মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৪৭ অপরাহ্ন

পত্নীতলায় রোপা আমনের বাম্পার ফলন দামে খুশী কৃষক

পত্নীতলায় রোপা আমনের বাম্পার ফলন দামে খুশী কৃষক

অল নিউজ ডেস্ক :
নওগাঁর পত্নীতলায় ও সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। সেই সাথে ভালো দাম পেয়ে কৃষকরা খুশি।

ফরহাদ হোসেন পত্নীতলায় থেকে জানান, শস্য ভান্ডার বলে পরিচিত নওগাঁর পত্নীতলায়য় এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

সরজমিনে জানা যায় উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়েনের সর্বত্র এখন মাঠে সোনালী রঙ্গের সমারোহ। কৃষকেরা ধান কাটা মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন, বসে নেই কৃষানীরাও। চলছে ঘরে ঘরে নব্বানের উৎসব, কৃষকরা তাঁদের স্বপ্ন্রে ফসল ঘরে তুলতে উঠে-পড়ে লেগেছে। কৃষকরা জানায় এবার আমন চাষে সার কীটনাশক শ্রমিক হালচাষ সময়মতো কাজে লাগাতে পেরে এবং পরিচর্যা করতে পেরে ধানের আবাদ ভালো হয়েছে। পানির সঙ্কট হয়নি।

তবে অনেক কৃষক জানিয়েছেন এবার ধানের রোগ বালাই দমনে তাঁদের অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। এতে প্রতিটি কৃষকের মোটা অংকের বাঁকী হয়েছে কীটনাশকের দোকানগুলোতে। নতুন ধান ঘরে তুলে ঋণ মহাজন পরিশোধ করবেন বলে জানায় কৃষকরা। পাটিচরা ইউনিয়েন কৃষক বিঞ্চু পদ, শাহাজাহান আলী, হারুনুর রশীদ, নজিপুরের শিতেন চন্দ্র কৃষ্ণপুরের হরিবর রহমানসহ অনেকে বলেছেন ওই সব মহাজনি ঋণ এর কথা। চলতি মওসুমে প্রতি বিঘায় ১৬ হতে ২০ মন পর্যন্ত ধানের ফলন পাচ্ছেন কৃষকেরা। স্থানীয় আড়ৎগুলোতে প্রতিমন ধান ১ হাজার হতে ১১শ’ টাকায় ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে। কৃষকরা ধান বিক্রয় করে মহাজনি ঋণ পরিশোধ করে বোরোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকে।

পত্নীতলায় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় চলতি মওসুমে ২৮ হাজার ২শ’ ৫৬ হেক্টর জমি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অর্জিত হয়েছে ২৭ হাজার ২শত হেক্টর। আবাদ কম হলেও ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৭৪ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টন । অতিরিক্ত উৎপাদন বেড়েছে আরো ৯৫ হাজার মেট্রিক টন। পত্নীতলায়য় ব্রি ধান ৩৪, ৪৯, ৫১, ৫২, ৬২, ৭২, ৭৪, স্বর্ণা ৫ ও দেশীয় চিনি আতব চাষ করেছেন কৃষকেরা। পত্নীতলায়য় শতকরা ৬০ ভাগ ধান কাটা মাড়াই হয়েছে।

 

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা সময় মতো সার বীজ কীটনাশক ও কৃষি সহযোগীতা পেয়ে ধানের উৎপাদন বেড়েছে।

রফিকুল ইসলাম,সিরাজগঞ্জ থেকে জানান, সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে চলছে আমন ধান কাটার মহোৎসব। নতুন ধানকে ঘিরে এখন ঘরে ঘরে চলছে নবান্ন উৎসব। রোপা আমনের এবার বাম্পার ফলন হওয়ায় বুকভরা স্বপ্ন বুনছেন উপজেলার কৃষকরা। প্রতিটি ক্ষেত যেন সোনালী রঙের চাদর দ্বারা আবৃত।

 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় আমন ধান আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ছিলো ১২ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধানের ফলনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ৭৭০ মেট্রিকটন। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ মৌসুমে আমন ধানের বেশি আবাদ ও ফলন বেশি হয়েছে।০

উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, ঘরে ধান তুলতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন আমন চাষিরা। চলতি মাসের মধ্যে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সোনামুখি ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামের কৃষক শাহালম বলেন, এবার ২ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে জানিয়েছেন ।
মাইজবাড়ি ইউনিয়নের পাইকরতলী গ্রামের কৃষক আলহাজ্ব মো. আজিজুর রহমান বলেন, ১২বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছি। ধান ফলন ভালো হওয়ায় লাভবান হওয়ার আশা করছি। বিঘায় ১৫-১৬ মন করে হবে বলে আশা করছি।

 

মাইজবাড়ি ইউনিয়নের ছালাভরা গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি ১ বিঘা জমিতে ব্রী ধান ৮৭ চাষ করেছি প্রতি বিঘায় ২০ মন ফলন হয়েছে। আমনের জমি চাষাবাদে ১০-১২ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে, আশা করছি বিঘায় ২০-২২ মন ধান পাবো।

স্থানীয় কৃষি উপসহকারী কৃষি অফিসার মাহমুদুল হাসান ও শাহীন আলম বলেন, গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় জাতের ধানের আবাদ কমে উন্নত জাতের বিশেষ করে ব্রী ধান ৮৭ জাতের আবাদ বেড়েছে। বেশি ফলন হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বেশি। এসব ধানে এবারও বাম্পার ফলন হয়েছে।

 

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. রেজাউল করিম বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর ব্রীধান ৮৭ জাতের আমনের ভালো ফলন হয়েছে। এ ছাড়া এ জাতের ধান দুর্যোগে সহজে নস্ট হয়না। এ ধান রোগ পোকামাকড় প্রতিরোধী এবং স্বল্প মেয়াদি হওয়ায় কৃষকরা রবি শস্য সরিষা চাষাবাদ করতে পারবে। আমনে তেমন সেচের প্রয়োজন হয় না। তাছাড়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ফলন বেশি হয়েছে। বাজারেও ধানের দাম ভাল। এমন দাম পেলে আগামীতে ধান চাষে এ অঞ্চলের কৃষকরা আরো উৎসাহ পাবেন।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com