বৃহস্পতিবার, ১৭ Jun ২০২১, ১১:১৩ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

রাজশাহীতে আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

নিউজ ডেস্ক : জোরপূর্বক জমি দখল ও প্রাণ নামের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগিরা। এমন অবস্থায় পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। আজ রোববার (২৩ মে) সকাল ১১টার দিকে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভা কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- হারুন আর রশিদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সােনামসজিদ এলাকার মৃত মেঘু মন্ডলের ছেলে।

এসময় তিনি জানান- ২০১৬ সালে নগরের রাণীবাজার মিয়াপাড়া এলাকায় একটি টিনশেড বাড়িসহ প্রায় ২ শতাংশ জমি কিনেছি। পৈত্রিক সূত্রে সেই জমির প্রকৃত মলিক ছিলেন- ঘোড়ামারার দ্বি ঘােন্দ্র মােহন মৈত্রেয়। তার মৌজা রামপুর। দলিল নম্বর ১০০২২, আরএস নম্বর ১৭৯ এবং সি.সে নম্বর ৩৩৮। তিনি গত ২০-০৪-১৯৭৮ তারিখে দলিলের মাধ্যমে পাবনার লেকুচি মাে. সাইফুল ইসলাম সরকার। মৌজারামপুর, জে, এল নম্বর-হল ১০। এজর খতিয়ান-সি, এস, ৩৩৮, এস, এ-৬৪৬, ৫৪৭, আর এস-১৭৯, নিজ নামে প্রস্তুতি-৮১১, হােল্ডিং নম্বর-১১০৬, ধার্মিজ কেস নং-৬৬২/৯-১/৮০-৮১। তিনি গত ২১/০৫/২০১২ তারিখে ৮৩২৮ নং দলিলের মাধ্যমে আসাদুজ্জামান সরকার কিনে নেন । যার আর এন নং ১৭৯ সিএস নং ৩৩৮ ।

 

গত ২০১৬ সালের ৩১০৬ তারিখে আমি (হারুন আর রশিদ) সেই জমি কিনে নেই। যার দলিল নম্বর ২৮৭১। ০২৫৪ (দশমিক শূন্য দুই পাঁচ চার) একর ওই জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে শর্ত হিসেবে নগন টাকা না দিয়ে ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, রাজশাহী শাখায় মর্গেজ (লন) থাকা মাে: আসাদুজ্জামান সরকারের ৪২ লাখ টাকা পরিশােধ করে দেই। এরপর আসাদুজ্জামান সরকার আমাকে ওই জমিটা গত ২০১৬ সালের ১ জুন রেজিস্ট্রি করে দেন।

 

যার দলিল নম্বর ২৮৭১। তারপর খারিজ করে খাজনা পরিশােধ করি। যার চলতি হালি সালে চেক নম্বর ১২১৮৭৭। এছাড়া আরভিএ থেকে এনওসি ও প্লান পসসহ যাবতীয় কার্যকলাপ সম্পন্ন করে জমিটি নিজ দখলে পেয়ে ভােগ করতে থাকি। ফলে এই জমিটি ক্রয়সূত্রে আমার একক মালিকানাধিন সম্পত্তি। এই জমিতে কারো কোনো অধিকার নেই। তবে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে জেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় নিজ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যস্ত ছিলাম। ফলে রাজশাহীর এই জমিসহ বাড়িটার দিকে খুব একটা নজর দিতে পারিনি। এই সুযােগে ২০১৭ সালের কোনো এক সময় নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসান হাবিব।
ওরফে হাসান নামে এক ব্যক্তি বাড়িটিতে দেয়া আমার তালা ভেঙ্গে নতুন করে তার তালা লাগিয়ে রাখে। পরবর্তীতে ওই সালের (২০১৭) জুন-জুলাইয়ের দিকে নিজের দুই বাড়িতে আসলে এই দৃশ্য দেখতে পাই। এতে হাসানের সঙ্গে যােগাযােগ করা হলে সে স্থানীয়দের নেতাকর্মীদের হাত খরচের জন্য কিছু টাকা দাবি করতে তাকে ৩০ হাজার টাকা দেয়া হয়। এতে তারা প্রায় ছয় মাসের মতাে ঝামেলা বন্ধ রাখলেও ২০১৮ সালের শুরুর দিকে আবারও আমাদের তালা ভেঙ্গে তারা নতুন তালা লাগিয়ে দেয়। আবারও তালা লাগানাের কারণ জানতে চাইলে আরও দেড় লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন হাসান। ঝামেলা এড়িয়ে নির্ভেজাল জীবন-যাপনের লক্ষ্যে সেই টাকাও দিতে রাজি হই এবং ওইদিনই ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দেই। বাকি এক লক্ষ টাকা তিন মাস পরে পরিশােধ করি। রাজশাহীর রাজ মহল হােটেলে বসে টাকা পরিশােধের এই সময় ঘটনার সাক্ষি ছিলেন- মনিমুল হক, ওবায়দুল হক, তরিকুল ইসলাম।

 

চঁদা পাওয়ার পরও চাবি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কালক্ষেপন করতে থাকেন হাসন। চাবিটি হস্তান্তর করে। পরে রাসিক মেয়রের পিএস উপস্থিতিতে ৩ালা ভেঙ্গে নতুন তালা লাগিয়ে দেই আমরা। এরপর আবারও হাসানের নেতৃত্বে আমাদের তালা ভেঙ্গে অন্য তালা লাগিয়ে দেয়া। হয়। এক সময় ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহৃত ওই টিন শেড বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে চৌকি, টেবিল, চেয়ারসহ আসবাবপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা মোসাদ্দেক হােসেন লাবলুর নামে ভুয়া কাগজ করে জমিটি দখলের পায়তারা করা হয়।

 

এর প্রেক্ষিতে বােয়ালিয়া থাকায় উভয় পক্ষকে মহরি অ্যাডভােকেটসহ ডেকে কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হয়। এসময় আমি ( হারুন অর রশিদ) জমি ত্রয় সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্র দেখাতে সক্ষম হলেও লাবলু কোনাে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। ফলে এই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র, রাজশাহী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের মর্জিনা বেগম, অভিযােগের তদন্তকারী এএসআই রানা, অ্যাডভােকেট আন্সার আলী, মহরি খায়রুল ইসলামের উপস্থিতিতে আমাকে জমির প্রকৃত মালিক ঘােষণা করা হয়। এছাড়া লাবকে এ বিষয়ে কাউকে হয়রানি না করতে বলা হয়।

 

 

এরপরও পেশি শক্তি দেখিয়ে হাসান ও লাবলু আমাকে নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। ফলে এই ঘটনায় রাজশাহী মহানগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসান হাবিব ওরফে হাসান ও আওয়ামী লীগ নেতা মােসাদ্দেক হােসেন লালুর নাম উল্লেখ করে চাঁদার দুই লক্ষ ও ক্ষতিপুরণ দুই লক্ষ্যসহ মােট চার লাখ টাকা দাবি করে বােয়ালিয়া থানায় আমি নিজেই একটি অভিযােগ দায়ের করি। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। থানায় অভিযােগ দায়েরের পর থেকে হাসানের লােক প্রাণনাশসহ নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। এতে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
বিষয়টি নিয়ে ১২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসান হাবিবকে মুঠোফোনে কল করা হলে নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। তাই এবিষয়ে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com