বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন

লবণে আয়োডিন না থাকলে ৩ বছরের জেল-জরিমানা

লবণে আয়োডিন না থাকলে ৩ বছরের জেল-জরিমানা

অল নিউজ ডেস্ক :
ভোজ্য লবণ এবং প্রাণিখাদ্য প্রস্তুতে ব্যবহৃত লবণে আয়োডিন না থাকলে প্রণীত আইনে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল এবং ১৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

 

সোমবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আজ রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। ‘আয়োডিনযুক্ত লবণ আইন, ২০২১ : অবহিতকরণ’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে শিল্প মন্ত্রণালয়।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, সুস্থ ও মেধাবী প্রজন্ম গঠনে আয়োডিনযুক্ত লবণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভোজ্য লবণে আয়োডিন যুক্তকরণ এবং মানুষ ও অন্যান্য প্রাণির খাদ্য তৈরিতে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশের লবণ খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যে বিদ্যমান ‘আয়োডিনের অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ আইন ১৯৮৯’ রহিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে ‘আয়োডিনযুক্ত লবণ আইন, ২০২১’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, আয়োডিনযুক্ত লবণ আইনের আওতায় জাতীয় লবণ কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটি লবণের চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, আয়োডিন যুক্তকরণ, মজুদ ও বিক্রয়, লবণ কারখানার জন্য আয়োডিন সরবরাহ এবং ব্যবস্থাপনা নীতির বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন করবে। ১৪ সদস্যের এ কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে আয়োডিনযুক্ত লবণ পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়ন সেল কার্যক্রমগুলো নজরদারি করবে।

 

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, শুধু মুনাফার কথা বিবেচনা না করে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মকে যদি সুস্থ ও মেধাবী করে তুলতে চান, তবে অবশ্যই এ আইনের নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় মান বজায় রেখে ভোজ্য লবণে আয়োডিন যুক্ত করবেন।

শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (আইন) ড. এ এফ এম আমীর হোসেনের সঞ্চালনায় কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (নীতি, আইন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা) শেখ ফয়েজুল আমীন।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার আয়োডিনযুক্ত লবণ আইন প্রতিপালনে লবণ শিল্প মালিকদের আয়োডিনযুক্ত লবণ সরবরাহের আহ্বান জানান। লবণ আমদানির পরিবর্তে দেশে কীভাবে আরও বেশি উৎপাদন করা যায় এবং রফতানির উদ্যোগ নেওয়া যায় সেই ব্যবস্থা নিতে বলেন।

 

শিল্পসচিব বলেন, এই আইনে মানুষের জন্য ভোজ্য লবণ এবং প্রাণিখাদ্য প্রস্তুতে ব্যবহৃত লবণে আয়োডিন না থাকলে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল এবং ১৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। দেশে কেউ লবণ আমদানি, উৎপাদন, গুদামজাত, ভোক্তা পর্যায়ে পাইকারি সরবরাহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ কিংবা পরিশোধন করতে চাইলে এখন থেকে এ আইনের অধীনেই নিবন্ধন নিতে হবে। কেউ যদি নিবন্ধন না করে, তবে দুই বছরের জেল এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। প্যাকেট বা লেবেলহীন ভোজ্য বা অ-ভোজ্য লবণ বিক্রি করলে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান এ আইনে রাখা হয়েছে।

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসান ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com