বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন

দুর্গাপুরের বখতিয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে পেটালেন সহকারী শিক্ষকরা

দুর্গাপুরের বখতিয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে পেটালেন সহকারী শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বখতিয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে পিটিয়েছে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। এ ঘটনার পর বিদ্যালয়ের ছাত্রদের সহযোগিতায় হামলকারী শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের মধ্যেই আটকে রাখা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়া ছাত্রদেরকেও পেটানো হয়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ আটকে থাকা শিক্ষকদের উদ্ধার করে। এ নিয়ে দিনভর চাপা উত্তেজনা দেখা দেয় বখতিয়ারপুর এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ১১টার দিকে।

 

জানা গেছে, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন ও অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে গত কয়েকদিন থেকে বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ চলছিলো। ওই জের ধরে শনিবার সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে আলোচনায় বসেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মকছেদ আলী, কাজেম আলী, রফিকুল ইসলাম ও রেহেনা খাতুন। আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীনকে এলোপাতাড়ি মারপিট করতে থাকে সহকারী শিক্ষকরা। এ সময় প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীন ছাত্রদের সহযোগিতায় হামলাকারী শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের মধ্যেই আটকে রাখেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে ছাত্ররা। এরপর আটকে পড়া শিক্ষকদের মধ্যে থেকে রেহেনা খাতুন আটকে রাখার বিষয়টি মোবাইল ফোনে তার দেবর রুবেলকে জানান। রুবেল এসে বিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের মারপিট শুরু করেন। এতে এসএসসি পরীক্ষার্থী অন্তর ও উজ্বল নামের দুই শিক্ষার্থী আহত হন।

 

এদিকে, এ ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীন মোবাইল ফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান। এরপর পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আটকে পড়া শিক্ষকদের উদ্ধার করেন।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীন জানান, বিদ্যালয়ে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনের জন্য ১৭টি কম্পিউটার ও অবকাঠামোগত কাজের জন্য ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে নাম না থাকায় সহকারী শিক্ষক মকছেদ আলী, রফিকুল ইসলাম, কাজেম আলী ও রেহেনা খাতুন আকস্মিক তার কক্ষে প্রবেশ করে এবং কোনো কথা ছাড়াই তাকে মারধোর করতে থাকেন। এ সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকা ছাত্ররা তাকে উদ্ধার করে হামলাকারী শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের মধ্যেই আটকে রেখে বাইরে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়া ছাত্রদেরকেও পেটানো হয়েছে। ঘটনাটি ইউএনও এবং থানার ওসিকে জানানো হয়েছে বলেও জানান প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীন।

 

তবে অভিযুক্ত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক কাজেম আলী প্রধান শিক্ষককে মারধোরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কমিটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ছাত্রদের উত্তেজিত করে তাদের আটকে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

 

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসমত আলী জানান, বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে এবং কয়েকজন শিক্ষককে আটকে রাখা হয়েছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। এ সময় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের উদ্ধার করে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। উভয় পক্ষ থেকেই লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন দেখছেন বলেও জানান ওসি।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com