বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৬:৫১ অপরাহ্ন

জঙ্গি হামলার আশঙ্কা হার্ডলাইনে পুলিশ

জঙ্গি হামলার আশঙ্কা হার্ডলাইনে পুলিশ

অল নিউজ ডেস্ক : কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করেছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে দেশব্যাপী কড়া সতর্কতা নিচ্ছে।

এ বিষয়ে দেশের সকল ইউনিটে চিঠি পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। সদর দপ্তরের এআইজি (অপারেশন্স-১) সাইদ তারিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিটি ইস্যু করা হয় দুদিন আগে।

তাতে বলা হয়,  গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, তথাকথিত আইএস কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে কথিত বেঙ্গল উলায়াত ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ঘটনা প্রবাহ বিশেষণ করে দেখা যায়, সাধারণত বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমেই বেঙ্গল উলায়াত ঘোষণা করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, এই অবস্থায় আইএসর দেশি অনুসারী নব্য জেএমবির সদস্যরা হামলা পরিচালনাসহ যেকোনো জঙ্গিহামলা বা বোমাহামলার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করতে পারে।

তাই, পুলিশের  সকল ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে যথাযথ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।

পুলিশের গোয়েন্দা তথ্য বলছে, হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু পুলিশের কোনো টিম, স্থাপনা বা যানবাহন।

এছাড়া, বিমানবন্দর, দূতাবাস বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, মিয়ানমারের দূতাবাস ভবন বা বিশেষ ব্যক্তি অথবা শিয়া-আহমদিয়া উপাসনালয়, মাজারকেন্দ্রিক মসজিদ, চার্চ, প্যাগোডা, মন্দির টার্গেট করা হতে পারে। হামলার দিন-তারিখ না উল্লেখ থাকলেও চিঠিতে সময়কাল ধরা হয়েছে, সকাল ৬-৭টা অথবা সন্ধ্যা ৭-১০টা।

হামলাকারীর বয়স ১৫-৩০ বছরের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাতে তৈরি সময় কিংবা দূর নিয়ন্ত্রিত গ্রেনেড, বোমা, ক্ষুদ্রাস্ত্র কিংবা ছুরি-চাপাতি দিয়ে হামলা হতে পারে।

চিঠিতে বলা হয়েছে— জঙ্গিরা পুলিশের পোশাক পরে তাদের স্থাপনায় প্রবেশ করতে পারে। তাই পোশাক পরা থাকলেও পুলিশ সদস্যদের পরিচয় নিশ্চিত হতে হবে।

এই চিঠি পাঠানোর পাঁচ দিনের মাথায় গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর পল্টন মোড়ে পুলিশের একটি চেকপোস্টের পাশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় পল্টন থানায় বিস্ফোরক আইনে হওয়া মামলায় একে হাতে তৈরি বোমা বা আইইডি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে থেকে চার ইঞ্চি ব্যাসের জিআই পাইপের কনটেইনার, সার্কিটের অংশ, লাল ও নীল রঙের তারের অংশ লোহার বিয়ারিং বল এবং ৯ ভোল্টের ব্যাটারির অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ বোমার সঙ্গে গত বছর ঢাকায় পুলিশের ওপর হওয়া হামলায় ব্যবহূত বোমার মিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সে সময় হওয়া পাঁচটি বোমাহামলার চারটিই ছিলো দূরনিয়ন্ত্রিত। পল্টনের বোমাটিও দূরনিয়ন্ত্রিত ছিলো কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পরদিন শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে গ্রেনেডসদৃশ আরেকটি বস্তু। কালো টেপে মোড়ানো ওই বস্তুতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল এর ভেতর শুধু বালু পেয়েছে।

হামলার সময় কী ধরনের অস্ত্র থাকতে পারে  সে বিষয়েও পুলিশের গোপন চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব তথ্যের নিরিখে, পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটসহ জঙ্গিসংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

এছাড়া উগ্রপন্থি বা তাদের সংগঠনের উপর নজরদারি বৃদ্ধি, পুলিশের সবাইকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বজায় রাখা, পুলিশের গাড়ি-স্থাপনা খালি বা পরিত্যক্তভাবে ফেলে না রাখা, পুলিশের ভবনগুলোতে প্রবেশের সময় নিরাপত্তা ও পরিচয় নিশ্চিত করা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর নজরদারি বৃদ্ধি করা, চেকপোস্টে তল্লাশি বাড়ানো, সন্দেহ হলে ব্যাগ-দেহ তল্লাশি করা, সন্দেহজনক এলাকায় ব্লক রেইড করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

চিঠিতে সবশেষে উল্লেখ করা হয়, সকল ইউনিট প্রধানরা যেন এসব নির্দেশনা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করেন।উগ্রপন্থিদের কার্যক্রম নিয়ে গত রোববার বিকালে নিজ কার্যালয়ে এক সভা ডাকেন ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

সেখানে তিনি, সকল কর্মকর্তাকে এসব বিষয়ে নির্দেশনা দেন। এই সভার সত্যতা স্বীকার করেছেন ডিএমিপর বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র জানা গেছে, কুরবানিকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংগঠনগুলোর সদস্যরা বোমাহামলার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক বা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারে।

পুলিশের অ্যান্টিটেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বেঙ্গল উলায়াত বলতে সংগঠনটির বাংলাদেশ শাখা বোঝানো হয়েছে। গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং নিজেদের সদস্যদের উজ্জীবিত করতে বিভিন্ন সময়ে তারা এ ধরনের শাখা ঘোষণা করে থাকে।

তার মতে, আরবি জিলহজ মাসে হামলা করাকে জঙ্গিরা বিশ্বব্যাপী অধিকতর পুণ্যের কাজ বলে মনে করে। তাই এই মাসে সব সময়ই হামলার একটা আশঙ্কা থেকে যায়। মাসটি ঘিরে তাই সব সময়ই পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়।

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, পল্টনের বোমা বিস্ফোরণটি জঙ্গিরা ঘটাতে পারে বলে তারা মনে করছেন। যে ধরনের বিস্ফোরক ছিলো, তা সাধারণত জঙ্গিরাই ব্যবহার করে। কিন্তু এখনো নিশ্চিত কোনো সূত্র তারা পাননি।

তিনি আরও বলেন, সিটিটিসি থেকে ডিএমপির সব উপ-কমিশনারকে আগেই সতর্ক করে দেয়া হয়েছিল। তারপরও বিশেষ উদ্যোগ নিতে তাগাদা দেয়ার জন্য সভা ডাকা হয়েছিল। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিয়ে নিয়মিত চেকপোস্ট বসাতে এবং নতুন ভাড়াটেদের তথ্য সংগ্রহ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

চামড়াপাচার রোধে চেকপোস্ট : প্রতিবছরই কুরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। পাচার হয়ে যায় অনেক চামড়া। এবার চামড়াপাচার রোধে ঢাকার বহির্গমন পথগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হবে। থাকবে গোয়েন্দা নজরদারি। গতকাল সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, চামড়া ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ নিয়ে নিরাপদ স্থানে রাত যাপনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। যেকোনো প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নিন। অর্থ বহনকালে নিরাপত্তা দেয়া হবে।

কাঁচা চামড়া পাচার রোধে ঢাকার বহির্গমন পথগুলোতে থাকবে চেকপোস্ট এবং নৌপথে টহলের ব্যবস্থা করা হবে। হাজারীবাগ এলাকা ও আমিনবাজার টার্মিনালের পাশে রাস্তার ওপর রাত ১১টার পর কাঁচা চামড়া রাখা যাবে না।

কুরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করতে হবে। ঢাকার বাইরে থেকে শুধু কাঁচা চামড়াবাহী যানবাহন ঢাকায় ঢুকতে পারবে। কাঁচা চামড়াবাহী যানবাহন ঢাকা থেকে বাইরে যেতে পারবে না। চামড়া কেনাবেচার ক্ষেত্রে কেউ যাতে সিন্ডিকেট করতে না পারে সে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com