সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন

শুধু নামে মিল থাকায় বিনা দোষে জেলে রাকিব

শুধু নামে মিল থাকায় বিনা দোষে জেলে রাকিব

অল নিউজ ডেস্ক :
জড়িত না থেকেও শুধু নামে মিল থাকায় মাদকের একটি মামলায় গত ২২ দিন ধরে জেল হাজতে আটক রয়েছেন রাকিব (২৫) নামের এক যুবক। বুধবার (০১ ডিসেম্বর) সকালে এমন অভিযোগ করেছেন রাকিবের বাবা-মা ও তার গ্রামবাসী। তাদের দাবি, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে রাকিবকে।

 

রাকিব গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের রাথুরা গ্রামের আক্তার হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বিভিন্ন পোল্ট্রি ফার্ম থেকে মুরগী নিয়ে রাজধানী উত্তরার বিভিন্ন দোকানে সাপ্লাই দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে।

 

মামলার বরাত দিয়ে রাকিবের মা রাহিমা বেগম (৪০) জানান, চলতি বছরের ২৭ আগস্ট গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ২০৩ পিস ক্যান বিয়ারসহ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের রাথুরা গ্রামের সাইজউদ্দিনের ছেলে শহিদুল্লাহকে (৩২) আটক করে। পরে পুলিশ ধৃত আসামী শহিদুল্লাহর জবানবন্দি অনুযায়ী ওই ঘটনায় পরদিন ২৮ আগস্ট ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে শহিদুল্লাহ তার ছোট ভাই আশরাফুলসহ রাকিব ও রুবেল নাম উল্লেখ করে কালীগঞ্জ থানায় একটি মাদক মামলা (নং ৯) দায়ের করেন। তবে মামলায় রাকিব ও রুবেলের বাবার নাম অজ্ঞাত ছিল। ওই মামলায় ডিবি পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার আগে আসামীদের পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা যাচাই-বাছাই করার জন্য কালীগঞ্জ থানায় একটি অনুসন্ধান স্লিপ পাঠায়। পরে কালীগঞ্জ থানার পক্ষে ওই অনুসন্ধান স্লিপ নিয়ে উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক মুকুল তালুকদার তদন্ত করে রাকিবের বাবার নাম আক্তার উল্লেখ করে পাঠিয়ে দেন এবং মামলার আরেক আসামী রুবেলকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 

রাকিবের মা বলেন, নভেম্বর মাসের শুরুরদিকে আমরা জানতে পারি আমার ছেলে ওই মামলার আসামী। পরে ছেলেকে নিয়ে আমরা আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে আদালত আমার ছেলেকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এখন সে ২২ দিন ধরে জেলে আছে। আমি আমার নির্দোষ ছেলের মুক্তি চাই।

 

ওই মামলার ২নং আসামি রাথুরা গ্রামের সাইজউদ্দিনের ছেলে মো. আশরাফুল মুঠো ফোনে জানান, আসলে ওইদিন আমাদের সঙ্গে এই ঘটনায় আক্তার কাকার ছেলে রাকিব জড়িত না। আমাদের সাথে যে রাকিব জড়িত ছিল সে আমার বন্ধু। তার বাড়ি পাড়াবর্তা (নাওটান) গ্রামে এবং বাবার নাম তাইজউদ্দিন তাজু।

 

রাকিবের বিষয়ে জানার জন্য কথা হয় রাথুরা গ্রামের বাসিন্দা মহসিন শেখ, রাথুরা দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা জালাল হোসেন ও রাথুরা মোল্লাবাড়ী জামে মসজিদের সহ-সভাপতি ষাটোর্ধ হাজী আব্দুল বাতেনের সঙ্গে। তারা জানান, রাকিব আসলে এই ধরণের ছেলে না। সে মাদক ব্যবসা তো দূরের কথা মাদক সেবনও করেনা। আমরা জানি সে পিকআপ দিয়ে উত্তরা এলাকায় পোল্ট্রি মুরগির ব্যবসা করেন। তার নামে এই ধরণের কথা কখনো শুনেনি। সে খুবই নম্র, ভদ্র ও শান্ত ছেলে। নামের সাথে মিল থাকায় সে বিনা দোষে জেল খাটছে। এখন সে জেলে থাকায় তার ব্যবসায়িক সাইডগুলো নষ্ট হচ্ছে।

 

এই বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার পক্ষে আসামীদের নাম ঠিকানা যাচাই-বাছাইকারী পুলিশ কর্মকর্তা মুকুল তালুকদার মুঠোফোনে জানান, আমি মাত্র এক মাস কালীগঞ্জ থানার উলুখোলা ফাঁড়ির অধীনে কাজ করেছি। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাম ঠিকানা পাঠিয়েছি।

 

মামলার বাদী গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, আমি মামলায় ৪ জনের নাম দিলেও শহিদুল্লাহ এবং আশরাফুলের বাবার নাম উল্লেখ্য করেছি। তবে রাকিব ও রুবেলের বাবার নাম জানতে না পারায় অজ্ঞাত রেখেছি। পরে ওই মামলা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. বদিউজ্জামান তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন।

 

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বদিউজ্জামান বলেন, এখানে আমার কিছু করার নেই। আমরা ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান স্লিপ পাঠিয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় পূর্ণাঙ্গ নাম নিয়েছি এবং মামলায় রুবেল নামে এক আসামির সম্পৃক্ততা না থাকায় তাকে অব্যাহতি দিয়ে মামলর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছি।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. আনিসুর রহমান বলেন, আসলে যাকে তদন্ত করতে পাঠাই, সে তদন্ত করে দিলে আমি শুধু স্বাক্ষর করি। আমার পক্ষে যাচাই-বাছাই করার কোন সুযোগ নেই। তবে এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটে থাকলে সেটা দুঃখজনক।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com