রবিবার, ২০ Jun ২০২১, ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন

সেলিম বাহিনীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী-ভূমিদখলের একাধিক অভিযোগ

সেলিম বাহিনীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী-ভূমিদখলের একাধিক অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক : সিলেট নগরীর ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবী ও জায়গা দখলের অভিযোগে সিলেট সিটি কপোরেশনের ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ সেলিমসহ তার ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে এসএমপি শাহপরান থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ এপ্রিল) নগরীর শাহজালাল উপশহর ৪ নং রোডের এইচ ব্লকের ৩নং বাসার ইউনুছ আলীর পুত্র মো: রমজান বাদি হয়ে এই অভিযোগটি দায়ের করেন।

অভিযুক্তরা হচ্ছে, সিলেট সিটি কপোরেশনের ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ সেলিম (৫০), শাহজালাল উপশহরের বশির মিয়ার পুত্র নিয়াজ (৩০) ও তার সহযোগী শামীম (৩০), মো: সবুজ মিয়া ও মিন্নতসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/১৬ জন।

মামলার বাদি মো: রমজান অভিযোগ করে বলেন, শাহজালাল উপশহরের ৫নং রোডের এইচ ব্লকের তার জায়গাটি দখল করার জন্য বিভিন্ন পায়তারা করে আসছে বিবাদীরা। এখন খালি জায়গাটি বাউন্ডারি করার জন্য কাজ শুরু করা অবস্থায় গায়ের জোরে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে গত শনিবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ সেলিমের নির্দেশে নিয়াজ, শামীম ও মিন্নতসহ অজ্ঞাতনামা ১৫/১৬ জন ক্যাডার বাহিনী তার নির্মানাধিন বাউন্ডারির সকল লিন্টার ভেঙ্গে ফেলে এবং সাটারিংয়ের মালামালসহ ২০ বস্তা সিমেন্ট ও ৪ বান্ডিল রড এবং রাজমিস্ত্রিদের সকল কাজের সরঞ্জাম নিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, বিবাদীরা বলে এখানে কাজ করাতে হলে ৪ লক্ষ টাকা প্রদান করতে হবে অন্যতায় এখানে কাজ করতে পারবে না বলে আমাকে ভয়ভীতি ও হুমকী প্রদান করে।

মো: রমজান বলেন, এখন যদি আমি বাউন্ডারীর নির্মাণ কাজ করতে যাই তাহলে হয়ত ক্যাডার বাহিনীরা আমাকে হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের অপ্রতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে এই ভয়ে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি।

সোমবার সন্ধ্যায় এ ব্যাপারে এসএমপি শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আনিসুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক বাংলাদেশ মিডিয়াকে বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি। ঘটনাটির তদন্তের জন্য একজন সাব-ইন্সিপেক্টরকে দেয়া হয়েছে। কাল তদন্ত শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলর সালেহ আহমদ সেলিমের বিরুদ্ধে শাহপরান (র:) থানায় এফআইআর নং- ২/২০৭ (০২-১২-২০১৮) ধারা-১৪৩/৪৪৮/৩৮০/৪২৭/৪৩৬/৫০৬/১১৪ পেনাল কোড ১৮৬০; তৎসহ ৩/৫ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামমলা, শাহপরাণ (র:) থানার এফআইআর নং-২/৫৮ (০৬-০৩-২০২১) ধারা- ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩৭৯/৩৮৫/৪২৭/৫০৬ পেনাল কোড-১৮৬০ এর মামলা রয়েছে। এসব মামলায় সে এজাহারভূক্ত আসামী।

ক্যাডার বাহিনীর সদস্য শামীম আহমদ সাহেদের বিরুদ্ধে এসএমপি এর কোতোয়ালী মডেল থানার এফআইআর নং- ৯/৫৩৩ (০২-১২-২০২০), জিআর নং-৫৩৩/২০২০, ধারা ২৫/২৯/৩১ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২০১৮ মামলা রয়েছে। সে এই মামলার এজাহারভূক্ত আসামী।

এছাড়া ক্যাডার বাহিনীর সদস্য অভিযুক্ত নিয়াজের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় ৫/৩০১ (০৪-১০-২০১৬) ধারা- ১৯ (ভ) ১৮৭৮ অস্ত্র আইনে মামলায় এজারহারভূক্ত আসামী, শাহপরান (র:) থানায় চাঁদাবাজির মামলার নং ৪/২০১৬ (০৭-০৮-২০১৬) ধারা-১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩৮৫/৩২৭/৩৮০/৫০৬ পেনাল কোড ১৮৬০ এর এজাহারভূক্ত আসামী। শাহপরান (র:) থানায় ২/২০৭ (০২-১২-২০১৮) ধারা- ১৪৩/৪৪৮/৩৮০/৪২৭/৪৩৬/৫০৬/১১৪ পেনাল কোড ১৮৬০ বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের এজাহারভূক্ত আসামী এবং শাহপরান (র:) থানায় ১১/১৮৬ (২৬-১০-২০১৮) এসজিআর নং- ১৮৬/১১৮ ধারা-১৪৩/৩৫৩/৪২৭/৩৩২ পেনাল কোড ১৮৬০ রং সাসলায় এজাহারভূক্ত আসামী। এমনকি ক্যাডার বাহিনীদের বিরুদ্ধে এএমপি’র বিভিন্ন থানায় জায়গা দখল, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনের একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com