বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন

পাবনার বেড়া পৌরনির্বাচন : সাংসদ টুকুপুত্র মেয়র নয় জামানত রক্ষার্থে জামায়াতের সমর্থন চেয়েছেন!

পাবনার বেড়া পৌরনির্বাচন : সাংসদ টুকুপুত্র মেয়র নয় জামানত রক্ষার্থে জামায়াতের সমর্থন চেয়েছেন!

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি :
দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারগণ চাচা আব্দুল বাতেনের সঙ্গে। ভাতিজা আসিফ শামস রঞ্জন সঙ্গে পুলিশ থাকতে পারে। কোন মতেই দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের নিজের পক্ষে টানতে পারছেন না। তাই বিজয় কোন মতেই সম্ভব নয়। এই কারণে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার জন্য নয়, জামানত রক্ষার্থে জামায়াত ইসলামের নিকট ভোট প্রার্থনা করেছেন। এটা বেড়া আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে অশনি সংকেত। নীতি নৈতিকতার দিক থেকে আওয়ামীলীগের জন্য চরম লজ্জার। এমন মন্তব্য বেড়া আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের। মঙ্গলবার সকালে বেড়া জামায়াত ইসলামের আমির ডা. আব্দুল বাসেদের কার্যালয়ে গিয়ে টুকু পুত্র রঞ্জন ভোট প্রার্থনা করে নৌকার পক্ষে কাজ করার অনুরোধ করেন। এই ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয় আওয়ামীলীগসহ কেন্দ্রেীয় আওয়ামীলীগের নেতারাও জানিয়েছেন নিন্দা ও ধিক্কা। চারিদিকে চলছে শুধু তীব্র সমালোচনা। এমন সমালোচনা ও নিন্দার সৃষ্টি করেছেন পাবনার বেড়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকের মেয়র প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শামসুল হক টুকুর ছেলে আসিফ শাসস রঞ্জন।

 

বেড়া আওয়ামীলীগ ও পাবনা জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, বেড়া পৌর মেয়র পদে আওয়ামীলীগের প্রার্থী নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য আসিফ শামস রঞ্জন। বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর আপন ছোট ভাই বর্তমান পৌর মেয়র আব্দুল বাতেন, টুকুর বড় ভাইয়ের মেয়ে (ভাতিজি) এসএম সাদিয়া আলম, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ডা. আব্দুল আওয়াল, কে এম আব্দুল্লাহ ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এ এইচ এম ফজলুর রহমান মাসুদ।

 

স্থানীয় আওয়ামীলীগ সুত্র মতে, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এমপি’র পুত্র ও আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আসিফ শামস রঞ্জন মঙ্গলবার বেড়া পৌর এলাকায় উপজেলা জামায়াতের আমীর ডা. আব্দুল বাসেদের সাথে দেখা করে নির্বাচনে জামায়াতের সহযোগিতা ও সমর্থন চান তিনি। আওয়ামীলীগ প্রার্থী আনুষ্ঠানিক ভাবে জামায়াতের সমর্থন চাওয়ায় জেলাজুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

 

সুত্র মতে, দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের বারবার মনোনয়ন বঞ্চিত করে টুকু তাঁর ভাই আব্দুল বাতেনকে দলীয় মনোনয়ন প্রদান আসছিলেন। নেতাদের আপত্তি থাকলেও বাতেন জামায়াত ইসলামের নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে বারবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। এসব কারণে আওয়ামীলীগ থেকে সম্প্রতি আব্দুল বাতেনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও জামায়াতের সমর্থন মেয়র বাতেনের পক্ষেই থাকবে। এবার টুকু দলের অন্যকোন নেতাকে মনোনয়ন প্রদানে সহযোগিতা না করে নিজের অরাজনৈতি ছেলে রঞ্জনকে দলীয় মনোনয়ন পেতে সহযোগিতা করেছেন। তাই দলের নেতাকর্মীরা রঞ্জনের সঙ্গে নেই। তবে দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার ভয়ে শীর্ষপদধারী নেতারা শেষ পর্যন্ত রঞ্জনের সঙ্গে আসলেও ভোটের ক্ষেত্রে তেমন একটা কাজ করবেন না। এই কারণে রঞ্জনের বিজয়ী হওয়া হওয়াতো দুরের কথা জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

সুত্রগুলো আরো জানায়, মুখে রঞ্জন জামায়াত ইসলামকে ভোটের মাঠে না আসার জন্য বলছে। আর নিজের পক্ষে কাজ করা ও দলীয় ব্যাংকভোট প্রদানের অনুরোধ করাটা ভোটের মাঠে নিজের দেউলিয়ার পরিচয় বহন করছে।

 

বেড়া ঘাটের ব্যবসায়ী ও আওয়ামলীগ নেতা আলতাব হোসেন জানান, টুকুপুত্র রঞ্জন দলীয় নৌকা প্রতিক পেলেও স্থানীয় আওয়ামীলীগের কোন নেতাকর্মী, সমর্থক এমনকি সাধারণ ভোটারগণও তার সঙ্গে নেই। রঞ্জন তার পক্ষে কর্মীদের ভোটের মাঠে নামাতে পারছেন না। কারণ সকল নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারা বর্তমান মেয়র আব্দুল বাতেনের সঙ্গে রয়েছে। আর রঞ্জনের সঙ্গে ভোটের মাঠে পুলিশ থাকতে পারে; নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটাররা নেই।

 

আওয়ামীলীগ কর্মী রফিকুল ইসলাম নিজের ফেসবুক আইডিতে তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্ট্যাটাসে লিখেছেন, বেড়ায় আওয়ামীলীগের কি এতটাই দৈন্যদশা, যে জামায়াতের কাছে সমর্থন চাইতে হলো? মৃত্যদন্ড প্রাপ্ত শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী, সাবেক জাময়াত আমীর মতিউর রহমান নিজামীর স্বজন ও শিষ্যদের কাছে ভোট চেয়ে আওয়ামীলীগের অবমূল্যায়ন করেছেন।
বেড়া উপজেলা জামায়াতের আমীর ডা. আব্দুল বাসেদ জানান, মঙ্গলবার সকালে আসিফ শামস রঞ্জন অফিসে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছে না, সে কারণে রঞ্জন তার কাছে ভোট চান।
তিনি আরো জানান, বেড়া পৌরসভায় জামায়াতের প্রায় ১২ হাজার ভোট রয়েছে। জামায়াতের ভোট তার পক্ষে দেয়ার জন্য রঞ্জন অনুরোধও করেছেন। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুর রহমান মাসুদও তার সঙ্গে দেখা করে সমর্থন চেয়েছেন বলে দাবী করেন জামায়াতের এই নেতা।

 

জামায়াতের সমর্থন চাওয়ার বিষয়ে আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য আসিফ শামস রঞ্জন জানান, প্রাত ভ্রমণে বের হয়ে জনসংযোগের সময় জামায়াত আমীর ডা. আব্দুল বাসেদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। প্রার্থী হিসেবে তাদের এলাকার মানুষের ভোট ও দোয়া চেয়েছি। জামায়াতের ভোট ব্যাঙ্কের সমর্থন চাওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা।
রঞ্জন আরো জানান, প্রকাশ্যে মিটিংয়ে তিনি বলেছেন যেহেতু জামায়াতের প্রার্থী নেই। তাদের ভোট কেন্দ্রে আসারও কোন প্রয়োজন নেই।

 

আওয়ামীলীগ প্রার্থীর জামায়াতের সমর্থন চাওয়ার বিষয়টি লজ্জার ও নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিম লাল। তিনি জানান, বেড়া যুদ্ধাপরাধী নিজামীর জন্মস্থান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধের বিচার করে পাবনাবাসীকে কলংক মুক্ত করেছেন। স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত জনগণের কাছে ঘৃণিত দল। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের যে উন্নয়ন করেছেন, তাতে জনসমর্থন নৌকার পক্ষে। নৌকার বিজয়ে জামায়াত – বিএনপির সমর্থন সহযোগিতা আওয়ামীলীগের প্রয়োজন নেই।

 

আওয়ামীলীগের রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন জানান, দল হিসেবে আমরা জামাতকে ঘৃণা করি। সামাজিকভাবে মেলামেশা নিষিদ্ধ না হলেও, আওয়ামীলীগ প্রার্থীর জামায়াতের রাজনৈতিক সমর্থন নেয়ার সুযোগ নেই। আসিফ শামস কেন জামায়াত আমিরের কাছে গিয়েছিলেন তা আমার জানা নেই। স্থানীয় আওয়ামীলীগের নিকট থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে, দল বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলেও জানান এসএম কামাল।

উল্লেখ্য, আগামী ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সঙ্গে বেড়া পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ###

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com