সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন

চাকরী দেওয়ার নামে ৬০ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগে সমিতি থেকে অব্যহতি

চাকরী দেওয়ার নামে ৬০ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগে সমিতি থেকে অব্যহতি

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি :

রাজাকার পুত্র জিন্নাহ আলী (৫৯) নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছে ঈশ্বরদীস্থ বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএসআরআই) ১২৩ খামার শ্রমিক। শ্রমিকদের ছেলেদের চাকরী দেওয়ার নাম করে তাঁদের নিকট থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ৬০ লাখ টাকা। কিন্তু দীর্ঘদিনেও চাকরী দিতে না পারায় ও সমিতি থেকে জিন্নাহ আলীকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।

 

গত সোমবার দুপুরে শুরু হওয়া বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের খামার শ্রমিকদের সমিতি কক্ষে আলোচনা ও প্রতিবাদ সভাতে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের খামার সমিতির বর্তমান সভাপতি মোঃ ইদ্রিস আলী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

খোঁজ নিয়ে ঈশ^রদী ও সলিমপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সুত্রে জানা যায়, জিন্নাহ আলী ওরফে জিন্না ঈশ^রদীর সলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামারী দাইড়পাড়ার (পশ্চিমপাড়া) মৃত ইমান আলী ও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই এলাকার একমাত্র নারী রাজাকার সারেজান নেছার ছেলে। তিনি দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের খামারে শ্রমিকের কাজ করছেন। একই সঙ্গে বর্তমান ঈশ্বরদী আওয়ামীলীগের নির্বাচিত শীর্ষ জনপ্রতিনিধির আস্থাভাজন এক নেতা। সেই সুবাদে চলতি বছরের ১৯ আগষ্ট জাতীয় শ্রমিকলীগ ঈশ্বরদী আঞ্চলিক শাখার কায্যনির্বাহী পরিষদের সাধারণ সভায় রাজাকার পুত্র মোঃ জিন্নাত আলীকে আইন ও দর কষাকষি বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামীলীগের দলীয় নেতাকর্মীরা জোড়ালোভাবে আপত্তি ও প্রতিবাদ জানিয়ে বহিষ্কার দাবী করেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এ দাবী বাস্তবায়িত হয়নি।

 

ঈশ্বরদীস্থ বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএসআরআই) একাধিক সুত্র মতে, রাজাকারপুত্র জিন্নাহ আলী খামার শ্রমিক হলেও স্থানীয় আওয়ামীলীগের কতিপয় নেতাদের সঙ্গে যোগ সাজছে ট্রেন্ডারবাজি, মালামাল সরবারহসহ নানা রকম কর্মকান্ডের মাধ্যমে ইনস্টিটিউটের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জিম্মি করে ছিলেন। “নো ওয়ার্ক, নো পে” চুক্তিতে স্বল্প বেতনে খামারে কাজ করলেও নানা রকম অনিয়ম, দূর্নীতি ও চাকরী বাণিজ্য করে কোটিপতি বনে ধনাঢ্য জীবন যাপন করে আসছেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কর্তৃপক্ষ কোনরুপ পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে সুত্রগুলো অভিযোগ করেন।

 

বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের খামার সমিতির বর্তমান সভাপতি মোঃ ইদ্রিস আলী জানান, খামার শ্রমিক রাজারকারপুত্র জিন্নাহ আলী ক্ষমতার দাপটে দীর্ঘকাল ধরে বিনাভোটে খামার শ্রমিক সমিতির সভাপতি ছিলেন। এই সময় তিনি খামারের অন্যান্য শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের চাকরী দেওয়ার নামে প্রতারণামুলকভাবে অর্ধকোটি বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাই সোমবার সমিতির সভায় সর্বোসম্মতিক্রমে জিন্নাহ আলীকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তার নিকট থেকে মাসিক চাঁদাও নেওয়া হবে না বলে জানান সভাপতি।

 

বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (ডিজি) ডঃ আমজাদ হোসেন মুঠোফোনে জানান, খামার শ্রমিক জিন্নাহ আলীর বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে খামারে চাকরী দেওয়ার বিষয়টি শোনার পর থেকে আমার কার্যালয়ে জিন্নাহ আলীর প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ডিজি আরো বলেন, জিন্নাহ আলী রাজাকারের পুত্র বিষয়টি পত্রপত্রিকার মাধমে জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

সমিতি থেকে অব্যহতি পাওয়া খামার শ্রমিক জিন্নাহ আলীর বক্তব্য জানতে বিএসআরআই খামারে গিয়েও জিন্নাহকে পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে রিং করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ করলে খামারে চাকরী দেওয়ার নামে অর্ধকোটি টাকা নেওয়া, আধিপত্য বিস্তার করা, শ্রমিকলীগের নেতা হওয়া ও রাজাকার পুত্রের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, সবইতো শুনেছেন, জেনেছেন, আবার আমাকে জিজ্ঞাসা করছেন কেনো ? নিউজ করতে এসব বিষয়ে আপনার মতামত দরকার বলা হলে জিন্নাহ আলী বলেন, আমার কোন মতামত নেই। যা ইচ্ছে তাই লেখেন, বলেই মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com