মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ১১:১৫ অপরাহ্ন

ব্যক্তিগত রেষারেষিতে হাবিপ্রবির ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত

ব্যক্তিগত রেষারেষিতে হাবিপ্রবির ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত

নিউজ ডেস্ক :
দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত রেষারেষি থেকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। পরে বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, তাজউদ্দিন আহমদ হল ও ডরমেটরি-২ হলের শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এতে আহত হয়েছেন প্রায় ১৩ শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত অবস্থায় দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৩ শিক্ষার্থী।

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের রেজিস্টার অনুযায়ী এ ঘটনায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন হাবিপ্রবির শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম, মোরশেদ এবং আনজারুল ইসলাম। অন্যান্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে করে চলে গেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৮টায়।

শুক্রবার সকালে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী আনজারুল ইসলামকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় শেখ রাসেল হলের ৮-১০ জন শিক্ষার্থী মারধর করেন। এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পরলে অন্য কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

আহত আনজারুল ইসলাম ডরমেটরি-২ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তাকে মারধরের খবর হলে পৌঁছালে পরবর্তীতে ডরমেটরি-২ হলের শিক্ষার্থীরা শেখ রাসেল হলের শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়। উভয় হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ইয়াসি প্রধান ও সিকিউরিটি ইনচার্জ খায়রুল ইসলাম উপস্থিত হলে উভয় পক্ষকে শান্ত করে বিচারের আশ্বাস দেন।

অধিকাংশ শিক্ষার্থী হলে ফিরলেও আচমকা শেখ রাসেল হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীরা ডরমেটরি-২ হলের ভিতরে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় উভয়পক্ষের সংঘর্ষ হয়। পরে রাত ১১টায় ডরমেটরি-২ হলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনায় বসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর মামুনুর রশিদ। কিন্তু আলোচনায় কোনো সমাধান আসেনি। যদিও প্রক্টর দাবি করেন, আলোচনায় সবাই গণ্ডগোল থামানোর অঙ্গীকার করেছেন।

পরে রাত ১২টায় ডরমেটরি-২ ও তাজউদ্দিন হলের শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীদের উপরে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের গণ্ডগোল থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তালা ভেঙ্গে শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু হলে প্রবেশ করে নিচতলায় রাখা মোটরবাইক, কক্ষের জানালা, টেলিভিশন কক্ষের থাই গ্লাসসহ ব্যাপক ভাঙচুর করেন। পরে রাত ৩টায় পুলিশের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর মামুনুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে ঠুনকো বিষয় নিয়ে মারপিটের ঘটনা ঘটিয়েছে। উত্তেজিত হয়ে শিক্ষার্থীরা হলের দরজা জানালা ভাঙচুর করেছে। ১৩ জন আহত হয়েছে। তবে তিনজনের আঘাত একটু বেশি। অন্যান্যরা সুস্থ আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ শান্ত আছে।

তিনি জানান, বেশ কিছুদিন আগে আহত আনজারুল শেখ রাসেল হলের একজনকে আঘাত করেছিল। তারই সূত্র ধরে শেখ রাসেল হলের কয়েকজন আনজারুলের ওপর চড়াও হয়েছেন। সেসময় ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর মাহবুবকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনার পরে বিশ্ববিদ্যালয় ট্রেজারার প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হালদারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে শিক্ষার্থীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com