শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৮:২৮ অপরাহ্ন

হ্মণবাড়িয়ায় বাড়ছে ডায়রিয়া রোগী

হ্মণবাড়িয়ায় বাড়ছে ডায়রিয়া রোগী

অল নিউজ ডেস্ক :
ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। হাসপাতালে জায়গা হচ্ছে না এসব রোগীদের। হাসপাতালের মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। শীতে কষ্ট পাচ্ছেন শিশু ও অভিভাককরা।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। এ হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা ২৫টি। কিন্তু গত কয়েকদিন এ ওয়ার্ডে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর ভর্তি সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শয্যা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ওয়ার্ডের বাধ্য হয়ে ভেতরে ও বারিন্দায় মেঝেতে চাটাই ফেলে ভর্তি হওয়া রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। সরকারি এ হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত ১০৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শিশু ৯০ জন ও প্রাপ্ত বয়স্ক রোগী ১৪ জন আছেন। ফলে রোগীদের সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের।

 

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সরেজমিনে জেলা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, রোগী ও স্বজনদের মেঝেতে অবস্থান নেয়ার চিত্র। এদের মধ্যে কেউ কেউ কাঁথা দিয়ে ঘুমিয়ে থাকলেও কেউ কেউ শুধু হুগলার চাটাইয়েই রাতের ঠান্ডায় পড়ে আছেন। কোথাও কোথাও গাদাগাদি করে শুয়ে আছেন রোগী ও অভিভাবকরা। রোগীর স্বজনরা জানান, বমির পাশাপাশি পাতলা পায়খানা হওয়ায় তারা রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে আসে। চিকিৎসক হাসপাতালে ভর্তি দিয়েছেন। হাসপাতালে সিট না থাকায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়। চিকিৎসা পাবার স্বার্থে না প্রকাশ না করে কয়েকজন অভিভাবক জানান, এই শীতের মধ্যে শিশুদের নিয়ে মেঝেতে পড়ে আছি। আমাদের নানামুখী অসুবিধা হচ্ছে। তবু চিকিৎসা পাওয়ার আশায় পড়ে আছি।
জেলা সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ফাইজুর রহমান ফয়েজ বলেন, জরুরি বিভাগে প্রতিদিন তিন শিফটে তিনজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কয়েক দিন যাবত জরুরি বিভাগে প্রতিদিন ৬০-৭০ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। অনেকেই আবার চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার মত পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত আছে। আমরা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি দিচ্ছি।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামান বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে আমাদের হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেশি থাকে। কারণ এ সময়ে নদী-খালের পানি কমে প্রায় শুকিয়ে যায়। গ্রামের অনেক মানুষ শুকিয়ে স্থিতিশীল হওয়া পানিতে গোসলসহ আনুষঙ্গিক কাজ করেন। ফলে ডায়রিয়াতে আক্রান্ত হচ্ছে ওইসব পরিবারের অধিকাংশ মানুষ। তিনি আরও বলেন, আমাদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বরাদ্দ সিটের চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ বেশি রোগী ভর্তি আছে। তবে আমাদের এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত ওষুধ আছে। তা দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। ওষুধ শেষ হলে প্রয়োজনে আমরা ক্রয় করে চিকিৎসা চালিয়ে যাবো।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন একরাম উল্লাহ বলেন, শুধু জেলা সদর হাসপাতালেই নয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু হয়নি। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত আছে।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com