মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন

নীলফামারীতে র‍্যাবের অভিযানে বোমা ও ভারি অস্ত্রসহ ৫ জঙ্গি আটক

নীলফামারীতে র‍্যাবের অভিযানে বোমা ও ভারি অস্ত্রসহ ৫ জঙ্গি আটক

অল নিউজ ডেস্ক :
নীলফামারীতে অভিযানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির রংপুর অঞ্চলের সামরিক শাখার প্রধান আহিদুল ইসলামসহ দলের চার সদস্যকে আটক করেছে র‍্যাব।

 

নীলফামারী সদরের সোনারায় ইউনিয়নে পুঠিহারী মাঝাপাড়া গ্রামে জঙ্গি আস্তানার আছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে একটি বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ রাসায়নিক দ্রব্য, একটি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন ও পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

 

এর আগে শুক্রবার থেকে শনিবার ভোর রাত পর্যন্ত সদরের সোনারায় ও সংগলশী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির পাঁচ সদস্যকে আটক র‌্যাব।

 

আটককৃতদের দেয়া তথ্যে পুঠিহারী মাঝাপাড়া গ্রামে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পেয়ে শনিবার ভোর রাতে ওই গ্রামের একটি বাড়ি ঘেরাও করে র‌্যাব সদস্যরা।

 

এরপর সকাল ১০ টার দিকে ওই গ্রামের শরীফুল ইসলাম ওরফে শরীফের (৩২) বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সতেজ একটি বোমা ও বোমা তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধার করে। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বোমাটি ফাঁকা একটি স্থানে বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকা থেকে আসা র‌্যাবের বিশেষজ্ঞ দল। তবে র‌্যাব পৌঁছার আগেই কৌশলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় জিএমবি সদস্য শরীফ। তবে তার স্ত্রী মিনা বেগম ও শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

 

আটককৃত জেএমবি সদস্যরা হলেন, জেএমবি রংপুর ও নীলফামারী অঞ্চলের জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান আহিদুল ইসলাম ওরফে আহিদ ওরফে পলাশ (২৬), জেএমবি সদস্য ওয়াহেদ আলী ওরফে আব্দুর রহমান (৩০), আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে ডা. সুজা (২৬), জাহিদুল ইসলাম ওরফে জাহিদ ওরফে জোবায়ের (২৮) ও নুর আমীন ওরফে সবুজ (২৮)।

 

এদের মধ্যে জাহিদুল ইসলাম ও ওহিদুল ইসলাম দুই ভাই। আটককৃতদের সকলের বাড়ী জেলা সদরের সোনারায় ও সংগলশী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।

 

অভিযান শেষে ঘটনাস্থলে র‌্যাবের পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের জানান, আটকৃতরা সকলেই নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জেএমবির সদস্য। আহিদুল বোমা তৈরীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। শরীফের বাড়ীতে বোমা তৈরী হতো। এমন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ভোররাত থেকে শরীফের বাড়ী ঘিরে রাখে র‌্যাব-১৩’র সদস্যরা। আটকৃতদের রংপর র‌্যাব কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। শরীফকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।

 

তিনি আরও বলেন, এখানে (ওই বাড়ীতে) কেন বোমা রাখা হয়েছে, কি তাদের উদ্দেশ্য, কতদিন যাবৎ তারা বোম তৈরী করছে, কি তাদের পরিকল্পনা জিজ্ঞাসাবাদের পর তা জানা যাবে।’

 

এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ বলেন, শরীফের বাড়িটি তদন্তের স্বার্থে স্থানীয় আনছার ও চৌকিদারদের পাহাড়ায় রাখা হয়েছে। সেখানে যাতে কেউ প্রবেশ না করেন এজন্য আশপাশের লোকজনকে বলা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শরীফ আগে উত্তরা ইপিজেডে কাজ করতেন। সে কাজ ছেড়ে রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রসহ বিভিন্ন দিনমজুরীর কাজ করছেন এখন। স্ত্রী মিনা বেগম, তাদের চার বছরের মেয়ে সুমাইয়া এবং সাত মাসের ছেলে খালিদকে নিয়ে বসবাস করেন তিনি।

 

পলাতক জঙ্গি শরীফুল ইসলাম ওরফে শরীফের মামা মোতাহার হোসেন বলেন,‘আমার ভাগ্নে খুব ভালো ছেলে ছিল। সে যে জঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে যাবে তা কখনো ভাবিনি। সে জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত থাকলে তার অবশ্যই বিচার হওয়া উচিৎ।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com