বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৭:০৩ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে ডিএইচএমএস আন্দোলনে বিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্স অনুমোদনের ইতিহাস

বাংলাদেশে ডিএইচএমএস আন্দোলনে বিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্স অনুমোদনের ইতিহাস

ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু),বগুড়া :

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর হাত দিয়ে আইনের মাধ্যমে ১৯৭২খ্রি. স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এর রাষ্ট্রীয় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড প্রতিষ্ঠা হয় ও চালু হয় চার বছর ছয় মাস মেয়াদি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্স। বর্তমানে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের অধিনে বর্তমানে প্রায় ৬৪টি সরকার স্বীকৃত হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজে ডিএইচএমএস কোর্স রয়েছে।
ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কৃতদের উচ্চশিক্ষা অর্জন তাদের অধিকার। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের তৎকালীন ৮০ দশকে ডিএইচএমএস পাসকৃত হোমিওপ্যাথি ছাত্র নেতাগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে হোমিওপ্যাথিতে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য ভারতে গিয়ে ভারত হতে নথি ও নীতিমালা সংগ্রহ করে ভারতের মত বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে হোমিওপ্যাথি বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদের অন্তর্ভুক্ত করে বিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্স অনুমোদন ও চালু করতে নথি এবং নীতিমালা প্রদান, বিএইচএমএস সার্টিফিকেট অর্জন, বেসরকারী বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ অধিভুক্ত করা, কোর্সে ইতিপূর্বে যারা ভর্তি হয়েছে তাদেরকে স্বীকৃতি প্রদান করা, নতুন একটি সরকারী হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করার জন্য “হোমিও ডিগ্রী বাস্তবায়ন পরিষদ” নামে কমিটি করে। কমিটির নেতৃত্বে গত উনিশ শতাব্দীর আশির দশকে রাজপথে আন্দোলন করে। “হোমিও ডিগ্রী বাস্তবায়ন পরিষদ” কমিটি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন ও পরিষদের কমিটির সকল সদস্য যারা সকলেই বেসরকারী বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের তৎকালীন ডিএইচএমএস অধ্যয়নরত, ডিএইচএমএস পাসকৃত, ডিএইচএমএস পাস করে কনডেন্সড কোর্সে মাধ্যমে বিএইচএমএস করার জন্য ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী।
“হোমিও ডিগ্রী বাস্তবায়ন পরিষদ” এর সভাপতি নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া নেতৃত্বে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের ডিএইচএমএস অধ্যয়নরত, ডিএইচএমএস পাসকৃত, ডিএইচএমএস পাস করে কনডেন্সড কোর্সের মাধ্যমে বিএইচএমএস কোর্সে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীগণ যানবাহনে করে লাঠি হাতে মিরপুর-১৪ সরকারী পরিত্যক্ত বেদখলকৃত জায়গা দখল করে সরকারী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখে। এজন্য হোমিও ডিগ্রী বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি জনাব নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া মামলা-হামলার শিকার হন। হোমিও ডিগ্রী বাস্তবায়ন পরিষদ (যারা সকলেই ডিএইচএমএস শিক্ষার্থী, ডিএইচএমএস পাস করে কনডেন্সড কোর্সে বিএইচএমএস শিক্ষার্থী) অবদান রাখেন।

ডিএইচএমএস শিক্ষার্থী ও ডিএইচএমএস পাসকৃত কনডেন্সড কোর্সের বিএইচএমএস ডিগ্রী কোর্সের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স অনুমোদন পাওয়া এবং কলেজ অধিভুক্ত অন্যান্য দাবি বাস্তবায়ন হওয়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এ মান্নান “হোমিও ডিগ্রী বাস্তবায়ন পরিষদ” বিলোপ করা (বিলুপ্ত করা) আহবান জানান (সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক ২৫ জুলাই ১৯৮৬খ্রি.)। সংগঠন বিলুপ্ত করায় তৎকালীন “হোমিও ডিগ্রী বাস্তবায়ন পরিষদ” এর আহবায়ক/সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া কে এখন অনেকে চিনেনা। তাদের অবদান ও সুবিধা নিচ্ছে অন্যরা।

হোমিও ডিগ্রী বাস্তবায়ন পরিষদ এর সভাপতি নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক বাবলু হলেন বেসরকারী বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী, ডিএইচএমএস পাস করে কনডেন্সড কোর্সের মাধ্যমে বিএইচএমএস ডিগ্রি শিক্ষার্থী, তৎকালীন হোমিওপ্যাথি নেতা। বাংলাদেশে প্রথম হোমিওপ্যাথিক ডিগ্রী কলেজ হিসাবে স্বীকৃতি পায় বেসরকারী বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা। বিশ্বব্যাপী ডিপ্লোমাদের উচ্চশিক্ষা অর্জন তাদের অধিকার। ডিএইচএমএস পাসকৃতরা গ্রেডেড ডিগ্রি (কনডেন্সড কোর্স/ব্রীজ কোর্স) মাধ্যমে ২ বছর একাডেমিক ও ১ বছর ইন্টার্নশীপের মাধ্যমে বিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) ডিগ্রী অর্জন করার ব্যবস্থা করেছিল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন প্রদান করে। এছাড়া সরকারী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ মিরপুর-১৪, ঢাকায় নির্মাণ হলে পরবর্তী ডা. মো. নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া (ডিএইচএমএস, বিএইচএমএস) সে কলেজে প্রথমে প্রভাষক যোগদান করেন ও পরবর্তীতে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে পদন্নোতি পান। বর্তমানে অবসর প্রাপ্ত।

নিম্নে ১৯৮৬-১৯৮৭খ্রি. বিএইচএমএস ডিগ্রী অনুমোদন প্রক্রিয়া বিষয়ে বাংলাদেশের দৈনিক ইত্তেফাক ও The Bangladesh Observer সংবাদপত্রের পাতা এবং পরবর্তীতে “চিকিৎসা সমাজবিজ্ঞানী ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহীম” বইতে ১০৯-১১০নং পৃষ্টা প্রকাশিত সম্পূর্ণ তথ্য সহ বিভিন্ন তথ্য প্রকাশিত করা হলো :

১। সংবাদপত্রের শিরোনাম :
“ঢাকা ভার্সিটিতে হোমিও ডিগ্রী কোর্স প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত”।
——————————————————————–
প্রতিবেদন : “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ঠা এপ্রিল অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হোমিওপ্যাথিক ডিগ্রী কোর্স প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হইয়াছে। উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালের ১১ই মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল হোমিওপ্যাথিক ডিগ্রী কোর্স প্রবর্তনের সম্ভাবনা যাচাইর জন্য জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ এম ইব্রাহিমের নেতৃত্বে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি গত ১১ই মার্চ তাহাদের রিপোর্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রী কোর্স প্রবর্তন এবং বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজে ১৯৭৮ সাল হইতে চালুকৃত ডিগ্রী কোর্সকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য একাডেমিক কাউন্সিলের নিকট সুপারিশ করে। একাডেমিক কাউন্সিল গত ১৫ই মার্চ উক্ত কমিটির সুপারিশ অনুমোদন করে। সিন্ডিকেট ৪ঠা এপ্রিলের সভায় একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুমোদন করে।

হোমিও ডিগ্রী বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি জনাব নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক জনাব শামসুল হক বাবলু এক বিবৃতিতে হোমিওপ্যাথিক ডিগ্রী কোর্সের স্বীকৃতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট ও পর্যালোচনা কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানাইয়াছেন।”

[প্রকাশিতঃ দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলাদেশ। তারিখ ২১ এপ্রিল ১৯৮৬খ্রি.]

২। সংবাদপত্রের শিরোনাম :
“সরকারী হোমিও কলেজ ও হাসপাতাল সেপ্টেম্বরে চালু হইবে”।
——————————————————————–
“ইত্তেফাক রিপোর্টঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জীব বিজ্ঞান অনুষদের ফার্মাসী বিভাগের আওতায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ডিগ্রী কোর্সকে ভার্সিটির ডিগ্রী হিসাবে স্বীকৃতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়াছে। ঢাকায় অবস্থিত হোমিওপ্যাথ ডিগ্রী কলেজটি ঢাকা ভার্সিটির ২১তম অধিভুক্ত কলেজ হিসাবে মর্যাদা পাইবে। মীরপুর চৌদ্দ নম্বর সেকশনে নির্মীয়মান সরকারী হোমিও কলেজ ও হাসপাতালে সেপ্টেম্বর হইতে কাজ শুরু হইবে। হোমিওপ্যাথিক ডিগ্রীকে স্বীকৃতি দানের দাবীতে শিক্ষার্থীরা ডিগ্রী বাস্তবায়ন পরিষদ গঠন করিয়া গত তিন বৎসর যাবত আন্দোলন করিতেছিল।

ঢাকা ভার্সিটির ভিসি প্রফেসর এ মান্নানের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে ভিসিসহ বিভিন্ন বক্তা এ তথ্য প্রক্শ করেন। টিএসসির সেমিনার কক্ষে হোমিও ডিগ্রী বাস্তবায়ন পরিষদ আয়োজিত সম্বর্ধনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রফেসর সৈয়দ আলী আহসান পরিকল্পনা কমিশনের ভূতপূর্ব সদস্য ডঃ আবদুল্লাহ ফারুক, প্রবীণ সাংবাদিক আলহাজ শাম্স-উল-হুদা, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডীন ডঃ কাজী জাকির হোসেন ছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন হোমিও প্রকল্পের ভূতপূর্ব পরিচালক জনাব আনোয়ারুল হক, কলেজ অধ্যক্ষ জনাব মোহাম্মদ হোসেন।

পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি প্রফেসর সৈয়দ আলী আহসান শিল্পোন্নত পাশ্চাত্য দেশে এলোপ্যাথির অত্যাধুনিক চিকিৎসা অতীব ব্যয়বহুল হইয়া পড়ার কথা উল্লেখ করিয়া বলেন,কোন সেবা সংস্থার সহায়তা না পাইলে সেখানে কোন দরিদ্র ব্যক্তির পক্ষে আজ চিকিৎসা গ্রহণ দুস্কর। হোমিও চিকিৎসা খুব ব্যয় বহুল নয়। হোমিওপ্যাথি ডিগ্রী কলেজকে ল্যাবোরেটরী, লাইব্রেরী, শবব্যবচ্ছেদ ব্যবস্থা এবং দেহ পরীক্ষার যন্ত্রপাতিতে আধুনিক করিয়া তোলার জন্য তিনি পরামর্শ দেন।

সম্বর্ধনার জবাবে ভিসি প্রফেসর এ মান্নান বলেন, শতকরা ৯০ ভাগ মানুষের সুলভ চিকিৎসার চাহিদা ও প্রয়োজনের দিকে তাকাইয়াই বিশ্ববিদ্যালয় এ ডিগ্রীকে স্বীকৃতি প্রদানে ঐক্যমতে পৌঁছিয়াছে। জাতীয় ঔষধ নীতি কমিটির অন্যতম সদস্য প্রফেসর মান্নান বলেন, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালে জীবনরক্ষায় অদ্রান্ত পেনিসিলিন আজ কাজ করে না। এমপিসিলিনেরও একই দশা হইয়াছে। সীসার পাইপে পানি সরবরাহের পরিণাসে ধীর বিষক্রিয়ায় একদা রোমান সাম্রাজ্য ধ্বংস হইয়াছিল। আজ এলোপ্যাথ ঔষধরাজির এমনি ধীর প্রতিক্রিয়া ও পার্শ্বক্রিয়া মানব অস্তিত্বে ছড়াইয়া পড়িতেছে। আজ হইতে ৩০/৪০ বৎসর পরে ইহার সর্বব্যাপী অহিতকর পরিণাম প্রকটভাবে আত্নপ্রকাশ করিবে। দূরদশিতা ও দেশপ্রেম যাহাদের আছে তাহাদের তিনি আধুনিক চিকিৎসা ও জ্ঞানবিজ্ঞানের সাথে দেশীয় চিকিৎসা পদ্ধতিকে টিকাইয়া রাখা ও বিকশিত করার আহবান জানান।

ভাইস চ্যান্সেলার বলেন, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ডিগ্রীকে ভার্সিটি স্বীকৃতি ডিগ্রীর মর্যাদা দিয়া এ উপমহাদেশে বাংলাদেশ এ শাস্ত্রটির অগ্রগতিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখিয়্ছে। হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নীতি প্রসঙ্গে ভিসি বলেন, এচিকিৎসার ঔষধরাজি ছোট, মাঝারি ও বড় শিল্পে দেশীয়ভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যে ‘প্রয়োজনীয়’ হিসাবে ঔষধ সংখ্যা সুনির্দিষ্ট করিয়া দেওয়া হইয়াছে। ইহাতে কোন ভুল হইয়া থাকিলে সংশোধনের অবকাশও আছে।

তিনি ‘হোমিও ডিগ্রী বাস্তবায়ন পরিষদ’ বিলোপ করিয়া দিবার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানান এবং বলেন, তাহাদের দাবি পূরণ হইয়াছে। সিলেবাস প্রণীত হইয়াছে। অনুষদ প্রতিনিধি ও ভার্সিটির কলেজ পরিদর্শক শীঘ্রই তাহাদের কলেজ পরিদর্শন করিবেন। উল্লেখ, দেশে হোমিওপ্যাথিক ১ টি ডিগ্রী কলেজ ছাড়া ডিপ্লোমা কলেজের সংখ্যা ২০টি। এসএসসি উত্তীর্ণরা ডিপ্লোমা কোর্সে চার বৎসর অধ্যয়ন করে। ডিগ্রী কোর্স ৫ বৎসেরর। এইচএসসি (বিজ্ঞান) উত্তীর্ণরা এ কোর্সে ভর্তি হয়, দেশে হোমিওপ্যাথ চিকিৎসকদের সংখ্যা ৩০ হাজার, তন্মধ্য ২০/২৫ ভাগ ডিপ্লোমাধারী। ডিপ্রোমা কোর্স নূতনভাবে পূর্ণগঠিত হোমিও বোর্ডের আওতায় পরিচালিত হয়।”

[প্রকাশিত : দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলাদেশ। তারিখ : ২৫ জুলাই ১৯৮৬খ্রি.]

৩। সংবাদপত্রের শিরোনাম :
“হোমিওপ্যাথিক কলেজের স্বীকৃতি লাভ”।
———————————————————
“বাসস জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের সাম্প্রতিক বৈঠকে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা’কে অধিভুক্ত কলেজ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই কলেজে ৫ বৎসরের শিক্ষা কোর্সে বি.এইচ.এম.এস ডিগ্রী দেওয়া হইবে।’

[প্রকাশিত : দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলাদেশ। তারিখ : ১৯ মে ১৯৮৭খ্রি.]

৪। ” DU recognises homeo Course”
—————————————————–
“The Academic Council and Syndicate of the Dhaka University recently recognised the Bangladesh Homoeopathic Medical College, Dhaka as a constituent college, press release said on Monday, reports BSS.

The college will be entitied to offer a five-year course and will award the degree of ‘Bachelor of Homoeopathic Medicine and Surgery’ (B.H.M.S).”

[ Published : The Bangladesh Observer, Dhaka. Date : 19 May’ 1987 ]

৫। “হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ডাঃ ইব্রাহিমের অবদান”
——————————————————————–
আত্নমানবতার সেবায় নিবেদিত প্রাণ ডাঃ ইব্রাহিম জীবনব্যাপী সুদীর্ঘ অভিযানের পথে যে দিক দিয়েই মানব সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন সে পথকেই স্বাগত জানিয়ে সেপথেই নিজের হাতকে প্রসারিত করেছেন। তিনি ছিলেন সুবিবেচক। মানব সেবায় তাঁর মূল মাধ্যম আধুনিক চিকিৎসা। কিন্তু এরই মধ্যে তাঁর জীবনীতে আমরা দেখেছি চিকিৎসা বিজ্ঞান ছাড়াও তিনি আরো বহু পথে অতি উৎসাহে, অত্যন্ত সফলতার সাথে জনসেবা করে গেছেন। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ডিগ্রীর স্বীকৃতির আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্তির গ্রহণ যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য এবং বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজে চালুকৃত ডিগ্রী কোর্সকে স্বীকৃতি প্রদান করা যায় কিনা তা বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ১৯৮৪ সালে জাতীয় অধ্যাপক মরহুম ডাঃ ইব্রাহিম কে আহবায়ক করে “Committee for Introducing Homoeopathic Degree under the university of Dhaka and Affiliation of Existing Homoeopathic Degree Course under Dhaka University” এই নামে আট সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে। উক্ত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত ছিলেনঃ

(১) সভাপতিঃ জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ এম ইব্রাহিম।
(২) সদস্যঃ অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
(৩) সদস্যঃ অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফারুক, মার্কেটিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
(৪) সদস্যঃ ডাঃ এস. এ. তালুকদার, ফার্মেসী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
(৫) সদস্যঃ অধ্যাপক আব্দুস সালাম, এনাটমী বিভাগ ও ডীন, ফেকালটি অব মেডিসিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
(৬) সদস্যঃ অধ্যাপক ডাঃ কাজী মশিউর রহমান, প্রধান, মাইক্রোবায়োলজী বিভাগ, আই.পি.জি.এম.আর।
(৭) সদস্যঃ অধ্যাপক ডাঃ মিজানুর রহমান, পরিচালক, নিপসম।
(৮) সদস্যঃ ডাঃ আব্দুর রহিম, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড।

১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত উক্ত কমিটির সদস্যরা ডাঃ ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে সর্বমোট ৭টি সভায় মিলিত হন। একবার ঢাকার জয়কালি মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক ডিগ্রী কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। উল্লেখিত সাতটি সভায় কিছু কিছু শক্তিশালী বাঁধা ডাঃ ইব্রাহিমকে অতিক্রম করতে হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে তাঁর যুক্তি ছিল জোরালো। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সমন্ধে ডাঃ ইব্রাহিমের বহুপূর্ব থেকেই বিশেষ ধারণা ছিল। তাছাড়া তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য সেবাদানকারী সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত কয়েক দশক ধরে এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা সেবার সাথে সদস্য দেশের দেশীয় ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা সেবাকে উৎসাহিত করে আসছে। আমাদের দেশের প্রাচীনকাল থেকে আয়ুর্বেদীক এবং ইউনানী চিকিৎসা পদ্ধতি চলে আসছে। সাথে সাথে সুদীর্ঘকাল ধরে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত এদেশেও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা জনপ্রিয় চিকিৎসা সেবা হিসাবে সুপ্রতিষ্ঠিত। সমাজের একটা বিরাট অংশ এই চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে উপকৃত হয়ে আসছে। এর জন্য আমাদের দেশে যেমন রয়েছে হোমিওপ্যাথিক কলেজ তেমনি প্রতি বছর এ সকল হোমিওপ্যাথিক কলেজ থেকে উল্লেখ যোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী উক্ত বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করে সমাজের বিরাট একটি অংশের চিকিৎসা সেবার কাজে নিয়োজিত আছে। যদিও দীর্ঘকালব্যাপী হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকরা সমাজে চিকিৎসা দিয়ে আসছে এবং সমাজে তারা হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার হিসাবে পরিচিত, কিন্তু তাদের কোন প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছিলনা। সমাজে যদি এই চিকিৎসার চাহিদা না থাকত অথবা সমাজ যদি এই চিকিৎসা ব্যবস্থা দ্বারা উপকৃত না হতো তবে অবশ্যই এই চিকিৎসা ব্যবস্থা এমনিতেই সমাজ থেকে বিতাড়িত হতো। কিন্তু তা না হয়ে বলা যায় এর দ্বারা সমাজ উপকৃত হচ্ছে। তাছাড়া এ চিকিৎসা ব্যবস্থা এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার মত তত ব্যয়বহুল না হওয়াতে সমাজের নিম্ন আয়ের জনসাধারণ স্বল্প ব্যয়ে তা গ্রহণ করার সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু যারা এই চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণ করে ডাক্তার হচ্ছে তাদের যদি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি না থাকে তাহলে অবশ্যই এটা স্বীকৃত চিকিৎসা পদ্ধতিতে পড়বে না। একদিকে সমাজের বিরাট অংশ বিশেষ করে নিম্ন আয়ের জনসাধারণ এই চিকিৎসা পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল এবং সল্প ব্যয়ে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে পেয়ে আসছে অন্যদিকে তার স্বীকৃতি থাকবেনা এটা নিশ্চয় অযৌক্তিক। ডাঃ ইব্রাহিমের এরুপ জোরালো যুক্তিতে সদস্যরা একমত হন। অবশেষে উক্ত কমিটির সপ্তম সভায় সদস্যগণ সর্ব সম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, যেহেতু হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দ্বারা দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাধারণ জনগোষ্ঠী উপকৃত হয়ে আসছে সেহেতু এই চিকিৎসা বিজ্ঞান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবার মাত্র দুই দিন বাকি। এমনি অবস্থায় হোমিওপ্যাথিক ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি জনাব নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া দুই দিন পূর্বে সম্ভবত একটার সময় ডাঃ ইব্রাহিমের অফিসে বসে ঐ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি জমা দেবার জন্য অনুরোধ করলেন, নতুবা তাদেরকে পরবর্তী একাডেমিক কাউন্সিলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এর অর্থ হবে পরবর্তী এক বছরের জন্য হোমিওপ্যাথিক ডিগ্রী কোর্স ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না। বিষয়টি অনুধাবন করে তিনি দ্রুত প্রতিবেদনটি তৈরি করে সই করে দেন। জনাব নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া (বর্তমান হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার) ঐ দিনই তিনটার সময় চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেন। এভাবে ১৯৮৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেট হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত করে।
এ প্রসঙ্গে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, যিনি উক্ত কমিটির সদস্য ছিলেন, কিন্তু ব্যস্ততার জন্য অনেক মিটিং-এ যোগদান করতে না পারলেও নেপথ্যে তিনি যথেষ্ট সহযোগিতা করেছিলেন। তাছাড়া তৎকালীন হোমিওপ্যাথিক ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি বর্তমানে ডাঃ নজরুল ইসলামের নিরলস প্রচেষ্টা সময় মত চূড়ান্ত প্রতিবেদন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে এবং পরবর্তীতে হোমিওপ্যাথিক ডিগ্রী কোর্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তিতে নেপথ্যে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেছিল।

[ বই : “চিকিৎসা সমাজবিজ্ঞানী ডাঃ মোহাম্মদ ইব্রাহিম” লেখক- এম. আমিনুল হক।
অধ্যায় : হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ডাঃ ইব্রাহিমের অবদান, (পৃষ্টা নং ১০৯ ও পৃষ্টা নং ১১০) সম্পূর্ণ অংশ ]

পর্যালোচনা :
—————-
১৯৮৬খ্রি. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ফার্মেসী বিভাগ অধিনে বিএইচএমএস কোর্স প্রথম দেশে চালু করতে ও অধিভুক্ত বিএইচএমএস কোর্সের জন্য কলেজকে স্বীকৃতি দিতে অনুমতি প্রদান করে।
কিন্ত তৎকালীন হোমিওপ্যাথি ডিএইচএমএস নেতারা ১৯৭৮খ্রি. স্বীকৃতি বিহীন কোর্সটি অধিভুক্ত বিহীন কলেজে চালু রাখে ও ভর্তি হয়। বিএইচএমএস কোর্সের জন্য ভারতে দেশের কয়েকজন ডিএইচএমএস হোমিওপ্যাথি নেতা যারা বিএইচএমএস সার্টিফিকেট নেবার স্বপ্ন দেখে তারা গমন করেন। ভারত হতে গ্রেডেড ডিগ্রি কোর্স (কনডেন্সড কোর্স) মাধ্যমে বিএইচএমএস ডিগ্রি আইন ও সিলেবাস সংগ্রহ করে। তা সামরিক সরকারের নিকট রাজনৈতিক তদবীর করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে অনুমোদন করতে ব্যবহার করে।
দেশে সামরিক সরকার ১৯৮৬খ্রি. এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট/সিনেট অনুমোদন দেবার সময় ১৯৭৮খ্রি. হতে স্বীকৃতি বিহীন বিএইচএমএস কোর্সকে অনুমোদন ও কোর্সের কলেজকে স্বীকৃতি দেয়? অবৈধ কে বৈধতা দেয়?
অনেকে আশির দশকের ডিএইচএমএস হোমিওপ্যাথি নেতা পরিচয় দেয়? হোমিওপ্যাথির জন্য রাজপথে রক্ত ঝড়িয়েছে বলে বেড়ায়? আত্নমর্যাদা বিলীন করে, সংবিধানিকভাবে অবৈধ সামরিক সরকারের সময় অবৈধ সুবিধা নিয়ে বিএইচএমএস করেছে বা করে থাকলে তা কি কখনও বলে?
জাতি ও হোমিওপ্যাথরা জানতে চায় এবং তারা কারা? এদের নিকট হতে হোমিওপ্যাথিতে কি প্রত্যাশা করা যায়? সময় এসেছে বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য ইতিহাস জানার, চেনার, বোঝার।
(তৎসময়ে ডিএইচএমএস হোমিওপ্যাথি নেতারা নিজেরা সুবিধা ব্যবহার করে বিএইচএমএস করলেও কোন সাধারণ ডিএইচএমএস গণ বিএইচএমএস করতে পারেনি। নিজেরা বিএইচএমএস সার্টিফিকেট নিয়ে আশা পূর্ণ হলেও, বলে বেড়িয়েছেন সকল ডিএইচএমএস’রা বিএইচএমএস করার সুযোগ পেলে হোমিওপ্যাথি মেধা থাকবেনা। হোমিওপ্যাথিতে মেধাবীরা আসুক। তাদের ভাষ্য সরাসরি উচ্চমাধ্যমিক বিজ্ঞান পাস করে বিএইচএমএস ১ম বর্ষে ভর্তি হোক। তাদের নিকট উচ্চমাধ্যমিক বিজ্ঞান পাসকৃতরা শুধু মেধাবী)
ভারতে সকল ডিএইচএমএস’রা বিএইচএমএস করতে পারলেও বাংলাদেশে কেন নয়? কয়েক দশকে দেশে কি ভারতের চেয়ে বেশি মেধাবীরা হোমিওপ্যাথিতে এসেছে? হোমিওপ্যাথি সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে? রাজনৈতিক জাতাঁকলে সাধারণ ডিএইচএমএস’রা!

বিশ্বব্যাপি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের/ডিপ্লোমা পাসদের উচ্চশিক্ষা অর্জন তাদের সংবিধানিক অধিকার ও বয়সের কোন বাঁধা নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ফার্মেসী বিভাগ এর অধীনে পরিচালিত ডিএইচএমএস পাসকৃতদের বয়স নির্ধারণ করে গ্রেডেড ডিগ্রি (কনডেন্সড) কোর্সে বছরে অল্প সংখ্যক প্রায় এক থেকে দুই শতাধিক ভর্তির সুযোগ থাকলেও বিগত ২০১৩খ্রি. হতে অদৃশ্য চক্রান্তে তাও বন্ধ। জানা যায় কে বা কারা গোপন পত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দিয়ে গ্রেডেড ডিগ্রি (কনডেন্সড) কোর্সটি বন্ধ করে দিয়েছে। এ বিষয়ে কারা জড়িত তা জাতি ও হোমিওপ্যাথরা সত্য জানতে চায়? এ চক্রান্তে যারা জড়িত ইতিহাস তাদের কখনও ক্ষমা করবেনা।

বাংলাদেশে ডিএইচএমএস কোর্সের কোন সমমান নির্ধারণ না থাকায় বা কোন সমমান না করায় বাংলাদেশে ভারত ও পাকিস্তান মত কোন উচ্চশিক্ষার সুযোগ নেই, হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কাউন্সিল নেই, বাংলাদেশে সরকারি কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই, সামাজিক মর্যাদা নেই সহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন।
১৯৯১খ্রি. বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড তার বোর্ড মিটিংয়ে ডিএইচএমএস কোর্সকে স্নাতক (পাস) মান প্রদানে সিদ্ধান্ত নেয়, তা অবগত ও বাস্তবায়নের জন্য ১৯৯২খ্রি. সচিব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পত্র প্রেরণ করলে, সিনিয়র সহকারী সচিব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, রেজিষ্ট্রার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সচিব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ক পত্র প্রেরণ করলে, উপ-রেজিষ্ট্রার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বোর্ড চেয়ারম্যানের নিকট ডিএইচএমএস কোর্সের সিলেবাস চাইয়ে পত্র প্রেরণ করলেও কয়েকদশক যাবত কোর্সের সমমান সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ও কার্যকর হয়নি এবং ফাইলটি চাপা পড়ে আছে। এ তথ্যটিও বোর্ড গোপন করেছিল। তা মে’২০১৮খ্রি. চিকিৎসক, শিক্ষক, কলামিস্ট ও প্রাক্তন সাংবাদিক ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু) নেতৃত্বে দেশব্যাপী ডিএইচএমএস’দের সামাজিক আন্দোলনের সময় গোপন নথি গুলো যা বোর্ড গোপন করে রেখেছিল, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয় ও হোমিওপ্যাথগণ এবং দেশবাসী জানতে পারে।

ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সের সমমান নেই, উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা নেই ফলে শিক্ষার্থীরা অন্য বিষয়ে জেনারেল শিক্ষায় পড়ছে ও অন্য পেশায় ঝুঁকছে?
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২খ্রি. স্বাধীন বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সটি চালু করেন। আমলাতন্ত্র ও বোর্ডের অযোগ্যতা-ব্যর্থতার কারণে স্বাধীনতার চারদশক অতিক্রম করলেও শোষিত-বঞ্চিত ডিএইচএমএস কোর্সের কোন সমমান বাংলাদেশে হয়নি। সমমান না থাকায় বাংলাদেশের ডিএইচএমএস কোর্স করে কোন উচ্চশিক্ষার (কনডেন্সড/ব্রীজ/গ্রেডেড ডিগ্রি কোর্স) কোন সুযোগ নেই এবং সরকারী কর্মসংস্থানের কোন ব্যবস্থা নেই। পাকিস্তানে ডিএইচএমএস ১ম ও ২য় বর্ষ উচ্চমাধ্যমিক এবং ৩য় ও ৪র্থ বর্ষ করার পর বিএস-সি (পাস) ডিগ্রি সমমান। পাকিস্তানে ডিএইচএমএস পাসকৃতরা সরাসরি বিএইচএমএস ২ বছর মেয়াদি কোর্সে (গ্রেডেড কোর্স/কনডেন্সড কোর্স/ব্রীজরকোর্স) ভর্তি হয়ে কোর্স করে, তারপর এমডি করতে পারে। ভারতে ডিএইচএমএস পাসকৃত সকলকে গ্রেডেড ডিগ্রি (কনডেন্সড/ব্রীজ কোর্স) মাধ্যমে বিএইচএমএস ২ বছর মেয়াদি কোর্সে ভর্তি ও ৬ মাস মেয়াদি ইন্টার্নশীপ করে সকলকে বিএইচএমএস পাস ডিগ্রি। বিএইচএমএস পাস করার পর এমডি/পিএইচ-ডি করতে পারে। বাংলাদেশে ডিএইচএমএস কোর্সের কোন সমমান ও উচ্চশিক্ষার, সরকারী কর্মসংস্থান ব্যবস্থা নেই!
বাংলাদেশে ১৯৭২খ্রি. হতে ডিএইচএমএস কোর্স ৪ বছর ৬ মাস মেয়াদি হলেও সঠিক সময় পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশ হয়না, তারপর ইন্টার্নশীপ, রেজিষ্ট্রেশন সনদপত্র…এগুলো করতে একজনের ন্যুনতম ৬ বছর বা সাড়ে ৬ বছর লাগে। শিক্ষা খরচ বৃদ্ধি।
বাংলাদেশে ১৯৭২খ্রি. হতে অন্যান্য ডিপ্লোমা ২/৩ বছর মেয়াদি ছিল। সেগুলো মধ্যে বর্তমানে ২ বছর মেয়াদি কোর্স গুলো উচ্চমাধ্যমিক সমমান মান। আর যেগুলো ডিপ্লোমা ৩/৪ বছর মেয়াদি সে গুলোকে প্রথম ২ বছর উচ্চমাধ্যমিক সমমান ও পরবর্তী বছর গুলোকে উচ্চমাধ্যমিক সমমান এর উর্দ্ধে মান দিয়েছে। বিশ্বের সব রাষ্ট্রে উচ্চমাধ্যমিক সমমান এর উর্দ্ধে মান প্রাপ্তরা পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষা অর্জনে বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে। তাহলো তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের চেয়ে উচ্চশিক্ষা কোর্সে তাদের ২/৩ বছর কম সময় লাগে ও উচ্চশিক্ষা ডিগ্রি অর্জন করতে পারে এবং তাদের উচ্চশিক্ষা অর্জনে বয়সের কোন বাঁধা নেই। সে সকল ডিপ্লোমাদের শিক্ষা খরচ সীমিত ও সে সকল ডিপ্লোমা কোর্সের সমমানও রয়েছে এবং সকল দেশেই সে সকল ডিপ্লোমা পাসকৃতদের সরকারি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আছে।

বাংলাদেশে ১৯৭২খ্রি. হতে ডিএইচএমএস কোর্সের কোন সমমান নেই, ডিএইচএমএস কোর্সের সমমান নির্ধারণ না থাকায় বাংলাদেশে ভারত ও পাকিস্তান মত কোন উচ্চশিক্ষার সুযোগ নেই, হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কাউন্সিল নেই, বাংলাদেশে সরকারি কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই, সামাজিক মর্যাদা নেই সহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন। তৎকালীন ৮০ দশকের আত্নপরিচয় দেওয়া হোমিওপ্যাথ নেতারা অবদান রেখে গেছেন ও রাজপথে রক্ত ঝড়িয়েছেন প্রচার করে? যার কারণে বর্তমান প্রজন্মের ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) দেরকে প্রতিনিয়ত দাবি ও অধিকার নিয়ে সংগ্রাম করতে হচ্ছে!

ডিএইচএমএস কৃতদের সমমান প্রদান ও ডিএইচএমএস কৃতদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করে দেবার মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশে ডিএইচএমএস কোর্স চালুর স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত কাজটি সমাপ্ত করা দরকার।
“বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আইন (প্রস্তাবিত)” এবং “স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন (প্রস্তাবিত)” যথাযথভাবে ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) অধিকার বজায় রেখে প্রণয়ন ও জাতীয় সংসদে পাস করে কার্যকর করা দরকার। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সরকারের নিকট আহবান রইল।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com