বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:০৯ অপরাহ্ন

বুয়েটের আবরার হত্যা মামলায় রাজশাহীর দুজনের ফাঁসি

বুয়েটের আবরার হত্যা মামলায় রাজশাহীর দুজনের ফাঁসি

নিজস্ব প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২০ জনের মধ্যে দুজনের বাড়ি রাজশাহী। তাঁরা হলেন- তিন নম্বর আসামি অনিক সরকার (২৪) ও চার নম্বর আসামি মেহেদী হাসান রবিন (২৪)। তাঁরা দুজনেই আবরারকে পিটিয়ে হত্যার ব্যাপারে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন।

রায় ঘোষণার পর তাঁদের পরিবারের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হয়েছে। দুজনেরই বাড়িতে গেলে স্বজনরা এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন। রবিনের স্বজনেরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বলেছেন, সাংবাদিকরা বেশি বেশি করে লেখার কারণেই তাঁদের ছেলের ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

অনিক সরকার বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রুয়েট শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকও ছিলেন তিনি। তাঁর গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বড়ইকুড়ি গ্রামে। অনিকের বাবা আনোয়ার হোসেন একজন ব্যবসায়ী। তাঁর মামা আল মমিন শাহ গাবরু বাকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়ে হেরেছেন। আগেরবার নৌকা নিয়েই তিনি চেয়ারম্যান হয়েছেন।

 

ভাগনের বিষয়ে কথা বলতে চেয়ারম্যান গাবরুকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। রায় ঘোষণার পর দুপুরে অনিক সরকারের বাড়ি গিয়ে শুধু তাঁর বাবা আনোয়ারকে পাওয়া গেছে। আনোয়ার বলেছেন, তিনি এখন মানসিকভাবে অসুস্থ। সাংবাদিকদের সাথে পরে কথা বলবেন। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

 

আরেক ফাঁসির আসামি মেহেদী হাসান রবিনের বাড়ি রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার কাপাসিয়া পূর্বপাড়া মহল্লায়। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন রবিন। তাঁর বাবা মাকসুদ আলী স্থানীয় একটি স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক। রবিন বুয়েট ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁর বাবা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা।

 

একমাত্র সন্তানের মামলার রায়ের জন্য বুধবার মাকসুদ আলী ঢাকাতেই ছিলেন। দুপুরে তাঁর বাড়ি গিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিলে গেটই খোলা হচ্ছিল না। অনুরোধ করার পর রবিনের ফুফু শাহাবা বেগম ও দিলরুবা বেগম গেট খোলেন। তাঁরা বলেন, রবিন নির্দোষ। রবিনের মা রাশিদা বেগম বেরিয়ে এসে বলেন, ‘আপনি সাংবাদিক? সাংবাদিকরাই বেশি বেশি করে লিখে আমার ছেলের ফাঁসির ব্যবস্থা করেছে। সাংবাদিকরা মিথ্যা কথা লিখেছে। সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা নাই।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com