সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১১:২৯ অপরাহ্ন

১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়া সেই শিক্ষকের পদত্যাগ

১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়া সেই শিক্ষকের পদত্যাগ

অল নিউজ ডেস্ক :
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন তার ওপর অর্পিত তিনটি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

 

বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান পদ, সহকারী প্রক্টর পদ ও প্রক্টরিয়াল বোর্ডের সদস্য পদ থেকে লিখিতভাবে পদত্যাগ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেল পদত্যাগের এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

তবে, চাকরী থেকে স্থায়ীভাবে অপসারণ বা পদত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন অব্যহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সেই সাথে তারা চার দফা থেকে সরে এসে এখন এক দফা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের স্থায়ী অপসারণ বা পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রবি ক্যাম্পাস-১ এ নতুন করে আন্দোলন শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানায়, গত রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিচিতি বিষয়ের ফাইনাল পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় ঐ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন আগে থেকে কাঁচি হাতে পরীক্ষার হলের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশের সময় যাদের মাথার চুল হাতের মুঠোর মধ্যে ধরা যায়, তাদের মাথার সামনের অংশের বেশ খানিকটা চুল তিনি কাঁচি দিয়ে কেটে দেন। এভাবে একে একে ১৪ জন শিক্ষার্থীর চুল তিনি কাঁচি দিয়ে কাটেন। এরপর পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের পরিবার তুলে গালিগালাজ করেন।

 

এই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিলে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সোমবার দুপুরে পরীক্ষা বর্জন করে আন্দালন করার চেষ্টা করলে ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন শিক্ষার্থীদের গালিগালাজ করে পরীক্ষার হলে যেতে বাধ্য করেন।

 

পরবর্তীতে তিনি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান তুহিনকে তার চেম্বারে ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন ও রবি থেকে তাকে স্থায়ীভাবে বহিস্কারের হুমকি দেন। এতে তার শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে যাওয়ার ভয়ে ও অপমান সহ্য করতে না পেরে তুহিন সোমবার রাত ৭টার দিকে দ্বারিয়াপুরের শাহমুখদুম ছাত্রাবাসের নিজ কক্ষে দরজা বন্ধ করে ৩৫টি ঘুমের বড়ি এক সাথে গুড়ো করে সেবন করে আতœহত্যার চেষ্টা করে।

 

পড়ে রাত ৮টার দিকে তার সহপাঠীরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে সে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা এখনও আশংকাজনক বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাতেই রবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে তারা আবারও বিক্ষোভ শুরু করলে রবি ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে।

 

এ বিষয়ে রবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার অধ্যাপক আব্দুল লতিফ ও রবির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com