রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৫:২৯ অপরাহ্ন

বিএনপির নেতাকর্মীরা মামলা-হামলার শিকার হয়ে এলাকা ছাড়া : মির্জা ফখরুল

বিএনপির নেতাকর্মীরা মামলা-হামলার শিকার হয়ে এলাকা ছাড়া : মির্জা ফখরুল

অল নিউজ ডেস্ক :

 

বিএনপির নেতাকর্মীরা ওদের অত্যাচারের শিকার হয়ে এলাকা ছাড়া বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আজকে মানুষ কথা বলতে পারে না, কেউ কথা বলার সাহস পায় না। আমি কালকে একটি রেস্টুরেন্টে চা খেতে গিয়েছিলাম। আমি যাওয়ার পর সেখানে সবাই ছুটে আসলো। আমরা যাদেরকে বয়-বেয়াড়া বলি। তারা এসে বলছে, স্যার আমরা কেউ গাজীপুরে থাকি, কেউ ভোলায় থাকি, কেউ রাজশাহীতে থাকি। আমরা কেউ এলাকায় থাকতে পারছি না।

 

আমরা মিথ্যা মামলা এবং ওদের (আওয়ামী লীগ) অত্যাচারে পালিয়ে চলে এসেছি। এই রকম অবস্থা বাংলাদেশে এখন শুরু হয়েছে। এ রকম ঘটনা একটা দুটো নয়। প্রায় সব জায়গায় দেখবেন আমাদের ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের ছেলেরা এমনকি বিএনপির বয়স্ক লোকেরা এলাকায় থাকতে পারছে না।

 

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, আজকে ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা। ৫০০-এর বেশি নেতা গুম হয়ে গেছেন। সহস্রাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তার পরেও তারা নির্বাচনের কথা বলে, গণতন্ত্রের কথা বলে। আপনারা তো জেনে শুনে এমন একটা নির্বাচন ব্যবস্থা তৈরি করেছেন যেখানে কেউ ভোট দিতে পারে না। আপনারা এমন একটা অবস্থা তৈরি করেছেন যেখানে কেউ বিচার পায় না। আজকে আপনি যে কোর্টেই যাবেন দেখবেন বিএনপি দেখলে একরকম বিচার আর বিএনপি না হলে অন্যরকম বিচার। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, অর্থনৈতিক দিকে সরকার চরম দুর্নীতি করছে। এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে দুর্নীতি নাই। দেশ একটি লুটপাটের রাজত্বে পরিনত হয়েছে। যেখানে যাবেন সেখানেই দুর্নীতি-লুটপাট। মেঘা প্রজেক্টে আরো বেশি মেঘা লুটপাট।

তিনি বলেন, ’৭২-’৭৫ সালে আওয়ামী লীগের একই অবস্থা ছিল। তখনও তারা লুটপাট করতো। তখন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের নামটা এখন বদলে এর নাম রাখা উচিৎ ’নিখিল বাংলাদেশ লুটপাট সমিতি’। আজকে তারা ঠিক লুটপাট সমিতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। করোনায় সম্পূর্ণভাবে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তারা টিকা সংগ্রহের কথা বলে টিকা সংগ্রহ করতে পারেনি। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের সব অর্জন তারা ধ্বংস করে দিয়েছে।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের মাতা যিনি দীর্ঘ নয় বছর সংগ্রাম করে এদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। প্রায় তিন বছর হয়ে গেছে। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করছে, বিদেশে পাচার করছে তাদের কিছু হয় না। আর আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে আটক করে রাখা হয়েছে। আমাদের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবকে একইভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাসিত করে রাখা হয়েছে। এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

 

তিনি বলেন, আমাদের অন্ধকার সময়ের পথ প্রদর্শক বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি। তিনি একজন সৈনিক ছিলেন। সৈনিকের চারিত্র যুদ্ধ করা। তিনি ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমৃত্যু যুদ্ধ করেছেন। ১/১১ তে বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকরণের যে পরিকল্পনা তা রুখে দিতে তিনি সংগ্রাম করেছেন। যার জন্য তিনি জেলেও গিয়েছেন। আজকে দেশের এই অবস্থায় তাকে আমাদের খুব প্রয়োজন ছিলো।

 

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম প্রমুখ।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com