শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন

মোহনপুরে কাফনের কাপড় কিনে নির্বাচনি মাঠে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী লতিফ

মোহনপুরে কাফনের কাপড় কিনে নির্বাচনি মাঠে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী লতিফ

রাজশাহী প্রতিনিধি :

রাজশাহীর মোহনপুরে জাহানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আবদুল লতিফ প্রতীক বরাদ্দের দিনে কাফনের কাপড় কিনে তার রশিদ জমা দিয়েছেন উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে। আজ শুক্রবার দুপুরে প্রতীক বরাদ্দের দিনে তিনি মোহনপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জয়নুল আবেদিনের কাছে এই রশিদ জমা দেন। তার প্রতীক (ঘোড়া)।

এর আগে গত রোববার (৭ নভেম্বর) রাতে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি পান তিনি। পরদিন সোমবার তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এ নিয়ে গত সোমবার জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন পত্রিকার স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নে এবার আবদুল লতিফ ছাড়াও নৌকাসহ আরও পাঁচজন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ২৮ নভেম্বর।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, তৃতীয় ধাপে ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ইউপি নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। গত রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষে মোহনপুর সদরে নিজের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁর কাছে মাহবুর নামের এক ব্যক্তির ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে অকথ্য ভাষায় তাঁকে গালিগালাজ করা হয়। কলদাতা একপর্যায়ে বলেন, ‘আমি ২৯টি খুন করেছি। গতকাল তোকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলাম। অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছিস। তুই এলাকায় ঢুকলে তোকে খুন করা হবে।’

আবদুল লতিফ বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ হয়ে গেল তাঁকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু হুমকিদাতার নির্দিষ্ট ফোন নম্বর জিডিতে জমা দেওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এটা বের করা কোনো ব্যাপারই না প্রশাসনের। কিন্তু প্রশাসনের কোনো তৎপরতা নেই। তাঁকে তো বেঁচে থাকতে হবে। এ কারণে তিনি কাফনের কাপড়ের রশিদ জমা দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, তিনি কাফনের কাপড়ই জমা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মানুষজন মনে করতে পারে যে লোক দেখানো কাজ করা হচ্ছে। এ কারণে তিনি কাফনের কাপড় কেনার রশিদ জমা দিয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে বলেছেন, ‘যদি উপযুক্তভাবে প্রশাসন না চালাতে পারেন, তবে আমার জানাজায় যাবেন।’

মুঠোফোনে হত্যার হুমকিতে আতঙ্কে আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি এই ইউনিয়নে সবচেয়ে জনপ্রিয় মানুষ। ৮০ ভাগ ভোট তিনি পাবেন। কিন্তু এখানে নৌকার প্রার্থীকে জেতাতে মরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগসহ স্থানীয় সাংসদ। এখন তিনি জীবনহানির ভয়ে আছেন। তাঁর স্ত্রীও কান্নাকাটি করছেন।

আবদুল লতিফ এই ইউপিতে ২০০৩ সালে বিএনপির শাসনামলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন আওয়ামী লীগ তাকে সমর্থন দিয়েছিল। তবে এবার তিনি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপত্র চাননি।

মোহনপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীন বলেন, আবদুল লতিফ কাফনের কাপড় কেনার একটি রশিদ দিয়ে গেছেন। তিনি তা সৌজন্যতার খাতিয়ে নিয়েছেন। এটা নির্বাচনে প্রচারণার কোনো ধরন হতে পারে। তিনি আরও বলেন, আজ প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার পর এখানে প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। সবাইকে প্রচারের আইন-কানুন মেনে প্রচার-প্রচারণা চালাতে বলা হয়েছে। আইনের ব্যত্যয় হলে তাঁরা ব্যবস্থা নিবেন।

মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আবদুল লতিফের করা জিডির কাজ চলছে। এটা একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে হয়ে থাকে। এ বিষয়ে তিনি আবদুল লতিফকেও ফোনে জানিয়েছেন। তদন্ত শেষে হুমকিদাতার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com