বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৭:০২ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ সরকারের “ড্রাগ লাইসেন্স (হোমিওপ্যাথি)” ফরমেট সংশোধন ও সংযোজনে ৫ দফা দাবি

বাংলাদেশ সরকারের “ড্রাগ লাইসেন্স (হোমিওপ্যাথি)” ফরমেট সংশোধন ও সংযোজনে ৫ দফা দাবি

ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু) :
১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর অধিনে রাষ্ট্রীয় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড প্রতিষ্ঠা হয়। রাষ্ট্রীয় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের অধিনে অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রায় ৬৫টি ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে ও সরকারিভাবে আলাদা আলাদা কলেজ কোর্ড নম্বর আছে। বাংলাদেশে একমাত্র বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের অধিনে সরকার ও বোর্ড স্বীকৃত হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজে ডিএইচএমএস কোর্স পরিচালিত হয়। বিপুল সংখ্যক রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথ চিকিৎসক ও চেম্বার যেমন আছে, তেমনি বিপুল পরিমান হোমিওপ্যাথিক ঔষধের ফার্মেসী আছে।
মানবজীবনে ঔষধ ও পথ্যের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। ঔষধ কিনতে দোকান বা ফার্মেসী যেতে হয়। দোকান বা ফার্মেসী চালু করে বৈধভাবে ঔষধের ব্যবসা করতে চাইলে অবশ্যই ড্রাগ লাইসেন্স থাকতে হবে। ড্রাগ লাইসেন্সের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রষ করে থাকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর অধীনস্থ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। যা দেশের ড্রাগ রেগুলেটরি অথরিটি (ঔষধ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা)। এই অধিদপ্তরের অধিনে দেশের প্রচলিত ঔষধ নিয়ন্ত্রণের তদারকি ও প্রয়োগ করে এবং আমদানি, কাঁচা ও প্যাকেজিংয়ের সামগ্রী সংগ্রহ ও ঔষধের উৎপাদন এবং আমদানি, রফতানি, বিক্রয়, মূল্য নির্ধারণ ইত্যাদি সম্পর্কিত সকল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে যা আয়ুর্বেদিক, ইউনানী ভেষজ, হোমিওপ্যাথিক সকল সিস্টেমে। মূলত এই ঔষধ প্রশাসন থেকে ড্রাগ লাইসেন্স নিতে হয়। অন্যান্য লাইসেন্স ছাড়াও দোকান ও ফার্মেসীতে ঔষধ খুচড়া বিক্রির জন্য এলোপ্যাথিক/হোমিওপ্যাথিক/ইউনানী/আয়ুর্বেদিক ড্রাগ লাইসেন্স নিতে হয়।
বাংলাদেশ সরকারের ড্রাগ লাইসেন্স সংশোধন-সংযোজনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিকট ৫ দফা দাবি সমূহ…
====================================
১। “ইউনানী/আয়ুর্বেদিক/হোমিও/হার্বাল” মিলে নতুন যে “ড্রাগ লাইসেন্স” ফরম বা লাইসেন্স পত্র ড্রাগ প্রশাসন প্রদান করছে, তা না করে শুধুমাত্র হোমিওপ্যাথির জন্য আলাদা “ড্রাগ লাইসেন্স (হোমিওপ্যাথি)” নামে ড্রাগ লাইসেন্স ফরম বা লাইসেন্স সিট বা লাইসেন্স ফরমেট লাইসেন্স পত্র ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর অনুমোদন ও তৈরি করুন। আর সেখানে হোমিওপ্যাথিক ফার্মেসীর জন্য “ড্রাগ লাইসেন্স” শব্দের নিচে “হোমিও” শব্দ নয় “হোমিওপ্যাথি” বা “হোমিওপ্যাথিক” শব্দ লিখুন।
কারণ “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন (প্রস্তাবিত) পাস হলে সে আইন মোতাবেক সম্পূর্ণ আলাদা ” বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কাউন্সিল” হবে। সেখান হতে ডিএইচএমএস ও বিএইচএমএস পাসকৃতদের চিকিৎসক রেজিস্ট্রেশন সনদপত্র প্রদান করবে।
২। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর হতে প্রদানকৃত হোমিওপ্যাথিক ফার্মেসীর জন্য ড্রাগ লাইসেন্স এর নিচ অংশে “ড্রাগ লাইসেন্স শর্তসমূহ” লেখা আছে। সেখানে হোমিওপ্যাথি ঔষধ মজুদ, সংরক্ষণ, বিক্রয়ের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট নেই। যা দ্রুত অন্তভূক্ত করা। তা না থাকায় মাঠ পর্যায়ে অনেক সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে। নতুন শর্ত সংযুক্ত করতে হবে তা হলো “জীবন রক্ষাকারি ঔষধ হিসাবে হোমিওপ্যাথিক কোম্পানীতে উৎপাদিত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ (শক্তিকৃত বা পটেন্সি বা ডাইলুশন এবং মাদার টিংচার) ঔষধ লেবেলে সর্বোচ্চ ৯০% এলকোহল লেখা থাকলে আইনগতভাবে ঔষধ মজুদ, সংরক্ষণ, বিক্রয় করতে পারবে” লেখা যেতে পারে। এছাড়া ড্রাগ লাইসেন্সের শর্তসমূহ সকল গুলো শুধুমাত্র হোমিওপ্যাথিক সংশ্লিষ হিসাবে লেখা বা সংযোজন করা দরকার।
★৩।  ড্রাগ লাইসেন্স শর্তসমূহে অংশে নিম্নলিখিত লেখা দ্রুত অবশ্যই সংযুক্ত করা দরকার- “স্পীরিটে ডাইলুশন/পটেন্সি/শক্তিকৃত/মাদার টিংচার ব্যাতিত কোন স্পীরিট (এলকোহল) হোমিওপ্যাথিক ফার্মেসীতে মজুদ, সংরক্ষণ, বিক্রয় করতে পারবেনা”। তাহলে হোমিওপ্যাথি ফার্মেসী গুলো প্রশাসনিক ও আইনগত ঝামেলা এড়ানো যাবে। সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হবেনা।
৪। সহজ শর্তে নতুন হোমিওপ্যাথিক ড্রাগ লাইসেন্স পাওয়া নিশ্চিত করা দরকার। নতুন ড্রাগ লাইসেন্স (হোমিওপ্যাথি) পাওয়া নিয়ে অনেক সময় একটি চক্র অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দাবি ও ভোগান্তি করে তা হয়ে থাকলে বন্ধ করুন।
৫। নতুন ড্রাগ লাইসেন্স (হোমিওপ্যাথি) আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইন করা দরকার। সার্টিফিকেট ও রেজিস্ট্রেশন সনদ মূল কপি অনেক অফিসে দীর্ঘদিন জমা রাখে, তা না করে মূল কপি সমূহ তখনি দেখে অফিস কর্তৃক স্ক্যান কপি সংরক্ষণ ও ফটোকপি জমা নেওয়ার ব্যবস্থা করা দরকার। কোন কিছু যাচাই করতে চাইলে সে স্ক্যান বা ফটোকপি দিয়েই করা যাবে। নতুন আবেদন ও প্রাথমিক ফি টেলিটক মাধ্যমে বিবেচনা করা যেতে পারে।
জনস্বার্থে সরকারি “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া” (Homoeopathic Pharmacopoeia Of Bangladesh) গ্রন্থটি সহজলভ্য করা ও ডাউনলোড করতে বোর্ডের ওয়েবসাইডে গ্রন্থটি সহ গুরুত্বপূর্ণ নথি লোড এবং পিডিএফ ফাইল অপশন করে দেওয়া দরকার।
“বিশ্বব্যাপি হোমিওপ্যাথি ও এলোপ্যাথি সহ প্রায় কোম্পানী জীবন রক্ষাকারি ঔষধ উৎপাদনে এলকোহল ব্যবহার”
=====================================
বিশ্বব্যাপি এলোপ্যাথি ও হোমিওপ্যাথি সহ প্রায় সকল প্যাথি বা পদ্ধতির চিকিৎসা ব্যবস্থায় নিজ নিজ ফার্মাকোপিয়া অনুযায়ী নিদিষ্ট মাত্রায় ঔষধ সরকার অনুমোদিত তথা লাইসেন্স প্রাপ্ত ঔষধ উৎপাদনকারি বা ঔষধ প্রস্তুতকারক কোম্পানী সমূহ জীবন রক্ষাকারি ঔষধ উৎপাদনে এলকোহল ব্যবহার করে আসছে।
রসায়নে এলকোহল (ইংরেজি: Alcohol) বলতে এমন সব জৈব যৌগকে বোঝায় যাদের হাইড্রক্সিল কার্যকারী গ্রুপটি একটি এলকাইল বা অ্যারাইল গ্রুপের কার্বনের সাথে একটি বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকে। সাধারণভাবে এলকোহলকে CnH2n+1OH এই সাধারণ সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়ে থাকে।
এলকোহল শব্দটি আরবি শব্দ “আল-কুহ” থেকে এসেছে যার অর্থ সাধারণভাবে ইথানল। ইথানল বর্ণহীন একধরনের উদ্বায়ী তরল যা গাঁজনের মাধ্যমে আখ থেকে তৈরি করা যায়। এলকোহল জিনিসটা কি তা আমরা মোটামুটি সবাই নিশ্চয় জানি, কারন—হোমিওপ্যাথিক কোর্সের ফার্মেসী বিষয়ে পড়ানো হয়েছিল এলকোহল মানে ৪টি শব্দ।
(১) Liquid— তরল পদার্থ,
(২) Colorless— রঙীন নয়, সাদা, স্বচ্ছ,
(৩) Volatile—উবে যায় তাড়াতাড়ি,
(৪) Inflammable — দাহ্য, চট করে জ্বলে যায়, এলকোহল দুই প্রকার– ক) ইথাইল এলকোহল (ইথানল)। খ) মিথাইল এলকোহল (মিথানল)।
(ক) ইথাইল এলকোহল— এই এলকোহল বিষাক্ত নয়, চিকিৎসা বিজ্ঞানে এবং মদ তৈরী করতে এই এলকোহল ব্যবহৃত হয়।
(খ) মিথাইল এলকোহল — এই এলকোহল বিষাক্ত, বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য তৈরী করতে, কাঠ পালিশ করতে, ইত্যাদি কাজে এই এলকোহল ব্যবহৃত হয়।
এলকোহল ঔষধের শক্তিকরণ ও ঔষধের গুণাগুণ এবং মান বজায় রাখতে সরকারি ফার্মাকোপিয়া অনুযায়ী শুধুমাত্র ঔষধ কোম্পানিতে ঔষধ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু কিছু অসাধু কোম্পানি ও ফার্মেসী তা বাহিরে বিক্রয় করে। যা ভেষজ বা ঔষধ বিহীন। কেউ যদি ঔষধকে এলকোহল মনে করে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিক্রয় করে তাহলে তার অসুস্থতা বা মৃত্যুমুখি হতে পারে। কারণ সরকারি ফার্মাকোপিয়া অনুযায়ী ৯০% এলকোহল ও ১০% ভেষজ দিয়ে সঠিক প্রক্রিয়ার ফার্মাকোপিয়া অনুযায়ী জীবন রক্ষাকারী ঔষধ তৈরি হয়। এটা হলো ঔষধ। তা তৈরি বা উৎপাদন করে ঔষধ কোম্পানি। কোন ফার্মেসি বা চেম্বার নয়। তা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর অনুমোদিত জীবন রক্ষাকারী ঔষধ। তা কোন মাদকাসক্ত ব্যক্তি পান করলে অসুস্থ বা মৃত্যুমুখে চলে যাবে। সব দ্রব্যের ভাল ও মন্দ দিক আছে।
তবে অসৎ উদ্দেশ্য কেহ এলকোহল বিক্রি করে তা সরকারি চাহিদা অনুযায়ী সংগ্রহ করে ঔষধ উৎপাদনে ব্যবহারের কথা বলে ঔষধ উৎপাদনে ব্যবহার না করে অবৈধ অর্থ আয় করতে অবৈধভাবে বাহিরে বিক্রয় করে। যা কাম্য নয়। সে এলকোহল হলো মান ১০০% এলকোহল (সুরাসার)। এ এলকোহল ১০০% মান সেটা মাদকাসক্তরা পান করে। এটাতে ঔষধ মিশ্রণ থাকে না। অনেকে বানিশে ব্যবহৃত বিশাক্ত এলকোহল সেবন করে। তার ফলে মৃত্যু অবধারিত।
এজন্য খারাপ দিক বর্জন করতে হবে। ভাল দিক প্রয়োগ করতে হবে। অসাধু ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অসাধু ব্যক্তির জন্য একটি চিকিৎসা পদ্ধতির বদনাম কাম্য নয়।
এছাড়া সরকারি ড্রাগ লাইসেন্স ফার্মেসিকে দেবার সময় লাইসেন্সে পষ্টভাবে লেখা আছে স্পীরিটে ডাইলিউশন ব্যতিত (এলকোহলে শক্তিকরণ ছাড়া/ঔষধ মিশ্রণ ছাড়া) চেম্বারে বা ফার্মেসিতে ঔষধ রাখা, মজুদ, বিক্রয় করতে পারবেনা। শর্তেও নন ডাইলিউশিন (ঔষধ বিহীন) না রাখার শর্তে তাকে ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্স প্রদান করে।
হোমিওপ্যাথি আজ বাংলাদেশ সহ বিশ্বব্যাপি লড়াই করে টিকে আছে তার রোগী আরোগ্যকারি বিশাল সফলতা দিয়ে তা কারো করুনা বা দয়ায় নয়।
কেউ কেউ অবৈধভাবে এলকোহল কালোবাজারে বিক্রয় করছে তা সেবন করে মাদক সেবনকারিরা অসুস্থ-মৃত্যু ঘটনায় সমস্ত হোমিওপ্যাথির বদনাম করছে তা কাম্য নয়। গুটি কয়েক কালোবাজারির কারণে যা হচ্ছে তার বদনামের দায় সে ব্যক্তির উপর বর্তায় কিন্তু কখনও দেশের সফল ও সন্মানিত হোমিওপ্যাথরা সে দায় নিবে না।
এলকোহল নিদিষ্ট মাত্রা অনুযায়ী সকল প্যাথিতে ঔষধ তৈরিতে ব্যবহার হয়। তাছাড়া বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রি-সুগন্ধি স্প্রে ও আসবাসপত্রে রং করা সহ অনেক শিল্পে ব্যবহার হয়। আর হোমিওপ্যাথিতে এলকোহল ব্যবহার হয় কোম্পানী গুলো জীবন রক্ষাকারি ঔষধ উৎপাদন করে তা রোগীকে সেবন করে রোগ নিরাময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। কিন্তু গুটি কয়েক ব্যক্তি বিশেষ তা কোম্পানী ঔষধ উৎপাদনে ব্যবহার না করে বিভিন্ন প্রকার ভেজাল দ্রব্য মিশ্রিত করে অতি লাভের জন্য মাদক সেবিদের নিকট বিক্রয় করে আসছে। কারণ বিশুদ্ধ এলকোহলে ভেজাল দ্রব্য মিশ্রিত না করলে বার বার এভাবে প্রাণহানি হবেনা। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিজ্ঞান আবিস্কার হয়েছে বাংলাদেশ সহ বিশ্বব্যাপি রোগাক্রান্ত মানব জাতিকে রক্ষা করার জন্য ধ্বংস করার জন্য নয়। কিছু বিপদগামি কালোবাজারির কারণে জনপ্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থার বদনাম হচ্ছে তা কাম্য নয়।
বাংলাদেশে প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রশাসন কর্তৃক চিহ্নিতকারিরা বার বার ঔষধ কোম্পানীতে ঔষধ তৈরির জন্য এলকোহল ঔষধ উৎপাদনে বা প্রস্তত করতে ব্যবহার না করে তা অবৈধভাবে কালো বাজারে এলকোহল বিক্রয় করছে তা সেবন করে মাদক সেবনকারিরা অসুস্থ-মৃত্যু ঘটনার দায় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সহ বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রস্ততকারক সমিতি সহ অন্যান্যরা এড়িয়ে যেতে পারেনা।
২০১৩ খ্রিস্টাব্দ হতে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড বার বার সংশোধনের নামে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন (প্রস্তাবিত) ফেলে রাখে যা এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর মাধ্যমে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে আছে। আইনটি জাতীয় সংসদে পাস করে কার্যকর করে আইন অনুযায়ী দ্রুত বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কাউন্সিল গঠন ও কার্যকর করতে হবে। তারপর বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কাউন্সিল ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথভাবে জাতীয় কমিটি করে নীতিমালা প্রণয়ন করে এগিয়ে যেতে হবে। সেখানে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড এর প্রতিনিধি, প্রস্তাবিত আইন পাস করে সে আইন অনুযায়ী নতুন বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল এসোসিয়েশন গঠন করে তার প্রতিনিধি, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রস্ততকারক সমিতি এর প্রতিনিধি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হতে নতুন রেজিষ্ট্রেশন সহ অনুমোদিত বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতি প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা।
জীবন রক্ষাকারি ঔষধ উৎপাদনে এলোপ্যাথি ও হোমিওপ্যাথি সহ অন্যান্য প্যাথি চিকিৎসায় এলকোহল ব্যবহার হচ্ছে এবং বিশ্বব্যাপি হোমিওপ্যাথি লড়াই করে অত্যন্ত মর্যাদার সহিত টিকে আছে রোগী আরোগ্যে বিশাল সফলতায়।
“বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া” গ্রন্থ।
================================
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ হেমিওপ্যাথি বোর্ড যৌথভাবে প্রকাশনায় সরকারিভাবে প্রকাশিত ও বিতরণ যোগ্য “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া” গ্রন্থ। হোমিওপ্যাথিক ঔষধ শিল্পে জীবন রক্ষাকারী হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সঠিকভাবে ফার্মাকোপিয়া অনুসরণ করে উৎপাদন (তৈরিকরণ) করতে “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া” গ্রন্থ অনুসরণ করছে৷ একটি দেশ যদি নিজ দেশে বাজারজাত ও বর্হিবিশ্বে প্রেরণ/বাজারজাত/রপ্তানি করতে চায় তার প্রধান শর্ত হলো নিজ দেশের সরকার কর্তৃক ফার্মাকোপিয়া গ্রন্থ প্রস্তত করে যথাযথভাবে সরকারের অনুমোদন করা। ফার্মাকোপিয়া অনুমোদন পেলে সেদেশে ঔষধ শিল্পের বিকাশ ঘটে। ঔষধ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারে ও পাশাপাশি দেশে-বিদেশে নিজ দেশের ফার্মাকোপিয়া গ্রন্থ যথাযথ সন্মানের ও গর্বের সঙ্গে আলোচিত হয় এবং আন্তর্জাতিক জার্নাল/মিডিয়া/পুস্তকে বিষয়ে বিস্তারিত লেখা প্রকাশিত হয়।
Homoeopathic Pharmacopoeia of India, Homoeopathic Pharmacopoeia of the United States (U.S.A) সহ অন্যান্য দেশের ফার্মাকোপিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথিক কোম্পানির নিজস্ব ঔষধের প্রস্তুতকৃত বোতল/প্যাকে লেবেলে সরকারি “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া” (Homoeopathic Pharmacopoeia Of Bangladesh) লেখা থাকছে। এগিয়ে যাচ্ছে হোমিওপ্যাথি। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া এবং বাংলাদেশ ইউনানি  ও আয়ুর্বেদিক ফার্মাকোপিয়া সরকারিভাবে প্রথম উদ্যোগ ও অনুমোদন পায় সর্বপ্রথম স্বাধীনতার তিন যুগ পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়। তারপর নির্বাচিত সরকারের সময় বিস্তারিত হয়।
নিজ দেশের ঔষধ বা হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নিয়ে যারা ভ্রূান্ত ধারণা পোষণ করেন, অনুগ্রহ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড কর্তৃক যৌথভাবে প্রকাশিত “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া” গ্রন্থটি তাদের সকল প্রশ্নের উত্তর পেতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড এর উচিৎ দেশের সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সকল ড্রাগ সুপার (ঔষধ তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়), সকল হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ কার্যালয়ে ও কলেজ লাইব্রেরী গুলোতে গ্রন্থ টি প্রদান এবং সেই সাথে গ্রন্থটি পিডিএফ কপি করে বোর্ড, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট এ প্রকাশ করা। গ্রন্থটি সকলের সংগ্রহে রাখা প্রয়োজন। পরবর্তী সংস্করণে গ্রন্থটির একপাশে প্রতি পাতায় বাংলা ভার্সন ও অপরপাশে ইংলিশ ভার্সন সংযুক্ত করা।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এর মহামান্য রাস্ট্রপতি অনুমোদনক্রমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ আইন অনুযায়ী “জাতীয় ঔষধ নীতি-২০১৬” এর ২৩ মার্চ ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ গেজেট প্রজ্ঞাপনে জারিকৃত অপরিহার্য এলোপ্যাথিক ঔষধ, হোমিওপ্যাথিক ঔষধ, ইউনানি ঔষধ, আয়ুর্বেদিক ঔষধ সমূহের তালিকা (List of Essential Drugs (Allopathic Medicine, Homoeopathic Medicine, Ayurvedic Medicine, Unani Medicine) প্রকাশিত হয়েছে। তালিকাটি আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদাকর।
লিংকঃ
[তথ্যসূত্র : বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া, Homoeopathic Pharmacopoeia of the United States (USA), Homoeopathic Pharmacopoeia of India, বাংলাদেশ আইন অনুযায়ী “জাতীয় ঔষধ নীতি-২০১৬” (বাংলাদেশ গেজেট, প্রজ্ঞাপন ২৩ মার্চ ২০১৭) অপরিহার্য ঔষধের তালিকা (হোমিওপ্যাথিক ঔষধ) List of Essential Drugs (Homoeopathic Medicine), ওয়েবসাইড সহ অন্যান্য নথি সমূহ]।
ভিজিট করুন :
=========
শিরোনাম : “বিশ্বব্যাপি হোমিওপ্যাথি ও এলোপ্যাথি সহ প্রায় কোম্পানী জীবন রক্ষাকারি ঔষধ উৎপাদনে এলকোহল ব্যবহার”।
ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু) কর্তৃক জনস্বার্থে লিখিত ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে সামাজিক মাধ্যমে ও একাধিক অনলাইনে প্রকাশিত লেখা এবং নথি (ডকুমেন্টস)। যে লেখা প্রকাশিত হবার পর চার-পাঁচ দশক যাবত বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথি ও এলকোহল নিয়ে বার বার হোমিওপ্যাথি যে প্রশ্নের সম্মুখিত হত এবং হোমিওপ্যাথদের সামাজিক মর্যাদাহানি হয়ে আসছিল তা চির অবসান করতে তথ্য/নথিসহ লেখা প্রকাশিত হবার ফলে সন্মানীত নীতি ও আদর্শবান হোমিওপ্যাথগণ বিশাল উপকৃত হয়। মাঠ পর্যায়ে বাংলাদেশের সরকারি প্রশাসন ও জনগণ এবং মিডিয়া তথা সাংবাদিক-সংবাদ মাধ্যম সে লেখা হতে বিস্তারিত তথ্য জেনে অবগত হয়। বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথি ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে অনন্য উচ্চতায় তথা মর্যাদায় নিয়ে যায়।
প্রকাশিত লেখার লিংক :
(মতামত)
=====================================
লেখক পরিচিতি :
ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু)।
ডিএইচএমএস (রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল)
গভ. রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথ
এমএসএস (এশিয়ান ইউনিভার্সিটি)
সভাপতি/প্রধান সমন্বয়ক,
বাংলাদেশ ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদ। কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশ।
(চিকিৎসক, শিক্ষক, হোমিওপ্যাথি নেতা, শিক্ষক নেতা, কলামিস্ট ও প্রাক্তন সাংবাদিক)
বাংলাদেশ।
====================================
সংগৃহীত অনুলিপি…
ড্রাগ লাইসেন্স (হোমিওপ্যাথি)

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com