শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৫:৩৩ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ-ফিলিপাইন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ সন্তোষজনক নয়

বাংলাদেশ-ফিলিপাইন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ সন্তোষজনক নয়

নিউজ ডেস্ক :
কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্ণ হলেও বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দৃশ্যত সন্তোষজনক নয় বলে মন্তব্য করেছেন ম্যানিলাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এফ এম বোরহান উদ্দিন।

গত শুক্রবার (২৪ জুন) ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি সপ্তাহ’ পালনের অংশ হিসেবে ম্যানিলায় বাংলাদেশ দূতাবাস ফিলিপাইন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (পিসিসিআই) সহযোগিতায় একটি বিজনেস সেমিনারের আয়োজন করে।

রাষ্ট্রদূত ওই সেমিনারে এমন মন্তব্য করেন বলে বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) ম্যানিলার বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বোরহান সেমিনারে বাংলাদেশ এবং ফিলিপাইনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের বর্তমান অবস্থার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও বাণিজ্যের পরিমাণ দৃশ্যত সন্তোষজনক নয়। তবে বিগত এক দশকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতাকে আরও প্রশস্ত ও বৈচিত্র্যময় করতে যৌথ গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এক্ষেত্রে তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে অধিকতর যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে ফিলিপাইনের ব্যবসায়ী নেতারা, ফিলিপাইনে বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। রাষ্ট্রদূত বোরহান উদ্দিন ওই সেমিনারে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন। এছাড়া ফিলিপাইন পররাষ্ট্র দপ্তরের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগ প্রধান নাথানিয়েল জি. ইম্পেরিয়াল এবং ফিলিপাইন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আন্তর্জাতিক কমিটি চেয়ারম্যান জুড অ্যাগুইলার বক্তব্য রাখেন।

সেমিনারে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেন।

ফিলিপাইন পররাষ্ট্র দপ্তরের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগ প্রধান নাথানিয়েল জি. ইম্পেরিয়াল তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ফিলিপাইন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দেশ, যারা ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আগামী বছরগুলোতে নিজ নিজ চেম্বারের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সম্পৃক্ততা আরও বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত সেমিনার বাংলাদেশ-ফিলিপাইনের মধ্যকার নিবিড় অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পথ আরও প্রশস্ত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফিলিপাইন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আন্তর্জাতিক কমিটি চেয়ারম্যান জুড অ্যাগুইলার বাংলাদেশ দূতাবাসের এই ব্যবসায়িক সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং ফিলিপাইনের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির চমৎকার সুযোগ রয়েছে। তিনি একটি বিজনেস কাউন্সিল গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উভয় দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।

এছাড়া, বাণিজ্যের পরিধি ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিবিধ ক্ষেত্রে বিদ্যমান অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে চেম্বার বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাবে বলেও তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

দূতাবাসের কাউন্সেলর সায়মা রাজ্জাকী বাংলাদেশ এবং ফিলিপাইনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ শীর্ষক ২০ মিনিটের একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। যেখানে বাংলাদেশ-ফিলিপাইন দ্বিপাক্ষিক-অর্থনৈতিক সম্পর্কের তুলনামূলক বিশ্লেষণ, বাংলাদেশের বিভিন্ন গতিশীল খাতসমূহ, বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ নীতি ও সুবিধা এবং বাংলাদেশ-ফিলিপাইনের মধ্যকার ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো ওপর আলোকপাত করা হয়।

সেমিনারের শেষ পর্যায়ে উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা দুই দেশের মধ্যকার সম্ভাব্য বাণিজ্য-বিনিয়োগের খাত উল্লেখপূর্বক মূল্যবান মতামত ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে, বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধসামগ্রীর ফিলিপাইনের বাজারে অপার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com