শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৮:৫২ অপরাহ্ন

পুঠিয়ায় ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ

পুঠিয়ায় ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহীর পুঠিয়ায় ভুল চিকিৎসায় ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ উঠেছে ক্লিনিক মালিকের বিরুদ্ধে। গর্ভপাত করানোর পর ভুক্তভোগী ওই নারীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার উপজেলার বানেশ্বর বাজারে বেসরকারি গ্রিন লাইফ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারীর নাম তাসলিমা বেগম (৩০)। তিনি উপজেলার শিবপুর জাগিরপাড়া গ্রামের জালাল উদ্দিনের স্ত্রী।

 

জালাল উদ্দিন বলেন, আমার স্ত্রী সাত সপ্তাহের অন্তঃসত্বা ছিল। গত মঙ্গলবার সকালে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গ্রিন লাইফ হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে হাসপাতালের মালিক বাবু আল্ট্রাসনোগ্রাফি করেন। কিছুক্ষণ পর তিনি জানান গর্ভের সন্তানটি মৃত। এর পর পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে গর্ভপাত করাতে চুক্তি করেন।

‘আমার ন্ত্রীকে একটি ট্যাবলেট খাওয়াতে বলেন বাবু। ট্যাবলেট খাওয়ানোর পর আমাদের কিছুটা সন্দেহ হয়েছিল। পরে পাশের একটি ক্লিনিকে (মা ক্লিনিক) আল্ট্রাসনোগ্রাফি করালে জানতে পারি আমার স্ত্রীর গর্ভের বাচ্চা জীবিত।’

জালাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি গ্রিন লাইফের মালিককে বললে তিনি ওই দিন বিকালে আমাদের রাজশাহী শহরে নিয়ে যান। সেখানে বেলভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তৃতীয় দফা আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানো হয়। সেখানেও চিকিৎসকরা পেটে বাচ্চা জীবিত আছে বলে জানান। এর কয়েক ঘণ্টা পর ট্যাবলেটের প্রতিক্রিয়ায় আমার স্ত্রীর রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

তিনি বলেন, বুধবার রাত ১০টার দিকে আমার স্ত্রীর পেটের বাচ্চা পড়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কারণে রাতেই তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে আমার স্ত্রীর অবস্থা খুবই খারাপ রয়েছে। সুস্থ হলে থানায় গিয়ে অভিযোগ দেব।

 

পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মতিন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই নারীর অবস্থা গুরুতর। গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

গ্রিন হাসপাতালের মালিক বাবু বলেন, একজন চিকিৎসক আল্ট্রাসনোগ্রাফি করেছেন। তিনি ওই রিপোর্টে যা পেয়েছেন তাই উল্লেখ করেছেন। ওই নারীর আগেও একাধিকবার গর্ভপাত ঘটেছে। তার জেরে এবারও হয়েছে। আর আমাদের পক্ষ থেকে কোনো অপচিকিৎসা বা গাফিলতি করা হয়নি।

 

এ ব্যাপারে থানার পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, ভ্রূণ হত্যার কোনো অভিযোগ এখনও থানায় আসেনি। অভিযোগ পেলে অব্যশই আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com