মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ভারতের করোনা হাসপাতালে ঢুকে রোগীর গয়না লুট

ভারতের করোনা হাসপাতালে ঢুকে রোগীর গয়না লুট

অল নিউজ ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় সরকারি হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ঢুকে রোগীর স্বর্ণের গয়না লুঠের অভিযোগ উঠেছে। দেশটির কলকাতা শহরের প্রথম সারির কোভিড হাসপাতালের সুপার স্পেশালিটি ব্লকে

বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটেছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

কলকাতার পুলিশের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, রাজ্যের বসিরহাটের বাসিন্দা এক নারী মেডিকেল কলেজের এসএসবি ব্লকের আট তলায় ভর্তি ছিলেন। ওই ওয়ার্ডটি নারী কোভিড রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট। ৭৭২ নম্বর বেডের রোগীর কাছে পিপিই কিট পরে এ দিন দুপুরে এক যুবক হাজির হন। তিনি নিজেকে হাসপাতালের কর্মী বলে পরিচয় দেন।

রোগীর অভিযোগ, ওই ব্যক্তি তাকে বলেন, হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী সোনার গয়নাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র কাছে রাখা যাবে না। এর পরেই তিনি বলেন, তাকে দিয়ে দিলে নিচে রোগীর আত্মীয়দের কাছে ওই সব জিনিসপত্র পৌঁছে দেবেন। তিনি ওই ব্যক্তির কথা শুনে তাকে অবিশ্বাস করতে পারেননি ওই রোগী।

তিনি সরল বিশ্বাসে হাসপাতাল কর্মী ভেবেই নিজের গলার সোনার হার ও আংটি খুলে দেন পিপিই পরা ওই ব্যক্তিকে।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওয়ার্ড থেকে বেরনোর সময় ওই ব্যক্তি এক নার্সের মুখোমুখি হন। নার্সের সন্দেহ হয়। তিনি ওই ব্যক্তিকে দাঁড় করিয়ে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি নারীদের করোনা ওয়ার্ডে ঢুকেছেন? জবাবে তিনি নার্সকে জানান, রোগীর পরিবারের তরফেই তাকে গয়না নিতে উপরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি ওই নার্সের বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। পালিয়ে যাওয়ার আগে তিনি ওই ব্যক্তিকে ধরার চেষ্টা করেন। পিছনে তাড়াও করেন। কিন্তু লাভ হয়নি।

এরপরই হাসপাতালের তরফে যোগাযোগ করা হয় রোগীর পরিবারের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারেন যে ওয়ার্ডের মধ্যে পৌঁছে গিয়েছে প্রতারকরা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই খবর দেন মেডিকেল কলেজ চত্বরে থাকা পুলিশ আউট পোস্টে।

সূত্রের খবর, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানিয়েছেন, পিপিই পরা ব্যক্তি হাসপাতালেরই কর্মী। তদন্তকারীদেরও ধারণা, বাইরে থেকে কেউ পিপিই পরে হাসপাতালে ঢুকে কেপমারি করবে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক সন্দেহ গিয়ে পড়েছে চুক্তিভিত্তিক কয়েক জন পরিচ্ছন্নকর্মীরওপর। এর আগেও ওই পরিচ্ছন্নকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, রোগীর আত্মীয়দের কাছ থেকে পানি ও খাবার পৌঁছে দেওয়ার নাম করে মোটা টাকা প্রতারণা করার।

কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘বৌবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তিন জনকে আটক করে জেরা করা হচ্ছে। একটা চক্র গজিয়ে উঠেছে। আমরা তার পান্ডাদের পাকড়াও করার চেষ্টা করছি।’

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com