় ভেসে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এসব সাপ।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন বাড়ির উঠান বা মাছ ধরার জালে ধরা পড়ছে নাম না জানা সাপ সহ বিষধর রাসেল ভাইপার। পদ্মা তীরবর্তী এলাকার তোফিকুর রহমান বলেন, বর্ষাকালে এই অঞ্চলে সাপের উপদ্রব বাড়ে। সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা থাকার পরও প্রয়োজনীয় ঔষধ শিবগঞ্জে না থাকায় আমরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। মো. সোহেল নামের আরেক যুবক বলেন, উপজেলা পর্যায়ে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা না থাকা অকল্পনীয়। প্রশাসনের সঠিক নজরদারি না থাকায় সাপে কাটা রোগীরা সঠিক চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না।এদিকে, শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ আব্দুল মজিদ
জানান, সব সাপ বিষধর নয়। আগে সবাইকে সাপের কাটার বিষয়টি নিশ্চিত ও কোন সাপে কেটেছে তা শনাক্ত করতে হবে। সাপের কাটা স্থানটি ভালো ভাবে পরিস্কার করে নিতে হবে এবং হালকা কিছু দিয়ে বেঁধে রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা অনেকে কিছু না কিছু ভুল করি যা আমাদের করা মোটেও ঠিক নয়, এই ভূলের জন্য অধিকাংশ সাপে কাটা রোগী মারা যান। আমাদের এই ভূল থেকে বিতর থাকতে হবে। এছাড়া সাপে কাটার স্থানের উপরে আমরা যে বাঁধন দেই তাই দেয়া সঠিক নয়। এই বাঁধনের কারণে রক্ত চলাচল বিঘ্নিত হয়। তাই সাপে কাটলে আতকিংত না হয়ে এবং কবিরাজের কাছে শরণাপন্ন হয়ে না হয়ে যত দ্রুত সম্ভব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসতে হবে। এতে রোগী বেঁচে যাওবার সম্ভাবনা বেশি।
শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েরা খান বলেন, এখানে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার ঔষুধ নেই। এছাড়া সাপে কাটা রোগীর চকিৎসা দেওয়ার মতো তেমন কোনো সরঞ্জামও নেই। এ কারণে হাসপাতালে সাপে কাটা রোগী আসলে বিভাগীয় কিংবা জেলা শহরে হস্তান্তরের পরামর্শ দেয়া হয়। অ্যান্টিভেনম বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com