শনিবার, ২১ মে ২০২২, ১০:৪৪ অপরাহ্ন

একজন নারী’র ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সে ভর্তি ও পরীক্ষা এবং পাস করার স্মৃতিকথা

একজন নারী’র ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সে ভর্তি ও পরীক্ষা এবং পাস করার স্মৃতিকথা

নিউজ ডেস্ক : উত্তর জনপদের প্রবীণ ও ডিগ্রিধারী হোমিওপ্যাথ চিকিৎসক মুক্তিযোদ্ধা ডা. মো. আতিকুল্লা এর কনিষ্ঠপুত্র চিকিৎসক ও শিক্ষক এবং কলামিস্ট ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু) এর সহধর্মিণী মহাসিনা খাতুন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নিজের সংসার, সংসারে বয়স্ক শ্বশুর- শ্বাশুড়ি দেখাশুনা ও ছোট শিশু সন্তান লালন-পালন সহ সামলিয়ে নিজ মেধা এবং যোগ্যতায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সে হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি ও পাস করেন।

মহাসিনা খাতুন তিনি চিকিৎসক, শিক্ষক, কলামিস্ট, শিক্ষক নেতা, হোমিওপ্যাথি নেতা ও প্রাক্তন সাংবাদিক ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু) এর সহধর্মিণী হলেও কখনও তার স্বামী বা স্বামীর পিতা (শ্বশুর) জনপ্রিয়তা ও পরিচয় ব্যবহার করে কারো নিকট সহধর্মিণী লেখাপড়ার বিষয়ে পরিচয় করে দেননি। তার বক্তব্য যে যার নিজ চেষ্টার এগিয়ে যাক।

সেজন্য তার সহধর্মিণীকে বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথরা তেমনভাবে চিনেনা। তিনি কখনও কারো নিকট এ বিষয়টি বলেননি ও পরিচিতি হননি এবং কোন প্রকার সুবিধা নেননি ফলে কোন প্রকার সুযোগ-সু্বিধা গ্রহণ করার বিষয় সামনে আসেনি। যখন ১ম সন্তান কন্যা আনিকা সালাম মায়ের গর্ভে ৪ মাসের ছিল যে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে ও মায়ের পেটে আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে, তখন বগুড়া হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজে ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সে ১ম বর্ষে ভর্তি। তার কয়েকমাস পর সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান হলে শিশুকে নিয়ে মহাসিনা খাতুন নিজের জন্মস্থান প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চল, যা বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার প্রত্যন্তগ্রাম বিশালপুর ইউনিয়নের সিরাজ নগর গ্রাম এর সম্ভ্রান্ত “মুন্সি বাড়ী” (পিতা-মো. আমানউল্লাহ রহমান, মাতা- মোছা. মাহমুদা বিবি)। প্রত্যন্ত গ্রামটি হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ থেকে প্রায় ৪৫/৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান। পরীক্ষার সময় শিশুর নানা’র বাড়ীতে অবস্থান করা সুবিধা মনে করা। কারণ ছোট সন্তান যত্ন ও লালন-পালন বিষয়টি জড়িত। প্রতিটা পরীক্ষার আগের দিন পূর্ণরায় পড়াশুনা ও পরীক্ষার দিন ভোর রাত্রে ৩/৪টা ঘুম হতে উঠে পূর্ণরায় পরীক্ষার সম্ভব্য প্রস্তুতি শেষ করে খুব অল্পকিছু খাবার খেয়ে, ছোট সন্তান ঘুম হতে উঠার আগে বা ঘুম হতে উঠলে অনেক কষ্টে বুঝিয়ে বা শিশুর কান্না থামাতে শিশুর নানী অন্য বাসাতে কোলে করে ঘুরে আনার উছিলায়, বয়স্ক বাবার সঙ্গে শীতের সময় পরীক্ষা (নভেম্বর-ডিসেম্বর-জানুয়ারী সময় হতো) ভোর প্রায় ৫টার আগে একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী হিসাবে এপ্রন পোশাক পড়ে শিক্ষার্থী (পরীক্ষার্থী) মহাসিনা খাতুন তার বাবার সঙ্গে গ্রামের বাড়ী হতে বাহির হয়ে ভ্যান বা যানবাহন না পাওয়াতে ৩/৪ কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা নিয়ে প্রচন্ড শীত, ঘন কুয়াশা/শৈত্য প্রবাহ অতিক্রম করে তারপর বাজারে স্টপেজ দাঁড়িয়ে থেকে থেকে অনেক কষ্টে সিএনজি পেলেও বেশির ভাগ সময় যাত্রী না পাওয়াতে ও ঘন কুয়াশা এবং প্রচন্ড শীতে এত ভোরে সিএনজি যেতে চায় না। তখন সিএনজি চালককে অনেক বুঝিয়ে রিজার্ভ নিয়ে শীতের প্রচন্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় সঙ্গে লড়াই করে বয়স্ক বাবার সঙ্গে ১৭/১৮ কিলোমিটার রওনা হওয়া। তারপর স্টপিজ হতে বাসে উঠে প্রায় ২২/২৩ কিলোমিটার গন্তব্যে যাত্রা করা। তারপর স্টপিজে নেমে আবার রিক্সায় রওনা ও কলেজে পৌছানো। একদিকে পরীক্ষা ও অন্যদিকে দুগ্ধজাত শিশুটির অসুস্থ নানির নিকট রেখে আসার চিন্তা। সন্তান কান্না করছে কিনা? খাবার খাচ্ছে কিনা? তারপর পরীক্ষা দিয়ে যতটা পারা যায় ২ হতে আড়াই ঘন্টার মধ্যে দ্রুত শেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিশুর নানার বাড়ীতে একই ভাবে ফিরবার তারা অনুভব ! সন্তান কি করছে? কান্নাকাটি করছে কিনা? খাবার খেল কিনা? শিশুর অসুস্থ নানি ঠিকমত যত্ন নিতে পারছে কিনা? বিভিন্ন চিন্তা মাথায় বাসা বাঁধতো ও ঘুরপাক খেত ! বাসায় ফিরতে ফিরতে বিকাল ৪/৫টা বা সন্ধ্যা হয়ে যেত। বাসায় গিয়ে দেখতে পায় শিশু সন্তান না খেয়ে অনেক কান্নাকাটি করে, অনেক সময় না খেয়ে মায়ের প্রতি অভিমান করে ঘুমিয়ে গেছে বা জেগে আছে! এভাবে ১২/১৫ ঘন্টা নবজাতক ও দুগ্ধজাত শিশুদের জন্য মা ছাড়া রাখা কষ্টদায়ক। এভাবে ১ম ও ২য় বর্ষ পরীক্ষা শেষ হয়। তারপর ২য় কন্যা সন্তান মায়িশা সালাম ৩য় বর্ষ পরীক্ষার সময় মাতৃগর্ভে তখন ১ম সন্তান পরীক্ষায় সময় শিশুর নানা বাড়ীতে রেখে পরীক্ষা দেওয়া ও একই নিয়মে কষ্টকর যাতায়াত। সিজারিয়ান মাধ্যমে ২য় সন্তান হলে তাকে শিশুর নানা বাড়ীতে ১ম ও ২য় সন্তান রেখে ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষা দেওয়া ও গন্তব্য যাতায়াত। আনিকা সালাম ও মায়িশা সালাম ২ সন্তানের জন্য শিশুর বয়স্ক নানা ও অসুস্থ নানি পরীক্ষার সময় গুলোতে অনেক সহযোগীতা করেছে। ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে স্বামীর পরিবার ও পিতা-মাতার পরিবারের অবদান রয়েছে।

একজন নারী সংসার, সন্তান ধারণ, সদ্যজাত ও দুগ্ধজাত সন্তান একটি দিনের অর্ধেক অংশ প্রায় ১২/১৫ ঘন্টা পরিবারের অন্য সদস্যদের নিকট রেখে আসা, ৪৫/৫০ কিলোমিটার কষ্টকর যাতায়াত সত্যিই ধর্য্যের বিষয়। তারপর যখন পরীক্ষার পাসের ফলাফল আসে তা আর কষ্ট মনে হয়না।

উত্তর জনপদের প্রবীণ স্বনামধন্য ডিগ্রিধারী হোমিওপ্যাথ চিকিৎসক ডা. মো. আতিকুল্লা ও মোছা. আফরোজা বেগম (রোজী) কনিষ্ঠ পুত্র চিকিৎসক ও শিক্ষক ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু) এর সহধর্মিণী মহাসিনা খাতুন বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার পৌর শহরের জগন্নাথ পাড়ার ডাক্তার বাড়ী’র পুত্রবধু, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসাবে এবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এর বা.হো.বো. এর অধীন বগুড়া হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ হতে (ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারী) ডিএইচএমএস (৪র্থ বর্ষ/শেষ বর্ষ) চূড়ান্ত পরীক্ষা-২০১৯ (অনুষ্ঠিত-২০২০) পাস করেন।
ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সটি করতে ভর্তি ও প্রতি বর্ষে পরীক্ষা এবং ফলাফল প্রকাশে পাঁচটি বছর।
তারপর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশীপ চিকিৎসক হিসাবে ইন্টার্নশীপ সমাপ্ত করা।

মহাসিনা খাতুন তিনি স্বপ্ন দেখেন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের একজন নারী চিকিৎসক (ডা.) হিসাবে মহিলা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবায় অবদান রাখা। সেসঙ্গে সাধারণ শিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় হতে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে শিক্ষক হিসাবে আত্মনিয়োগ করা। নিজের কর্মদক্ষতায় ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে হতে চান শিক্ষার্থীদের নিকট সদালাপী আদর্শ একজন শিক্ষক।

তিনি মনে করেন, শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষক হলো জাতির আলোক বর্তিকা। শিক্ষার্থীদের নিকট আদর্শ শিক্ষক হলো শ্রদ্ধার ও সন্মানের অনুসরণের পাত্র। উচ্চশিক্ষা বা ডিগ্রি অর্জন করে অনেকে আগ্রহে বা জীবনের ত্যাগিতে শিক্ষক পেশা গ্রহণ করে, কিন্তু সকলে শিক্ষার্থীদের নিকট আদর্শ শিক্ষক হতে পারেনা!
স্নৃতিকথা লেখার উদ্দেশ্য বাংলাদেশের নারী’রা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পেশায় আরও এগিয়ে আসবে ও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবায় আরোও ভাল অবদান রাখবে।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com