রবিবার, ২০ Jun ২০২১, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন

পেঁয়াজ বীজ চাষে কোটিপতি ফরিদপুরের সাহিদা

পেঁয়াজ বীজ চাষে কোটিপতি ফরিদপুরের সাহিদা

নিউজ ডেস্ক : পেঁয়াজের বীজ চাষ করে আত্মনির্ভরশীল তো বটেই বরং অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন ফরিদপুর জেলার সাহিদা বেগম। তিনি জানান, প্রায় ১৮-১৯ বছর ধরে পেঁয়াজের বীজের আবাদ করছেন। চলতি বছরে তিনি ৩৫ একর জমি চাষাবাদ করে প্রায় ২০০ মণ পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করেছেন। মৌসুমে এই বীজ মণ প্রতি ২ লাখ টাকা করে দাম পেয়েছেন।

 

কৃষি তথ্য সার্ভিসের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের বীজ বিক্রি হয়েছে ৫-৮ হাজার টাকা কেজি দরে।
সাহিদা বলেন, ‘কৃষক পরিবারের বউ হওয়ার কারণে আগে থেকেই নানা কৃষিকাজের সাথে পরিচয় ছিলো। আমার শ্বশুর মূলত পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের আগ্রহী ছিলেন। অনেকটা শখের বশেই এই চাষ শুরু করা।’
তিনি জানান, ২০০৪ সালে দ্বিতীয় সন্তান জন্মের আগে ২০ শতক জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ করেন। সে বছর মাত্র দুই মণ বীজ উৎপাদিত হয়েছিলো। সেগুলো বিক্রি করে পেয়েছিলেন ৮০ হাজার টাকা। পরের বছর আরো বেশি পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজের চাষ করতে শুরু করেন। সে বছর পান ১৩ মণ বীজ।

 

সাহিদা বলেন, ‘বীজ বিক্রি করে দেখলাম যে আমি ভালোই লাভবান। পরের বছর আরো জমি বাড়াইলাম। ৩২ মণ বীজ উঠলো। এভাবেই আমার ওঠা। এর পর আর থেমে থাকিনি। গত বছর ১৫ একর আর চলতি বছর ৩৫ একর জমিতে পেঁয়াজের বীজের চাষ করেছিলাম। ঘরে তুলেছিলাম ২০০ মণ বীজ।’
তিনি জানান, আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি জমিতে পেঁয়াজের বীজের চাষ করলেও অনেক সময় চাহিদা পূরণ করতে পারেন না। ফরিদপুর জেলার স্থানীয় কৃষক তো বটেই, পুরো বাংলাদেশে তারা বীজ সরবরাহ করে থাকেন।

 

সাহিদা বলেন, ‘আমাদের বীজ ভালো বলে চাহিদা থাকে। কৃষকরা অনেক খুশি। কারণ এর মধ্যে কোনো ঝামেলা নাই। নিজের প্রোডাক্ট, কোনো ভেজাল নাই।’
সাহিদা বেগমের পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের কাজে সহায়তা করেন তার স্বামী বক্তার উদ্দিন খানও। যিনি পেশায় একজন ব্যাংক কর্মকর্তা।

 

স্বামী ছাড়াও পরিবারে দুই মেয়ে নিয়ে চার জনের সংসার সাহিদা বেগমের। সাহিদা বেগম নিজেই গড়ে তুলেছেন পেঁয়াজের বীজের কারখানা। সেখান থেকেই বীজ প্যাকেটজাত করা এবং ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা হয়। তার তৈরি করা বীজ ক্রেতাদের কাছে পরিচিত ‘খান সিডস’ নামে।

 

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. হযরত আলী জানান, চলতি বছর পেঁয়াজের বীজের চাহিদা বেশি থাকার কারণে দাম ছিলো বেশ চড়া। প্রতি কেজি বীজ বিক্রি হয়েছে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা দরে। সে হিসেবে সাহিদা বেগম প্রায় চার কোটি টাকার বেশি বীজ বিক্রি করেছেন। এ ছাড়া সাহিদা বেগম কৃষিক্ষেত্রে একাধিক পুরস্কারও পেয়েছেন।

 

তিনি বলেন, চলতি বছর ফরিদপুরে ১৭১১ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের বীজের জন্য চাষ করা হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ৯২৪ মেট্রিক টন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com