বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৩০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সাপাহারে আমের শেষ, মাল্টার বাজার শুরু

সাপাহারে আমের শেষ, মাল্টার বাজার শুরু

স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ:

আমের বানিজ্যিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত নওগাঁর সাপাহারে লেট ভ্যারাইটি আম আশ্বিনা ও গৌড়মতি বিক্রির মধ্যে দিয়ে প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে আমের মৌসুম। এরই মধ্যে বাজার দখল করে বসেছে লেবুজাতীয় ফল “মাল্টা”। এই অঞ্চলে অন্যান্য ফসলের ন্যায় মাল্টা চাষে ব্যাপক ভাবে কৃষকগন ঝুঁকে পড়েছে।

 

বানিজ্যিক ভাবে মাল্টা উৎপাদন ও বাজারজাত করে দাম ভাল পাওয়ায় মাল্টাচাষীরা বেশ খুশী। বরেন্দ্র ভূমি হিসেবে খ্যাত এই উপজেলার মাটির গুনাগুণ ভাল হবার ফলে সব ধরণের ফসল চাষ হয়। যার একটি অংশ দখল করেছে মাল্টা। মাল্টার বাজার মূল্য ও উৎপাদনের হার ভাল থাকায় এই অঞ্চলের কৃষকরা মাল্টা চাষে বেশ আগ্রহ প্রকাশ করছেন। বর্তমানে মাল্টা চাষ অনেকটাই বিস্তৃত হয়েছে এই এলাকায়। প্রাথমিক অবস্থায় স্বল্প খরচে মাল্টা চাষ করে লাভবান হবার ফলে এই ফল চাষে কৃষকদের আগ্রহের যেন সীমা নেই। এছাড়াও মাল্টা চাষ ও উৎপাদনের দিকে লক্ষ্য রেখে বাজারের ফল আড়ৎগুলো বানিজ্যিক ভাবে মাল্টা ক্রয় বিক্রয় করছে।

 

ফলের আড়তে সহজে মাল্টা ক্রয় বিক্রয় করতে পারায় মাল্টা চাষে চাষীদের আগ্রহ আরো বেড়ে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় প্রাথমিক অবস্থায় অনেক কৃষক পরীক্ষামূলক ভাবে মাল্টা চাষ করছেন। মাল্টার ফলন ও মাটির গুনে মাল্টা চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন এলাকার চাষীরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাল্টা মৌসুম গত ভাবে একবার উৎপাদন হয়। কিন্তু কিছু জাতের মাল্টা বছরে দুই বার পর্যন্ত উৎপাদন হচ্ছে । মাল্টা হারভেস্টের উত্তম সময় হচ্ছে সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস। তবে কিছু অগ্রীম জাতের মাল্টা আগষ্ট-সেপ্টেম্বরেও হারভেস্ট করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানান মাল্টা চাষীরা। মাল্টা চাষী মাহফিজুর রহমান বলেন, “আমি পরীক্ষামূলক ভাবে ৩শ’টি মাল্টা গাছ লাগিয়েছিলাম।

 

বর্তমানে প্রতিটি গাছ প্রাপ্ত বয়স্ক হবার ফলে ভালো ফলন হচ্ছে। আমার বাগানে দুই জাতের মাল্টা চাষ করছি। বারি-১ ও বারি-৩ জাতের মাল্টা আমার বাগানে রয়েছে। তবে ফলনের দিক থেকে বারি-১ জাতের মাল্টা অনেকটা ভাল। প্রথমে যখন মাল্টা চাষ করি, তখন বাজারজাতের জন্য অনেকটাই সমস্যা মনে হত। কিন্তু বর্তমানে আড়ৎদার গণ মাল্টা কেনার ফলে আমরা মাল্টা বাজারজাত করণে অনেকটা সুবিধা পাচ্ছি”। অনেক মাল্টা চাষী বলছেন, আমের মৌসুমে যেমন বাইরে থেকে ব্যাপারীগণ আসে ঠিক তেমনি ভাবে যদি মাল্টা ক্রয়ের জন্য বাইরে থেকে ব্যাপারী আসতো তাহলে আমরা আরো বেশি লাভবান হতে পারতাম। মাল্টার আড়ৎদার ফরিদুল ইসলাম জানান, বর্তমান বাজার অনুযায়ী প্রতিমণ মাল্টা ২৬/২৮শ’ টাকায় কেনা হচ্ছে। আমি এসব মাল্টা ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন ফলের মোকামে পাঠাই। যাতে করে একদিকে যেমন এটি একটি লাভজনক ব্যবসা ।অপরদিকে কৃষকেরাও সহজেই বিক্রয় করতে পারছেন নিজ জমিতে উৎপাদিত মাল্টা।

 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান জানান, চলতি বছরে এ উপজেলায় লেবু জাতীয় ফলের চাষ হয়েছে ৯৭ হেক্টর জমিতে । তার মধ্যে মাল্টা চাষ হয়েছে ৮০ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০/১২ মেট্রিক টন। এছাড়াও মাল্টা চাষীদের উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে সার্বিক ভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। যদি বানিজ্যিক ভাবে মাল্টা বাজারজাত করণের সুবিধা আরো বিস্তৃত করা হয় তাহলে এই অঞ্চলে মাল্টা চাষ ব্যাপক ভাবে বাড়বে বলে ধারণা করছেন এলাকার মাল্টাচাষীরা।

 

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com