বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন

ইউরোপে গ্যাসের দাম ১৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্নf

ইউরোপে গ্যাসের দাম ১৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্নf

অবশেষে ইউরোপের বাজারে কমলো প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম। অঞ্চলটিতে গ্যাসের দাম কমে ১৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন হয়েছে। এটি একটি বড় লক্ষণ যে, সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলটি একটি ভয়ঙ্কর শক্তি সংকট এড়াতে সক্ষম হয়েছে।

বেঞ্চমার্ক পাইকারি গ্যাসের দাম শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রায় ৫ শতাংশ কমে প্রতি মেগাওয়াট ঘণ্টায় ৪৯ ইউরো ছুঁয়েছে, যা ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে সর্বনিম্ন। এর আগে গত বছরের আগস্টে পাইকারি গ্যাসের মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৩২০ ইউরোতে।

 

 

এটি একটি মহাদেশের জন্য একটি অসাধারণ পরিবর্তন। কেননা মাত্র কয়েক মাস আগেই ইউরোপসহ আশপাশের দেশগুলো ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। তাদের বৃহত্তম গ্যাস সরবরাহকারী দেশ রাশিয়া ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধ হিসাবে ইউরোপে গ্যাস রপ্তানি ব্যাপক হারে কমিয়েছিল। এখন গ্যাসের মূল্যহ্রাস ইউরোপে মন্দার ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে দেবে।

তবে কেবল ইউরোপ নয়, গত বছর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বজুড়েই জ্বালানির সংকট দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে উল্টোরথে হাঁটে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেল বাণিজ্যের অন্যতম নিয়ন্ত্রক জোট ওপেক প্লাস। সংস্থাটি দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দেয়। এতে জ্বালানি সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করে।

এমনকি ইউক্রেনে রাশিয়া যুদ্ধে যাওয়ার পর থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম এত কম ছিল না। এই শীতে অসময়ের উষ্ণ আবহাওয়া, সেইসাথে গ্যাস সংরক্ষণ এবং বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজে বের করার ফলেই এই দাম কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যা ইউরোপের অর্থনীতিতে অনেক ক্ষেত্রেই স্বস্তি এনে দেবে।

 

 

ইউরোপের গ্যাস অবকাঠামো বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্যাস স্টোরেজগুলো ৬৫ শতাংশই পূর্ণ। যা আগের পাঁচ বছরের গড় ৪৫ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি।

ইউরেশিয়া গ্রুপের শক্তি, জলবায়ু ও সম্পদের পরিচালক হেনিং গ্লয়েস্টেইন সিএনএনকে জানিয়েছেন, ইউরোপকে দেখে মনে হচ্ছে তারা সফলভাবে রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পেরেছে।

তিনি আরও জানান, এটি এখনও তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল। কিন্তু বর্তমান মূল্য দেশগুলোকে জ্বালানি সংকটের মুখে ফেলবে না, যেমনটি তারা গত বছর করেছিল।

বেরেনবার্গ ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ স্যালোমন ফিডলার শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, তিনি আশা করেছিলেন ইউরোপ আগামী শীতকালের মধ্যেই জ্বালানি সংকট এড়াতে সক্ষম হবে। যদি তারা রাশিয়া ছাড়া অন্যান্য সরবরাহকারীদের কাছ থেকে বর্তমান আমদানির মাত্রা বজায় রাখে। পাশাপাশি গ্যাসের ব্যবহার গড় মাত্রা থেকে ২০ শতাংশ কমায় এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদনের মাত্রা একই রাখে। সূত্র : সিএনএন

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com