বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন

আনারসের ভারে নুয়ে পড়েছে নৌকা ! দুই ইউপিতে আপন চাচা-ভাতিজা প্রার্থী

আনারসের ভারে নুয়ে পড়েছে নৌকা ! দুই ইউপিতে আপন চাচা-ভাতিজা প্রার্থী

অল নিউজ ডেস্ক :

আগামী ১১ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) পাবনার সুজানগর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্টিত হবে। প্রতিটি ইউনিয়নেই স্থানীয় আওয়ামীলীগের মনোপুত প্রার্থী না হওয়ার অনেক চেষ্টা করেও কর্মীদের নৌকার প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামানো যায়নি। তবে বহিষ্কারের ভয়ে পদধারী নেতারা প্রকাশ্যে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলেও ভিতরে ভিতরে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর আনারসের ভারে নুয়ে পড়েছে দলীয় প্রতিক নৌকা। এই কারণেই নির্বাচনের প্রচারণার শেষ মহুর্তে দেখা দিয়েছে তীব্র উত্তেজনা, হামলা, অগ্নি সংযোগ, গুলি বর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপের মতো ঘটনা। হামলায় শিকার হয়েছে দলীয় নৌকা প্রতিকের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থীর আনারস প্রতিকের সমর্থক, কর্মী। ভাংচুর করা হয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রচার অফিস। গুলিবিদ্ধ হয়ে এবং লাঠির আঘাতে আহত হয়েছেন অন্তত উভয় পক্ষের ২৫ কর্মী ও সমর্থকরা। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের এখনো ভয় দুটো ভয় নৌকা প্রতিকের পক্ষে বিদ্রোহীদের উপর বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হামলা এবং পুলিশী হয়রানি। এই দুটো বিষয় না ঘটলে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের সুনিশ্চিত বিজয় হবে। সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন মাধ্যমের নিকট এসব দাবী করেছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। গত সোমবার সুজানগর উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে ঘুরে ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ সুত্রে জানা যায়, অনেকেই নানা সময় বিতর্কিত কাজ ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। কেন্দ্র থেকে তারাই আবার চেয়ারম্যান পদে দলীয় নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন পেয়েছেন। দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতারা দলের নিকট থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেও বঞ্চিত হয়েছেন। এই কারণে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের চাপে প্রতিটি ইউনিয়নই থেকেই বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে। এমনকি উপজেলার দুই ইউনিয়নে এবার আপন চাচা ও ভাতিজা পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এরমধ্যে দুলাই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি সিরাজুল ইসলাম শাজাহান। এবারও তিনি নৌকা প্রতিক নিয়ে প্রার্থী হয়েছে। চেয়ারম্যানের বিপক্ষে আনারস প্রতিক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সাইদ। সম্পর্কে তাঁরা আপন চাচা ও ভাতিজা।

 

 

আহমদপুর ইউনিয়নেও চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বি তা করছেন আপন চাচা ও ভাতিজা। চাচা বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ হয়েছেন দলীয় নৌকা প্রতিকে প্রার্থী। আর ভাতিজা হিরা মিয়া আনারস প্রতিক নিয়ে হয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী।

 

সুজানগরের বনখোলা বাজারে সংবাদ সম্মেলনে মানিকহাটা ইউনিয়নে আনারস প্রতিকে বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্বাস আলী মল্লিক অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনে তাঁর নিশ্চিত জয় আর নৌকা প্রার্থীর পরাজয় হবে। এই কারণে গত রবিবার রাতে নৌকার প্রার্থী শফিউল ইসলাম শফি’র পক্ষে কেন্দ্রিয় আওয়ামীলীগ নেতা কামরুজ্জামান উজ্জলের নেতৃত্বে শতাধিক মোটর সাইকেল ও ৭/৮ টি হাইচ মাইক্রোবাস যোগে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এসে তাঁর নির্বাচনী প্রচার অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। নেতাকর্মীদের উপর গুলি বর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপ করেছে। এতে তার পক্ষের ১৫ জন কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে, বোমার ও লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ আহত মোতালেব খা বর্তমানে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া সাগর খান, আলম মন্ডলসহ অন্যান্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা গ্রহন করেছে। এব্যাপারে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবী করেন আব্বাস মল্লিক।

 

 

দুলাই ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী সাইদুর রহমান সাইদ জানান, তাঁরা আওয়ামী রাজনৈতিক পরিবার। তাঁর চাচা বর্তমান চেয়ারম্যান নানা রকম দূর্নীতির যুক্ত হয়ে পারিবারিকভাবে আমাদের লজ্জ্বিত করেছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করেছেন। বর্তমানে নেতাকর্মী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। এই কারণে তিনি নেতাকর্মীদের দাবী ও সমর্থনেই বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। বিজয় তার সুনিশ্চিত। এই কারণে বহিরাগত ও চরমপন্থি সশস্ত্র সন্ত্রাসী এনে ইউনিয়নে ত্রাসের সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও চাচার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন এই প্রার্থী।

 

 

নৌকা প্রতিকের বর্তমান সিরাজুল ইসলাম শাহজাহান জানান, মনোনয়ন না পেয়ে সাইদুর রহমান দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে। নির্বাচনের আগে থেকেই সাইদ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে। নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে বিদ্রোহী প্রার্থী ভাতিজা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে বলেও দাবী করেছেন চাচা।

 

আহমদপুর ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী হিরা মিয়া জানান, নৌকার প্রার্থী তার চাচা কামাল আহমেদ বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তার প্রচার কাজে বাধা দেওয়াচ্ছেন। নেতাকর্মী সবাই তার সঙ্গে এই জন্য বিজয় তারই হবে বলেও দাবী এই প্রার্থীর।
এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কামাল আহমেদ অভিযোগ করে জানান, তার ভাতিজা বিদ্রোহী প্রার্থী হিরা মিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।

 

 

এদিকে, ভোটের আগে ইউনিয়নগুলোতে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। বনখোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা, গুলি ও বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আওয়ামীলীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর, গোলাগুলি ও হামলা পাল্টা হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আর প্রচার প্রচারণার শেষ দিকে সহিংসতা আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সাগরকান্দি, মানিকহাট, সাতবাড়িয়া, হাটখালি, ভায়না ইউনিয়নে।

 

 

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, প্রতিটি সংঘর্ষের ঘটনাতেই পক্ষগুলো পরস্পরকে দোষারোপ করছে। পুলিশ তদন্ত করে দেখছি। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বহিরাগত সন্ত্রাসীদের বিষয়েও অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

পাবনা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ মহিবুল ইসলাম খান জানান, সুষ্টু পরিবেশে নিরপেক্ষভাবে ভোট গ্রহন ও প্রদানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠরতা পালন করা হবে। ভোটের মাঠে কোন রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com