বৃহস্পতিবার, ০৭ Jul ২০২২, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

বিপৎসীমার উপরে যমুনার পানি

বিপৎসীমার উপরে যমুনার পানি

নিউজ ডেস্ক :
বগুড়ায় কয়েকদিনের বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সারিয়াকান্দিতে যমুনা ও বাঙালি নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার যমুনার পানি বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ও তিন সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বাঙালি নদীর পানি প্রবাহিত হয়েছে।

গত কয়েকদিনের বন্যায় উপজেলার ৭৭ গ্রামের ১৪ হাজার ১৮০ পরিবারের ৫৬ হাজার ৭২০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিকালে জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৭ জুন যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করে। এরপর গত চারদিনে উপজেলার দক্ষিণ শংকরপুর, পূর্ব ধারাবর্ষা, পশ্চিম ধারাবর্ষা, কেষ্টিয়ার চর, কোমরপুর, চাঁনবাড়ি, মাঝবাড়ি, কালাইহাটা, পৌতিবাড়ি, চর মাঝিরা, হাতিয়া বাড়ি, কালিয়ান, আগ বোহাইল, নিজ বোহাইল, আওলাকান্দি, কাজলা, বাওইটোনা, কুড়িপাড়া, পাকেরদহ, উত্তর টেংরাকুড়া, দক্ষিণ টেংরাকুড়া, পাকুড়িয়া, ময়ূরের চরসহ ৭৭ গ্রামে বন্যার পানি ঢুকেছে।

ইতোমধ্যে ২৯৬ বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। দুর্গতরা নৌকায় সহায় সম্বল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয় ছুটছেন।
বন্যায় ১০ হাজার ২৫০টি টিউবওয়েল পানিতে ঢুবে যাওয়ায় গ্রামগুলোতে খাবার পানির অভাব দেখা দিয়েছে। ১১ হাজার গবাদিপশু পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পশুখাদ্য ডুবে যাওয়ায় গবাদিপশু খাবার সংকটে রয়েছে।
গত কয়েকদিনে ৫৫০টি ঘরবাড়ি আংশিকভাবে নিমজ্জিত হয়েছে। ডুবে গেছে উপজেলার ৬৮টি কাঁচা রাস্তা, তিনটি পাকা রাস্তা ও ৯টি ব্রিজ। ৩১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি ঢুকেছে।

এ ছাড়া দুই হাজার ৪৬৯ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত। এর মধ্যে পাট দুই হাজার হেক্টর, আউশ ধান ৪৫০, ভুট্টা চার ও সবজি ১৫ হেক্টর।

বন্যার পানি ঢুকে যাওয়ায় উপজেলার ৩১টি প্রাথমিক ও সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে।

উপজেলার চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান শওকত আলী জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ২৫০ বাড়িঘর নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। এর মধ্যে মানিকদাইড় গ্রামে ১৫০টি ও সুজাতপুর গ্রামে ১০০টি।

বোহাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান খাঁন জানান, গত দুদিনের তার ইউনিয়নের বোহাইল ও কাজলা গ্রামের ৪৬ বাড়িঘর যমুনাতে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে শতাধিক বাড়িঘর।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিম জানান, নদী ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের মানিকদাইড় গ্রামে জিও ব্যাগ ফেলা হবে।

এদিকে বগুড়া জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক মঙ্গলবার বিকালে সারিয়াকান্দির কামালপুর ইউনিয়নের রৌহাদহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ ক্রসবাঁধে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউএনও রেজাউল করিম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মন্টু, পৌর মেয়র মতিউর রহমান মতি প্রমুখ।

অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী সোনাতলা উপজেলায় যমুনা ও বাঙালি নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। চরবাসী তাদের সহায় সম্বল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয় চলে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে এ উপজেলায় ৫৩২ হেক্টর জমির আউশ ধান, পাট, রোপা আমনের বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক এনামুল হক জানান, জেলার বন্যাদুর্গত সারিয়াকান্দি উপজেলায় ৭১০ হেক্টর, সোনাতলায় ৯৬ ও ধুনট উপজেলায় ২৮ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com