শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:২২ অপরাহ্ন

প্রভাবশালীদের বাধায় বাঘায় খাল খনন প্রকল্পের কাজ বন্ধ

প্রভাবশালীদের বাধায় বাঘায় খাল খনন প্রকল্পের কাজ বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহীর বাঘায় কতিপয় প্রভাবশালীর বাধার মুখে প্রায় আড়াই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের খাল খনন প্রকল্পের কাজ। দুই কোটি টাকার এই খাল খনন প্রকল্পের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী আদালতে মামলা করায় মুখ থুবড়ে পড়েছে এই প্রকল্পটি। ফলে ৬টি বিলের প্রায় দুই হাজার বিঘা জমিতে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে ক্ষেতের ফসল। স্থানীয় লোকজন দুঃখ করে বলেন, যারা এক সময় এসব বিলে ধান চাষাবাদ করে বিক্রি করতো, এখন তারা চাল কিনে ভাত খায়।

 

ভুক্তভোগীরা জানান, এই খালের খনন কাজ সম্পন্ন করার দাবিতে কৃষকরা ইতোমধ্যে মানববন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার মশিদপুর পদ্মা নদীর মুখে রয়েছে একটি সুইজ গেট। সেখান থেকে সরকারিভাবে ক্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে এক সময় উপজেলার ৬টি বিল-হিজোল পল্লী, আরিফপুর, বাজিতপুর, নওটিকা, তেপুখুরিয়া ও বারখাদিয়ায় পানি প্রবেশ করানো হতো। এর ফলে উপকৃত হতেন কৃষকরা। অনেকেই এই খালটির নামকরণ করেছিলেন চন্দনা নদী। পরবর্তীতে কতিপয় প্রভাবশালী ক্যানেলের কয়েকটি স্থানে মাটির বেড়া দিয়ে মাছ চাষসহ বিলের মধ্যে পুকুর খনন শুরু করেন। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষক।

 

এ নিয়ে এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিশেষ তদবিরে আড়াই বছর আগে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দুই কোটি টাকা ব্যয়ে পুরনো ওই ক্যানেলটি সংস্কারের কাজ শুরু করেন। এর ফলে শত-শত কৃষক স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেও কতিপয় প্রভাবশালী আবারও সেখানে বাধার সৃষ্টি করে এবং খাল খননের মধ্যে তাদের জমি চলে যাওয়ার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দেন।

 

মামলার বাদি তমেজ উদ্দিন, মোজাহার হোসেন, আবুল কাশেম ও রবিউল ইসলাম বলেন, আমাদের রের্কডকৃত দখলীয় সম্পত্তির উপর প্রায় ৩৫ বছর আগে খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় আমাদের সম্পত্তির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানোর পর সরকার খাল খনন বন্ধ রাখে। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে এসে স্থানীয় এমপির সুপারিশে প্রকল্পটি আবার চালু হয়। জমি রক্ষা করতে আমরা পৃথকভাবে আদালতে ৪টি মামলা দায়ের করি।

 

অপরদিকে প্রকল্পের স্থানীয় রক্ষনাবেক্ষনকারি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ দপ্তর সম্পাদক কৃষিবিদ মহিউল হাসান টিনি বলেন, যারা রেকর্ড বলে মামলা করেছেন তারা ১৯৭৪ সালের রেকর্ডে অংশিদার হয়েছেন সত্য। তবে ১৯২২ এবং ১৯৬২ সালে এটি খাস খতিয়ানভুক্ত ক্যানেল ও ডোবা-নালা হিসাবে চিহ্নিত।

 

তিনি বলেন, শুকনো মৌসুমে বিলে পানি রাখা এবং বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি নিস্কাশনের জন্য স্থানীয় এমপির সুপারিশক্রমে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকল্প অনুমোদন নিয়ে এর ৮০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। পরবর্তীতে কতিপয় প্রভাবশালী ওই ডোবা ধানী জমি দাবি করে আদালতে মামলা দেওয়ায় প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ৬ টি বিলের প্রায় দুই হাজার বিঘা জমিতে কৃষকরা কোন ফসল ফলাতে পারছেন না।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, এই এলাকায় নদীর সাথে বিলকে সম্পৃক্ত করে আড়াই বছর আগে সরকারিভাবে খাল খনন শুরু করা হয়েছিল। মোট ৮ কিলোমিটারের মধ্যে ৬ কিলোমিটার খাল খননের কাজ শেষ হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় কিছু মানুষ আদালতে মামলা করায় প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তবে জনস্বার্থে এই খাল খনন প্রকল্পের কাজ শেষ করা খুবই জরুরী।

 

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাভলু বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কৃষকদের কিঞ্চিত ক্ষতিপূরণ দিয়ে খাল খনন প্রকল্পের বাকি কাজ সম্পন্ন করলে বিলের পানি নিস্কাশিত হবে এবং পানির নিচে আর কখনোই ধান তলিয়ে যাবে না।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com