সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১১:০৩ অপরাহ্ন

পত্নীতলায় অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরোধিতা করে গ্রামবাসী বিপাকে

পত্নীতলায় অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরোধিতা করে গ্রামবাসী বিপাকে

বাবুল অকতার, স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ:

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নির্মইল ইউনিয়নের হাটশাওলী গ্রামে অনৈতিক কর্মকান্ডে বাঁধা দিয়ে গ্রামবাসী পড়েছে বিপাকে । অপকর্ম ধামাচাপা দিতে মিথ্যা অভিযোগে গ্রামের সাধারন মানুষকে হয়রানীর পাঁয়তারা করছে ওই গ্রামের জৈনক আব্দুর রউফ নামের এক ব্যক্তি।

 

সরেজমিনে সীমান্তবর্তী হাটশাওলী গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীর অভিযোগে জানা যায়, ওই গ্রামের আব্দুর রউফ নামের জনৈক ব্যক্তির কন্যা (১৬) বিভিন্ন সময়ে ওই গ্রামে একাধিকবার অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে। অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগে গ্রামবাসী ২জন যুবক সহ তাকে হাতে নাতে ধরেও ফেলে। পরে গ্রাম্য শালিশে প্রাথমিক ভাবে তাকে ক্ষমা করে সে সময় ছেড়ে দেয়া হয়। তার পরেও সে খ্যান্ত হয়নি সে একের পর এক অনৈতিক কর্মকান্ড ঘটাতে থাকে। এ ধরনের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে গ্রামের লোকজন ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ওই পরিবারকে সতর্ক করে দেন।

 

এদিকে কিছু দিন পর ওই মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে বলে তার বাবা গ্রামবাসীর নিকট বিয়ের খরচ হিসেবে সহায়তা চাইলে গ্রামবাসী চাঁদা তুলে ৩০ হাজার টাকা বিয়ের খরচ হিসেবে সহায়তা দেয়। যথা সময়ে পার্শ্ববর্তি উপজেলায় তার বিয়ে সম্পুর্ন হয়। কিছুদিনের মাথায় তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে সে আবার বাবার বাড়ি ফিরে আসেও গার্মেন্টসের কাজে ঢাকায় চলে যায়। তারপর থেকে ওই মেয়ে দীর্ঘদিন যাবত ঢাকায় অবস্থান করে আসছিল। হঠাৎ কিছুদিন আগে ওই মেয়েটি অন্তসত্বা অবস্থায় নিজ গ্রামে ফিরে আসে। গ্রামে অবস্থান কালে গত আগষ্ট মাসে সে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করে। ভোর বেলা নির্জন পুকুর পাড়ে শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনে গ্রামের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে বিষয়টি দেখে। এ ঘটনায় গ্রামের লোকজনের মাঝে ব্যাপক গুন্জন সৃষ্টি হয়। ফলে ওই গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য ইয়াছিন আলী সহ গ্রামবাসী ঘটনার সমাধানের জন্য ওই গ্রামে সমাজ বৈঠক বসে। বৈঠকে ওই মেয়ের সদ্য ভুমিষ্ঠ হওয়া কন্যা শিশুর পিতার পরিচয় কি তা জানতে চাইলে তারা পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ওই সন্তানের পিতৃ পরিচয় জানাবে বলে মেয়ের বাবা সমাজ কে অবগত করে।

 

এদিকে সপ্তাহ অতিক্রম হয়ে গেলেও কোন প্রকার তথ্য দিতে না পারায় ওই গ্রামে আবারও সমাজ বৈঠক বসে। সেই বৈঠকে ওই মেয়ের বড় ভাই রইচ উদ্দীন উপস্থিত হয়ে আবারো ৪ দিনের সময় নেন। সদ্য ভুমিষ্ট হওয়া ওই শিশুর পিতার পরিচয় বা সন্ধান দিতে ব্যর্থ হলে তিনি তার বাবা মা কে গ্রামে না রেখে রামরামপুর তার নিজের বাড়িতে নিয়ে আসার ঘোষনা দেন। একপর্যায়ে মেয়েটি তার ছোট ভাইয়ের সাথে গোপনে সদ্য ভুমিষ্ট হওয়া কন্যা সন্তান নিয়ে ঢাকায় তার কর্মস্থলে চলে যায়। ঘটনার কোন সমাধান না হওয়ায় গ্রামের অধিকাংশ লোকজন সামাজিক কারনে আব্দুর রউফের পরিবারের সাথে চলাফেরা প্রায় বন্ধ করে দেয়। চতুর আব্দুর রউফ গ্রামের সমাজ ব্যবস্থা কে তোয়াক্কা না করে তাকে এক ঘরে করে রাখার মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে অপপ্রচার চালাতে থাকে। তার এসকল কর্মকান্ডে গ্রামের লোকজন অসন্তোষ হয়ে বিয়ের খরচ হিসেবে দেয়া ৩০ হাজার টাকা ফেরত চাইলে আব্দুর রউফ ক্ষিপ্ত হয়ে সে টাকা ফেরত দেয় ও গ্রামের লোকজনকে হয়রানীর ফন্দি ফিকির শুরু করে।

 

এ বিষয়ে আব্দুর রউফ-এর সাথে কথা হলে তিনি ঘটনার সুষ্ঠ সমাধান চান। নির্মইল ইউপির ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য ইয়াছিন আলী’র সাথে কথা হলে তিনি জানান রউফ অযথা গ্রামবাসীকে হয়রানী করছে। তাদের কে গ্রাম ছাড়া করা বা এক ঘরে কওে রাখার মত কোন ঘটনাই গ্রামে ঘটেনি। এত কিছুর পরেও আব্দুর রউফ তার পরিবার পরিজন নিয়ে শান্তিপুর্ন ভাবে গ্রামেই বসবাস করছেন। গ্রামবাসীর সাথে চলাচলে তার জন্য কোন বাঁধা নিষেধ নেই। এ বিষয়ে পতœীতলার ২নং নির্মইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ এর সাথে কথা হলে তিনি জানান যে উল্লেখিত ঘটনার বিষয়ে সমাধান চেয়ে আব্দুর রউফ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ গ্রাম আদালতে আবেদন করেছেন। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর রোববার বৈঠকের দিন ধার্য্য রয়েছে। উভয় পক্ষ উপস্থিত হলে সামাজিকতার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান হতে পারে।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com