মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০৪ অপরাহ্ন

নাচোলে সার বিক্রিতে নৈরাজ্য! 

নাচোলে সার বিক্রিতে নৈরাজ্য! 

 নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে সার মনিটরিং কমিটির নিষ্ক্রিয়তায় ভর্তুকির সার বিক্রিতে চরম নৈরাজ্য চলছে। নিদৃষ্ট সময়ের মধ্যে বরাদ্ধ কৃত সার ডিলারা উত্তোলণ না করে সিন্ডিকেট তৈরি করে চওড়া দামে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছে অবাধে। সরকার কৃষি উন্নয়নে কৃষকদের জন্য সারে প্রতি বছর ভুর্তুকি দিলেও সার ডিলারদের কারসাজির কারনে কৃষকরা সেই সুফল পাচ্ছেন না।

বিসিআইসি সার ডিলার, খুচরা কারবারি, ও কৃষি বিভাগের একশ্রেণীর কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব সার বিক্রিতে নৈরাজ্য হচ্ছে বলে কৃষকদের দাবি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,এমওপির ৫০ কেজির সারের সরকারি মূল্য ৭৫০ টাকা হলেও কৃষক কিনছেন ৮০০ থেকে ৮২০টাকা পর্যন্ত।

গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলার খেসবা গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম, বিসিআইসি ডিলার মেসার্স নৈমুউদ্দিন বিশ্বাসের দোকান হতে এক বস্তা এমওপি সার ক্রয় করে ৭৮০ টাকা দিয়ে। কৃষক রবিউল ইসলাম জানান,বস্তা প্রতি ৩০ টাকা বেশি দিয়ে এমওপি এক বস্তা সার আমাদের কিনতে হচ্ছে। আবার কোন কোন সার ডিলারদের কাছে এমওপি সার কিনতে গেলে ডিলাররা বলেন সার শেষ হয়ে গেছে। সরকার যেখানে সারে প্রতি বছর ভুর্তুকি দিচ্ছে সেখানে আমরা চওড়া দামে সার কিনে কি সুফল পাচ্ছি!

কসবা ইউপির খড়িবাড়ি এলাকার কৃষক সৈবুর রহমান বলেন,আমি গত বুধবার বিসিআইসি ডিলার মেসার্স নৈমুউদ্দিন বিশ্বাসের দোকান হতে তিন বস্তা এমওপি সার ক্রয় করি ৭৯০ টাকা দিয়ে। যা বস্তা প্রতি ৪০টাকা বেশি।

গত সোমবার সকালে বিসিআইসি ডিলার মেসার্স নৈমুউদ্দিন বিশ্বাসের দোকান হতে ৫ বস্তা এমওপি সার ক্রয় করে ৭৮০ টাকা দিয়ে কসবা ইউপির খড়িবাড়ি এলাকার খুচরা সার বিক্রেতা বাবুর কর্মচারী।  এ সার নাচোল হতে খড়িবাড়ির খুচরা সার বিক্রেতা বাবুর দোকান পর্যন্ত নিয়ে যেতে  বস্তা প্রতি খরচ পড়ে ১০ টাকা।খুচরা সার বিক্রেতা বাবু এই সার আবার কৃষকদের কাছে বিক্রি করে বস্তা প্রতি ৮১০-৮২০টাকা পর্যন্ত। প্রত্যান্ত অঞ্চলের কৃষককে আবার  বস্তা প্রতি ৬০-৮০টাকা বেশি দিয়ে সার ক্রয় করতে হয়। এভাবে বিসিআইসি ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কবলে পড়ে অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে সার ক্রয় করতে হচ্ছে কৃষকদের।

একই চিত্র রয়েছে উপজেলার হাটরাজবাড়ি, ভোলামোড়, ধানসুড়া, হাটবাকইল, মল্লিকপুর বাজারে।

হাট রাজবাড়ি এলাকার কৃষক এনামুল হক বলেন,গত কয়েকদিন থেকে এমওপি সার নেয়ার জন্য ডিলারের কাছে ঘুরছি,কিন্তু সার পাচ্ছি না। ভরা মৌসুমে যদি সার না পায় তাহলে পরে সার নিয়ে কি করবো।

 

 

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে,নাচোল উপজেলার হাটরাজবাড়ি এলাকার বিসিআইসি ও বিএডিসি সার ডিলার রবিউল ইসলাম এবং পৌর এলাকার সেরাজুল ইসলাম গত ৩১ আগষ্ট সেপ্টেম্বর মাসের জন্য এমওপি সার বরাদ্ধ পেলেও এখন পর্যন্ত সার উত্তোলণ করেন নি। এমপিও সারের সংকট থাকার সত্তেও এসব ডিলাররা বরাদ্ধ পাওয়ার পর ও সার উত্তোলণ না করে বাজারে সারের সংকট তৈরি করে সারের দাম বৃদ্ধিতে সিন্ডিকেট তৈরি করছে বলে কৃষকদের দাবি।

 

 

উপজেলার এক সার ডিলার জানায়, সার বিতরণ নীতিমালা-২০০৯ অনুযায়ী এক জেলার জন্য বরাদ্দ সার অন্য জেলা, অঞ্চল বা উপজেলা এলাকায় চালান ও বিক্রি নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ডিলারকে বরাদ্দ সার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তোলন করতে হয়। সার উত্তোলণের পর উপজেলা মনিটরিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা সদস্য সচিব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পৃথক অথবা যৌথভাবে ডিলারের দোকান পরিদর্শন করে সার উত্তোলন ও সংরক্ষণের কাগজপত্র নিশ্চিত হবেন।

 

 

অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ,বিসিআইসি ও বিএডিসির একশ্রেণীর ডিলার বরাদ্দকৃত সার না তুলে নওয়াপাড়া, নগরবাড়ী, রাজশাহী, সান্তাহার, রোহনপুর বাফারে বরাদ্দপত্র বিক্রি করে দিচ্ছে।এতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মজুদদারদের কাছে এসব সার চলে যাচ্ছে। পরে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে মজুদদাররা চড়া দামে এসব সার বিক্রি করছে। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষক কিনছেন চড়া দামে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগের নজরদারির অভাব ও একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর নেপথ্যে সার সিন্ডিকেটের মদদে এসব সারের দাম বাড়িয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলে ভুক্তভোগিদের দাবি।

 

 

এ বিষয়ে নাচোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহম্মেদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমাদের জেলা প্রশাসক মহোদয় এর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে,কোন ব্যবসায়ী সারের দাম বেশি নিলে বা মজুদ করলে তা প্রমানিত হলে ঔ ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করতে। সারের দাম বৃদ্ধির কোন সুযোগ নেই। কোন ডিলার সরকারি মূল্যের চাইতে বেশি দিয়ে সার বিক্রয় করলে,কৃষক তা আমাদের অবহিত করলে ঔ ডিলারের বিরুদ্ধে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো বলে জানান।

 

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com