শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:০৯ অপরাহ্ন

রাজশাহী ওয়াসার পানিতে ভয়ংকর ‘কলিফর্ম’ ব্যাকটেরিয়া, ঝুঁকিতে নগরবাসী

রাজশাহী ওয়াসার পানিতে ভয়ংকর ‘কলিফর্ম’ ব্যাকটেরিয়া, ঝুঁকিতে নগরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রতিবছরই বাড়ছে গ্রাহক। ভূ-গর্ভস্থ পানির উপরে নির্ভরশীল ওয়াসা। গ্রাহকদের নিরাপদ-সুপেয় পানি সরবরাহ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ওয়াসার। এরি মধ্যে পানিতে পাওয়া গেল ‘কলিফর্ম’ ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর পদার্থ। এতে ঝুঁতি রয়েছে রাজশাহীর নগরবাসী।

 

জানা যায়, রাজশাহীর ১০৪টি পয়েন্ট থেকে সরবরাহকৃত রাজশাহী ওয়াসার পানিতে এবার ভয়ংকর কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সস্প্রতি ওয়াসা’র উদ্যোগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পানির গুনগত মান যাচাই পরীক্ষায় এই ব্যাকটেরিয়া উপস্থিতি পাওয়া যায়।

 

ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, পানির এই গুনগত মান যাচাই পরীক্ষায় দেখা যায় রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল, কুমারপাড়া ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয়, শেখের চক পাম্পের দক্ষিণ দিকের নদীর পাড় এলাকা, হাদির মোড় বাজে কাজলা মহল্লা, রামচন্দ্রপুর পাম্প, রাবি প্রচীর সংলগ্ন হাজোর মোড়, বোয়ালিয়া পাড়া, আসাম কলোনি বৌ বাজার, মথুরডাঙ্গা মোড়, খ্রিস্টানপাড়া মোড়, উপশহর নিউ মার্কেট মোড়, মিয়াপাড়া ধর্মসভা, কাজীহাটা মহিলা কমিশনার বেলি আপার বাড়ি, লক্ষীপুর বাকির মোড়, পিটিআই মোড়, কেশবপুর কোর্টের আরবান ক্লিনিক, রহরমপুর মোড়, মোল্লাপাড়া কোর্ট সংলগ্ন পয়েন্টে ১০০ মিলিলিটার পানিতে ১ হাজারের অধিক কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যেখানে ফেসাল কলিফর্মও পাওয়া গেছে ৩ থেকে সাড়ে ৫০০ পর্যন্ত। অথচ খাবার উপযোগী বিশুদ্ধ পানিতে ক্যালিফর্মের বাংলাদেশে স্ট্যান্ডার্ড মান “শূন্য”।

 

২০১১ সাল থেকে রাজশাহী মহানগরীর পানি সরবরাহ করে আসছে ওয়াসা। বর্তমানে শহরে দৈনিক পানির চাহিদা ১২৫ মিলিয়ন লিটার। এর বিপরীতে ওয়াসা দৈনিক ১০৪ মিলিয়ন লিটার পানি সরবরাহ করে। বাসাবাড়িতে খাবারের জন্য ওয়াসার পানি ব্যবহার তেমন না হলেও নগরীর অধিকাংশ খাবারের হোটেলে ওয়াসার পানি সরবরাহ করা হয়। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে নগরবাসী।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের রাজশাহীর সিনিয়র রসায়নবিদ শফিকুল ইসলাম জানান, নিরাপদ পানিতে কলিফর্মের উপস্থিতি “শূন্য” হবে। তবে যদি পানিতে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি থাকে সেটা পান উপযোগী নয়। এই ব্যাকটেরিয়াযুক্ত পানি খেলে তাৎক্ষনিক পেটের পীড়া দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে গ্যাষ্টিক, আলসারসহ ক্যান্সারও হতে পারে।

 

তিনি আরও জানান, পানিতে যদি এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি থাকে তবে বিøচিং পাউডারের মাধ্যমে শোধন করে পান উপযোগী করা যাবে।

 

তিনি আরও জানান, রাজশাহী শহরজুড়েই নির্মাণকাজ চলছে। রাস্তা খুঁড়তে গিয়ে পাইপ ফেটে যায়। এগুলো হয়তো পলিথিন দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়। কোনোভাবে এই পলিথিন ছিঁড়ে গেলেই সেখান দিয়ে সুয়ারেজ লাইনের পানি ওয়াসার পাইপলাইনে ঢুকে পড়ে। এই পানিতে গবাদিপশু এমনকি মানুষের বর্জ্য মিশে থাকতে পারে। এই বর্জ্য থেকেই কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী নূর ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে তারা বারবার ওয়াসাকে অবহিত করেছে যে পানির পাইপ তিন ফুট নিচ দিয়ে বসাতে। এর ওপরে থাকলে রাস্তা রোলার করার সময় পাইপ ফেটে যায়। এ জন্য তারা চিঠিও দিয়েছেন। তারপরেও তাদের ঠিকাদারেরা কোনো জায়গায় পাইপ ফাটার সঙ্গে সঙ্গে মেরামতের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে দিয়ে সহযোগিতা করে থাকেন।

 

এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবুল আলম বাদশা জানান, কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া মূলত মানুষ, পশু-পাখির বিষ্ঠা থেকে তৈরি হয়। এই ব্যাকটেরিয়া মিশ্রিত পানি খেলে তাৎক্ষণিক ডায়রিয়া, বমিসহ দেহে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। খাওয়ার পানিতে এই ব্যাকটেরিয়ার কোনো সহনীয় মাত্রা নেই।

রাজশাহী ওয়াসা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান জানান, তারা নিয়মিতই ওয়াসার পানি পরীক্ষা করেছেন। তারা প্রতিকারের ব্যবস্থা নিয়েছেন। তাদের নিজস্ব পানি পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। তারপরেও তারা অধিকতর নিশ্চয়তার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে পানি পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছেন।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com