বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন

হোমিওপ্যাথি রক্ষায় ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) সমমান নির্ধারণ ও উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করা!

হোমিওপ্যাথি রক্ষায় ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) সমমান নির্ধারণ ও উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করা!

ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু), বগুড়া রাজশাহী:

বাংলাদেশে ডিএইচএমএস কোর্সের কোন সমমান নির্ধারণ না থাকায় বা কোন সমমান না করায় বাংলাদেশে ভারত ও পাকিস্তান মত কোন উচ্চশিক্ষার সুযোগ নেই, বাংলাদেশে সরকারি কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই, সামাজিক মর্যাদা নেই সহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন।

১৯৯১খ্রি. বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড তার বোর্ড মিটিংয়ে ডিএইচএমএস কোর্সকে স্নাতক (পাস) মান প্রদানে সিদ্ধান্ত নেয়, তা অবগত ও বাস্তবায়নের জন্য ১৯৯২খ্রি. সচিব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পত্র প্রেরণ করলে, সিনিয়র সহকারী সচিব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, রেজিষ্ট্রার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সচিব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ক পত্র প্রেরণ করলে, উপ-রেজিষ্ট্রার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বোর্ড চেয়ারম্যানের নিকট ডিএইচএমএস কোর্সের সিলেবাস চাইয়ে পত্র প্রেরণ করলেও কয়েকদশক যাবত কোর্সের সমমান সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ও কার্যকর হয়নি এবং ফাইলটি চাপা পড়ে আছে। এ তথ্যটিও বোর্ড গোপন করেছিল। তা মে’২০১৮খ্রি. ডিএইচএমএস’দের সামাজিক আন্দোলনের সময় গোপন নথি গুলো যা বোর্ড গোপন করে রেখেছিল, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয় ও হোমিওপ্যাথগণ এবং দেশবাসী জানতে পারে।

ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সের সমমান নেই, উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা নেই ফলে শিক্ষার্থীরা অন্য বিষয়ে জেনারেল শিক্ষায় পড়ছে ও অন্য পেশায় ঝুঁকছে?

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২খ্রি. স্বাধীন বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সটি চালু করেন। আমলাতন্ত্র ও বোর্ডের অযোগ্যতা-ব্যর্থতার কারণে স্বাধীনতার চারদশক অতিক্রম করলেও শোষিত-বঞ্চিত ডিএইচএমএস কোর্সের কোন সমমান বাংলাদেশে হয়নি। সমমান না থাকায় বাংলাদেশের ডিএইচএমএস কোর্স করে কোন উচ্চশিক্ষার (কনডেন্সড/ব্রীজ/গ্রেডেড ডিগ্রি কোর্স) কোন সুযোগ নেই এবং সরকারী কর্মসংস্থানের কোন ব্যবস্থা নেই। পাকিস্তানে ডিএইচএমএস ১ম ও ২য় বর্ষ উচ্চমাধ্যমিক এবং ৩য় ও ৪র্থ বর্ষ করার পর বিএস-সি (পাস) ডিগ্রি সমমান। পাকিস্তানে ডিএইচএমএস পাসকৃতরা সরাসরি বিএইচএমএস ২ বছর মেয়াদি কোর্সে (গ্রেডেড কোর্স/কনডেন্সড কোর্স/ব্রীজরকোর্স) ভর্তি হয়ে কোর্স করে, তারপর এমডি করতে পারে। ভারতে ডিএইচএমএস পাসকৃত সকলকে গ্রেডেড ডিগ্রি (কনডেন্সড/ব্রীজ কোর্স) মাধ্যমে বিএইচএমএস ২ বছর মেয়াদি কোর্সে ভর্তি ও ৬ মাস মেয়াদি ইন্টার্নশীপ করে সকলকে বিএইচএমএস পাস ডিগ্রি। বিএইচএমএস পাস করার পর এমডি/পিএইচ-ডি করতে পারে। বাংলাদেশে ডিএইচএমএস কোর্সের কোন সমমান ও উচ্চশিক্ষার, সরকারী কর্মসংস্থান ব্যবস্থা নেই!

বাংলাদেশে ১৯৭২খ্রি. হতে ডিএইচএমএস কোর্স ৪ বছর ৬ মাস মেয়াদি হলেও সঠিক সময় পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশ হয়না, তারপর ইন্টার্নশীপ, রেজিষ্ট্রেশন সনদপত্র…এগুলো করতে একজনের ন্যুনতম ৬ বছর বা সাড়ে ৬ বছর লাগে। শিক্ষা খরচ বৃদ্ধি।

বাংলাদেশে ১৯৭২খ্রি. হতে অন্যান্য ডিপ্লোমা ২/৩ বছর মেয়াদি ছিল। সেগুলো মধ্যে বর্তমানে ২ বছর মেয়াদি কোর্স গুলো উচ্চমাধ্যমিক সমমান মান। আর যেগুলো ডিপ্লোমা ৩/৪ বছর মেয়াদি সে গুলোকে প্রথম ২ বছর উচ্চমাধ্যমিক সমমান ও পরবর্তী বছর গুলোকে উচ্চমাধ্যমিক সমমান এর উর্দ্ধে মান দিয়েছে। বিশ্বের সব রাষ্ট্রে উচ্চমাধ্যমিক সমমান এর উর্দ্ধে মান প্রাপ্তরা পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষা অর্জনে বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে। তাহলো তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের চেয়ে উচ্চশিক্ষা কোর্সে তাদের ২/৩ বছর কম সময় লাগে ও উচ্চশিক্ষা ডিগ্রি অর্জন করতে পারে এবং তাদের উচ্চশিক্ষা অর্জনে বয়সের কোন বাঁধা নেই। সে সকল ডিপ্লোমাদের শিক্ষা খরচ সীমিত ও সে সকল ডিপ্লোমা কোর্সের সমমানও রয়েছে এবং সকল দেশেই সে সকল ডিপ্লোমা পাসকৃতদের সরকারি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আছে।

ভারতে সকল ডিএইচএমএস’রা বিএইচএমএস করতে পারলেও বাংলাদেশে কেন নয়? কয়েক দশকে দেশে কি ভারতের চেয়ে বেশি মেধাবীরা হোমিওপ্যাথিতে এসেছে? হোমিওপ্যাথি সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে? রাজনৈতিক জাতাঁকলে সাধারণ ডিএইচএমএস’রা!

বিশ্বব্যাপি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের/ডিপ্লোমা পাসদের উচ্চশিক্ষা অর্জন তাদের সংবিধানিক অধিকার ও বয়সের কোন বাঁধা নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ফার্মেসী বিভাগ এর অধীনে পরিচালিত ডিএইচএমএস পাসকৃতদের বয়স নির্ধারণ করে গ্রেডেড ডিগ্রি (কনডেন্সড) কোর্সে বছরে অল্প সংখ্যক প্রায় এক থেকে দুই শতাধিক ভর্তির সুযোগ থাকলেও ২০১৩খ্রি. হতে অদৃশ্য চক্রান্তে তাও বন্ধ। জানা যায় কে বা কারা গোপন পত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দিয়ে গ্রেডেড ডিগ্রি (কনডেন্সড) কোর্সটি বন্ধ করে দিয়েছে। এ বিষয়ে কারা জড়িত তা জাতি ও হোমিওপ্যাথরা সত্য জানতে চায়? এ চক্রান্তে যারা জড়িত ইতিহাস তাদের কখনও ক্ষমা করবেনা।

২০১৩খ্রি. হতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পড়ে থাকা “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আইন (প্রস্তাবিত)” এবং “স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন (প্রস্তাবিত)” যথাযথভাবে ডিএইচএমএস কৃতদের অধিকার বজায় রেখে প্রণয়ন এবং জাতীয় সংসদে পাস করা দরকার। আইনে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা ও ডিএইচএমএস কোর্সের সমমান নির্ধারণ করে ডিএইচএমএস পাসকৃতদের উচ্চশিক্ষার জন্য গ্রেডেড ডিগ্রি (কনডেন্সড) কোর্স অন্তর্ভুক্ত সহ একাধিক কলেজে চালু করা, সরকারীভাবে হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশের সকল সরকারী উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে ডিএইচএমএস পাসকৃতদের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা উল্লেখ করা ও বাস্তবায়ন হলে সমস্যা গুলো এড়ানো/উন্নয়ন সম্ভব। তা হবে কি?

 

পরিশেষ :
ভারতে ১৯৮৩খ্রি. প্রবিধান (Regulation) : “HOMOEOPATHIC (GRADED DEGREE COURSE) B.H.M.S. REGULATIONS, 1983.” (As Amended upto December, 2001), Government of India. ব্রীজ কোর্সের নীতিমালা প্রণয়ন ও চালু হলেও কোর্সের ২০০১ সালে নীতিমালা সংশোধন করেও চালু ছিল। সে হিসাবে বাংলাদেশ যদি আগ্রহ ও সঠিকভাবে কাজ করে দীর্ঘদিন ডিএইচএমএস ও ডিএইচএমএস পাসকৃতদের কে ব্রীজ কোর্স (Graded Degree Course) মাধ্যমে বিএইচএমএস ডিগ্রি করে স্নাতক মান দীর্ঘদিন চালাতে পারবে।
তার ফলে বেশি বেশি মেধাবিরা কোর্সে ভর্তি হতে উৎসাহ বোধ করবে ও শুধু ডিএইচএমএস কোর্সে ভর্তি হবে এবং শুধু ডিএইচএমএস কোর্সে পাস করে ব্রীজ কোর্স (Graded Degree Course) মাধ্যমে বিএইচএমএস ডিগ্রি করে স্নাতক মান নিতে পারবে। তা সত্যিই সরকারি কর্তৃপক্ষ দিবে কি? তাহলে স্নাতক মানের জন্য অন্যকোন জেনারেল বা সাধারণ শিক্ষা অর্জনে ভর্তি হতে হবেনা। তাহলে শুধু মনোযোগ ও অধ্যয়ন তাদের হোমিওপ্যাথি শিক্ষার উপর থাকবে। দীর্ঘ মেয়াদি হোমিওপ্যাথি কোর্স করার ফলে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। জাতি দীর্ঘ চারদশকে ডিএইচএমএস’দের সমমান না দেবার দায় হতে মুক্তি পাবে। সে সঙ্গে ডিএইচএমএস কৃতদের স্নাতক মান দেবার মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশে ডিএইচএমএস কোর্স চালুর স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত কাজটি সমাপ্ত হবে।

“বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আইন (প্রস্তাবিত)” এবং “স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন (প্রস্তাবিত)” যথাযথভাবে ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) অধিকার বজায় রেখে প্রণয়ন ও জাতীয় সংসদে পাস করে কার্যকর করা দরকার। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সরকারের নিকট আহবান রইল।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com