মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন

কৃষিতে বাংলাদেশের অর্জন বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে : তথ্যমন্ত্রী

কৃষিতে বাংলাদেশের অর্জন বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে : তথ্যমন্ত্রী

অল নিউজ ডেস্ক :
তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, কৃষি খাতে বাংলাদেশের অর্জন বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে। আমাদের খাদ্য উৎপাদন গত ৫০ বছরে চার গুণ বেড়েছে, যা শুধু বিশ্বকেই নয় বিশ্ব খাদ্য সংস্থাকেও বিস্মিত করেছে।

 

ড. হাছান বলেন, বাংলাদেশ আজ পৃথিবীর সামনে কেস স্টাডি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসের যে দেশে মাথাপিছু কৃষি জমির পরিমাণ পৃথিবীতে সর্বনিম্ন, মানুষের ঘনত্ব সর্বোচ্চ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যার নিত্যসঙ্গী, প্রতি বছর বন্যায় যে দেশের প্রায় অর্ধেক স্থলভূমি পানিতে তলিয়ে যায়, সেই দেশ এসব মোকাবিলা করে কীভাবে কৃষিতে বিস্ময়কর উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে, সেটি সত্যিই পৃথিবীর সামনে উদাহরণ।

 

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি আয়োজিত ‘বিজয়ের ৫০ বছর : কৃষি খাতে অর্জন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব সাজ্জদুল হাসানের সভাপতিত্বে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কৃষি অর্থনীতিবিদ মো. মকবুল হোসেন এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম কামরুজ্জামান আলোচনায় কৃষি খাতে দেশের অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর আলোকপাত করেন।

 

‘কৃষিতে বিস্ময়কর অর্জনের জন্য কৃষিবিদ ও আমাদের কৃষকদের অবদান সবচেয়ে বড়’ বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী। বলেন, আমাদের কৃষিবিদরাই ফসলের উচ্চ ফলনশীল এবং উপকূলে আবাদযোগ্য লবণাক্ততাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন করেছেন। এগুলো আমাদের জন্য সম্পদ, পৃথিবীর জন্যও সম্পদ। এগুলো না হলে আজ আমাদের পক্ষে এ অর্জন সম্ভবপর হতো না।

 

‘বাংলাদেশ আয়তনের দিক দিয়ে পৃথিবীতে ৯২তম দেশ অথচ ধান উৎপাদনে চতুর্থ। মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে সপ্তম, আলু উৎপাদনে সপ্তম। নেপালে যখন ভূমিকম্প হলো আমরা ৩০ হাজার টন চাল দিই। এটি কোনো জাদুর কারণে নয় বরং বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার জাদুকরি নেতৃত্বের কারণেই সম্ভবপর হয়েছে।’

 

এ সময় সতর্কবাণী উচ্চারণ করে পরিবেশবিদ ড. হাছান মাহমুদ বলেন, অপরিকল্পিত ঘরবাড়ি-কলকারখানার কারণে বাংলাদেশে কৃষিজমির পরিমাণ গত ৫০ বছরে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে। এখন ৩০ শতাংশ মানুষ নগরবাসী, ১৫ বছর পর তা প্রায় ৫০ শতাংশ হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জমির উৎপাদন ক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। দেশে প্রতি বছর এক শতাংশ হারে কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। ২০ বছর পর আমাদের সব উদ্ভাবন কাজে লাগিয়েও আজকের মতো উৎপাদন যে সম্ভবপর হবে না, তা সবার ভাবা প্রয়োজন।

 

সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নগর কৃষিকে মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করে কৃষির উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে কৃষিবিদ পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলমের পরামর্শ আমাদের এগিয়ে নেবে।

 

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম তার বক্তৃতায় কৃষিকে প্রাকৃতিকভাবে সবুজ এ দেশের সবচেয়ে বড় ভিত বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে টেকসই ও যুগোপযোগী কৃষি অর্থনীতির বিকল্প নেই।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com