বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন

অসহায় জীবন যাপন, বর্ষপুতিতে দূঘটনায় নিহতদের স্বজনদের আহাজারী

অসহায় জীবন যাপন, বর্ষপুতিতে দূঘটনায় নিহতদের স্বজনদের আহাজারী

মোহা: সফিকুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি :

আজ ১৯ নভেম্বর। শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের বারিক বাজার সংলগ্ন ভাঙ্গা ব্রীজে ধানের ট্রলি উল্টে আট জন কামলা(শ্রমিক) নিহতের বর্ষ পুর্তি। কেমন আছে নিহতের পরিবারের সদস্যগণ।

 

সরজমিনে গেলে সাহাবাজপুর ইউনিয়নের বালিয়াদির্ঘী গ্রামের নিহত কাসেদ আলির স্ত্রী এ্যামলি বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান গত বছর এ দিনে ধান নিয়ে বাড়ি ফিরার পথে আমার স্বামী সড়ক দূঘটনায় মারা যায়। দীর্ঘ এক বছর চলে গেলো। আমার বিধবা ভাতার কার্ডটি পর্যন্ত হয়নি। দুইটা মেয়ে ও একটা নাবালক ছেলে নিয়ে মায়ের বাড়িতে অসহায় জীবনযাপন করছি। মানুষের সাহায্যের ওপর কি বেঁচে থাকা যায়। অনেকেই অনেক প্রতিশ্রুতি দিলে আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। একই কথা বললেন নিহত কারিমুল হকের স্ত্রী শারমিন বেগম ।

 

তিনি জানান, আমার স্বামী নিহত হওয়ার পর অনেকেই এসেছিল । সবার কাছে আমার একটা দাবী ছিল। আমি ছোট একটি চাকুরী চাই । যা দিয়ে আমি আমার নাবালক সন্তানদের নিয়ে কোন রকমে বেঁচে থাকবো। কিন্তু চাকুরী তো দূরের কথা। বিধবা ভাতার কার্ডটিও হয়নি। বিধবাদের অন্যজন হলো নিহত আতাউর রহমানের স্ত্রী আয়েশা বেগম। তিনি জানান স্বামী নিহতের পরে শুশুর শাশুড়ী কোন খোঁজ খবর নেননি। বর্তমানে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর একটি বাড়ি পেয়েছি। মাত্র পাঁচশ টাকা পুঁজি নিয়ে সকাল সন্ধ্যায় বাড়ির সামনে ধুপি পিঠা বিক্রী করে দৈনিক একশ টাকা উপার্জন করতে পারি। তাই দিয়ে খেয়ে না খেয়ে চলছি। বিধবার ভাতা কার্ডের জন্য মেম্বার মতিকে কাগজপত্র দিয়েছিলাম। কোন লাভ হয়নি। কাজ করে যেন সংসার চালাতে পারি সেজন্য কিছু পুঁজির জন্য প্রধান মন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করছি। নিহত মিজানুরের স্ত্রী আমেনা বেগম এক সন্তান নিয়ে বাপের বাড়িতে অসহায় জীবনযাপন করছেন বলে জানান।

 

অন্যদিকে মাত্র দুই মাসের বিবাহিতা আহাদের স্ত্রীকে তার শুশুর মাত্র ৩০ হাজার দিয়ে বাড়ি থেকেই তাড়িয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় নিহত আট জনের বিধবা স্ত্রীর মাত্র তাজরিন পরবতীতে দেবরকে বিয়ে করে কিছুটা ভাল আছেন। বাকী সাতজনের একই অবস্থা। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের সবার দাবী পূর্নবাসন।

 

এ ব্যাপারে সাহাবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক জানান, গত বছর প্রতিপরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে দিয়েছি। বিধবা ভাতার কার্ড অনলাইনের মাধ্যমে প্রক্রিয়াধীন আছে। শিবগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন দাস বলেন দ্রুত তাদের বিধবা ভাতার কার্ড দেয়া হবে।

 

অন্যদিকে সাহাবাজপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ দলীয় নৌকার প্রার্থী নিজামুল হক রানা ও শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম জানান, যে কোন মূল্যেই হোক নিহতদের পরিবারের পূর্নবাসন করা হবে। তিনি আরো জানান বিধবাদের মধ্যে যারা শিক্ষিত আছেন তাদের চাকুরীর ব্যবস্থা করে দিবো ইনশাল্লাহ।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com