বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:১৭ অপরাহ্ন

বিএনপির নেতা আলালকে সাত দিনের সময় দিলেন হানিফ

বিএনপির নেতা আলালকে সাত দিনের সময় দিলেন হানিফ

অল নিউজ ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের দেওয়া বক্তব্য সাত দিনের মধ্যে প্রত্যাহার না করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

 

শনিবার (১১ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ভবিষ্যতের বাংলাদেশ ও তারুণ্যের ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে বিবার্তা২৪ডটনেট ও জাগরণ (আইপি) টিভি।

 

আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ। তার চিকিৎসার জন্য বিএনপি নেতারা বিদেশিদের ডেকে নিয়ে কান্না করছে। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মানবতা দেখিয়েছেন এমন একটা নিদর্শন দেখাতে পারবেন? ক্ষমতায় এসে বিএনপি আওয়ামী লীগ নিধন শুরু করে। আওয়ামী লীগের ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। আপনারা গণহত্যা চালিয়ে মানবতা দেখিয়েছেন? অজস্র মেয়ে পাশবিকতার শিকার হয়েছে। বিএনপির অত্যাচারে মানুষ ঘরে থাকতে পারেনি। আর এখন চিকিৎসার কথা বলে সকাল-বিকাল কান্না করছেন। প্রতিহিংসা পরায়ণ রাজনীতি করে গেছেন। এখন মানবতার কান্না করেন। আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত।

 

তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেত্রী সিএমএইচে যখন আইভী রহমানকে দেখতে গিয়েছিলেন। তাকে গাড়ি নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাকে ৮ কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়েছে। কত পৈশাচিক আচরণ করেছেন। একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর নিষ্ঠুর পৈশাচিক রসিকতা করলেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর বহু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছেন। পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। লজ্জা হয় না আপনাদের। তখন কোথায় ছিল গণতন্ত্র। এদেশের জনগণ তথাকথিত গণতন্ত্রকে ধিক্কার জানিয়েছে, ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

 

হানিফ বলেন, স্বাধীনতা চেতনার উপর আঘাত করে বিএনপি ক্ষত সৃষ্টি করেছে। জিয়াউর রহমান নাকি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সিলেটে আমি বহু সম্মুখযোদ্ধার সঙ্গে কথা বলেছি। জিয়াউর রহমান সরাসরি যুদ্ধ করেছেন তার কোনো তথ্য পাইনি। পঁচাত্তরের পর রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে প্রতিটি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণ রেখে গেছেন তিনি পাকিস্তানের এজেন্ট। সাড়ে ১২ হাজার রাজাকার, আল বদরকে ক্ষমা করে মুক্ত করে দিয়েছেন। তাকে ক্ষমা করার অধিকার কে দিয়েছিল?

 

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নিষিদ্ধ জামায়াত, রাজাকার, আলবদরদের মুক্তি দিয়েছিল। মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে নিষিদ্ধ জামায়াতে ইসলামকে রাজনীতির সুযোগ করে দিয়েছেন। তিনি স্বাধীন রাষ্ট্রে মুক্তিযোদ্ধাদের চিনতেন না। যে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে তাকে প্রধানমন্ত্রী বানালেন। মুক্তিযুদ্ধে সম্ভ্রমহানি হওয়া মা-বোনদের সাথে তিনি বেঈমানি করেছেন। রাজাকারের শিরোমণি গোলাম আজমকে দেশে ফিরিয়ে এনেছেন। জয় বাংলা স্লোগান নিষিদ্ধ করেন। ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করেন। ১৫ আগস্ট নাজাত দিবস পালন করলেন। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বিচার বন্ধ করেছেন। বিএনপি নেতারা বিচারের কথা বলেন। শুধু বিচার বন্ধ নয় বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের পুনর্বাসন করেছেন। বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু করেছেন। জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন।

 

আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, বিএনপি দেশের মানুষের মাঝে বিভাজন তৈরি করেছে। জাতি আজ দুই ধারায় বিভক্ত। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ও স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি। এ বিভাজন দূর না হলে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়া কঠিন হবে। সোনার বাংলা গড়তে হলে অশুভ শক্তিকে নির্মূল করতে হবে। এই দেশের নাগরিক হলে মুক্তিযুদ্ধকে মানতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে হবে।

 

জাগরণ আইপি টিভির প্রধান সম্পাদক এফএম শাহীনের সঞ্চালনা ও বিবার্তা২৪ডটনেট সম্পাদক বাণী ইয়াসমিন হাসির সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. এসএম মাসুম বিল্লাহ।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুবমহিলা লীগের সহ-সভাপতি কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি, ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিব, যুবলীগ নেতা ব্যারিস্টার তৌফিকুর রাহমান, ডিবিসি নিউজের ডিরেক্টর, স্টাইলিশ গার্মেন্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং অপো মোবাইল বাংলাদেশের ফ্যাক্টরি ওনার সালাউদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com