বৃহস্পতিবার, ১৭ Jun ২০২১, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন

বড় রাজস্ব ঘাটতির আভাস

বড় রাজস্ব ঘাটতির আভাস

নিউজ ডেস্ক : চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ। তবে একক মাস হিসেবে মার্চ মাসে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। তবে অর্থবছরের শেষে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি পড়তে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, সেখানে ৯ মাসে আদায় হয়েছে এক লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। বছর শেষে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে আগামী তিন মাসে এক লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করতে হবে, প্রতি মাসে যেখানে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে হবে, যা করোনাকালে অসম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 

এনবিআরের এক প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। ৯ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে এক লাখ ৭৮ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা। যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আহরণ হয়েছিল এক লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ কোটি টাকা। এ হিসাবে ৯ মাসে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে তিন মাসে রাজস্ব আদায় করতে হবে এক লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকা, যা প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা। প্রতি মাসে এ পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আবার তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে প্রতি মাসে গড়ে রাজস্ব আহরণ করতে হবে সাড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবেও ৯ মাসে রাজস্ব আহরণ করার কথা দুই লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা; কিন্তু রাজস্ব আহরণ হয়েছে এক লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবেও ৯ মাসে ঘাটতি রয়েছে ৬৭ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারো রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক লাখ কোটি টাকা ঘাটতি হতে পারে।
এনবিআর পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ৯ মাসে আমদানি শুল্ক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ, আর আমদানি পর্যায়ে মূল্য সংযোজন করে (মূসক) প্রবৃদ্ধি হযেছে ১৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আমদানি পর্যায়ে সম্পূরক শুল্কে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। তবে রফতানি শুল্ক এক টাকাও আদায় হয়নি। রফতানি শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, সেখানে ৯ মাসে এক টাকাও আদায় হয়নি। এ সুবাদে আমদানি শুল্ক, আমদানি পর্যায়ে মূসক, সম্পূরক শুল্ক ও রফতানি শুল্ক মিলে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৫ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা, যেখানে ৯ মাসে আদায় হয়েছে ৫৩ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা। তিন মাসে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকার শুল্ক আহরণ করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, করোনার কারণে ব্যবসাবাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কমে গেছে শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতিসহ কাঁচামাল আমদানি। সব ধরনের পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায় কমে গেছে আমদানি শুল্ক।
অপর দিকে চলতি অর্থবছরে আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ তিন হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা। কিন্তু আলোচ্য ৯ মাসে আদায় হয়েছে ৫৫ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে আয়কর আদায় হয়েছিল ৫২ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। আয়কর আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। বাজেটে আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে আগামী তিন মাসে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে। কিন্তু এটাও অসম্ভব হবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় পর্যায়ে অনেক চালু শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কমে গেছে মানুষের আয়। আয় কমে যাওয়ায় আয়কর আদায়ের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এতে আয়কর আদায় কমে গেছে।

 

 

এ দিকে স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর অর্থাৎ মূসক আদায়েও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। ৮২ হাজার ১৯২ কোটি টাকার মূসক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৯ মাসে আদায় হয়েছে ৪৩ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪২ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে মূসক আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৪২ শতাংশ। মূসক আদায়েরও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে তিন মাসে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করতে হবে। এনবিআর-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, স্থানীয় পর্যায়ে পণ্য চাহিদা কমে যাওয়ায় শিল্পের উৎপাদন এ সময়ে অর্ধেকে নেমে গেছে। এতে মূসক আদায়ের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। সব মিলেই রাজস্ব আদায়ের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com