সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন

শিবগঞ্জে পদ্মায় তীব্র ভাঙ্গন, ১৭০টি ঘর বিলীন ও ১৩০ পরিবারের বাড়িঘর হুমকীর মুখে

শিবগঞ্জে পদ্মায় তীব্র ভাঙ্গন, ১৭০টি ঘর বিলীন ও ১৩০ পরিবারের বাড়িঘর হুমকীর মুখে

মোহা:সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা :

জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের সর্বনাশা পদ্মার ভাঙ্গন তীব্র হতে তীব্রতর হচ্ছে।এতে করে এলাকার মানুষ সব হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়েছে। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে পাঁকা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চরলক্ষীপুর ( প্রায় ৮পাড়া মিলে একটি গ্রাম)গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে বসবাস করা ৩শ পরিবারের মধ্যে প্রায় ১৭০টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আরো প্রায় ১৩০টি পরিবার চরম হুমকীর মধ্যে রয়েছে। বিলীন হয়েছে প্রায় ৮ হাজার বিঘা আম বাগান, বাঁশ বাগান ও ফসলী জমি। বিলীন হয়েছে ৭/৮টি ওয়াক্তিয়া মসজিদ ও একটি জামে মসজিদ,গোরস্থান।

 

সোমবার সকালে সরজমিনে এলাকায় গিয়ে চরলক্ষীপুর জ্যাটপাড়া গ্রামের মৃত শামমোহাম্মদ আলির ছেলে সহিমুদ্দিন মড়ল(৯২) জানান,এবার দিয়ে আমার জীবনে ৫বার নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছি। এবার শেষবারের মত ভাঙ্গনের কবলে বোগলাউড়ি গ্রামের (বর্তমানে নতুন কানছিঁড়া নামে পরিচিত) নজরুল ইসলাম হাজির বাড়ির উঠানে ছোট একখান খুঁপড়ি তুলে বাস করছি। এর আগে বার বার ভাঙ্গনের কবলে পড়ে শেষে চরলক্ষীপুর জ্যাট পাড়া গ্রামেএকজনের সাম্যন্য কয়েক কাঠা জমি বর্গা নিয়ে কোন রকমে দিনাদিপাত করছিলাম।সেটাও গত বুধবার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এক সময় আমি গ্রামের মড়ল ছিলাম।আমার ৩০বিঘা জমি ছিল,বাড়িঘর, সন্তান ছিলঅ এখন আমি বাস্ত হারা ।নেই পেটে খাবার, পরনে নেই কাপড়,নেই মাথা গোঁজার ঠাই।অসুস্থ মানুষ ,ভিক্ষা করতেও যেতে পারি না। তিন দিন থেকে পাড়ার লোকজন রান্না করা সামান্য কিছু খাবার দিচ্ছে তা দিয়ে স্বামী স্ত্রী খেয়ে কোন রকমে দিন পার করছি।আমার ৯ ছেলে মেয়ে থেকেও আজ কেউ নেই। সবই নিজ নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত। আর যেন বেঁচে থাকার ইচ্ছা করে না। শত বছরের লবন দাসী রবিদাস বলেন, হামার (আমার) কেহ ন্যাই। হামি(আমি) ওই গায়ের (গ্রামের ) মানুষের বাড়তে বাড়তে( বাড়িতে বাড়িতে ) খ্যাইটা ( শ্রম দিয়ে খাইতুন ( খেতাম) ওরা সবার বাড়ি নদীতে পড়ে গেছে।এখরন ওরঘে থাকার জায়গা নাই, হামি কোনঠে থাকবো? তাই চলে আইনু বোগলা উড়িতে।আমরা শুধু সহিমুদ্দিনই ও লবন দাসী রবিদাসই নয়, এ গ্রামের আরো শতধিক পরিবারের একই অবস্থা।

 

 

সরজমিনে দেখা গেছে পদ্মার ভাঙ্গন কবলিত এলাকার শতধিক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে নৌকা যোগে নদীর কেউ ্েকউ বোগড়াউড়ি ঘাটএলাকায় অন্যের জমিতে, কেউ একউ দূর্লভপুর ইউনিয়নের বেড়ী বাধের দুইদিকে অস্থায়ী ভাবে খোলা আকাশের নীচে বাস করছে। কেউ কেউ কেবল মাথা গোঁজার ঠাই তৈরী করা নিয়ে ব্যস্ত আছে। কেউ কেউ আবার কোন আশ্রয় না পেয়ে ঘাট এলাকায় মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। চরলক্ষীপুর গ্রামের মোশারফ হোসেন(৬০),আলাউদ্দিন, মিঠু, জিয়ারুল ইসলাম, পারুল ইসলাম,সুমন,, শেফালী বেগম,জোসনা বেগম,সাদিকুল ইসলাম, আতাবুর রহমানসহ পদ্মায়  ৫০/৬০জন নারী পুরুষ জানান, গত দেড় মাস থেকেই চরলক্ষীপুর গ্রামের জ্যাট পাড়া, ক্যাইঠাপাড়া ,মড়ল পাড়া, ডাক্তার পাড়া, বহরাপাড়া, কলিমুদ্দিন বিশ্বাসের পাড়ায় পদ্মা নদীর ভাঙ্গন চলছে। তারমধ্যে কয়েক দিনের ভাঙ্গন খুব জোরে শুরু হয়েছে। আমরা কোন উপায় না পেয়ে বোগলাউড়ি ঘাটের দুই পাড়ে ও দূর্লভপুর ইউনিয়নের বেড়ী বাধের দুই পাশে অস্থায়ী ভাবে মাথা গোজার ঠাঁই নেয়ার চেষ্টা করছি।তারা আরো বলেন, আমাদের এ বিপদের সময় কোন নেতা ও মেম্বার- চেয়ারম্যান মুখ দেখাতেও আসেনি।সহযোগিতা করা তো দূরের কথা। শুধু আমাদের এলাকার সন্তান ও পাঁকা ইউনিয়ন আওয়ামীগের সহসভাপতি আব্দুল বারী আমাদের সাথে থেকে বাড়িঘর সরানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছেন।

 

আওয়ামীলীগ নেতা ও চরলক্ষীপুর হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক বারী জানান, বর্তমানে চরলক্ষীপুর গ্রামের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে।পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে ৩শ পরিবারের মধ্যে ১৭০টি পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।আরো ১৩০টি পরিবার হুমকীর মুখে রয়েছে। নদী ভাঙ্গন এলাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আমি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

 

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব আল রাব্বী ও উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসককে সাথে নিয়ে এলাকা পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।বরাদ্দআসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।চঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগীয় উপসহকারী প্রকৌশলী ময়েজ উদ্দিন বলেন, চরলক্ষীপুর এলাকার ভাঙ্গন সম্পর্কে জানলাম, দ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা: সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুলের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com