বৃহস্পতিবার, ১৭ Jun ২০২১, ০১:২২ পূর্বাহ্ন

মাদারীপুরে প্রেমের বলি বিসিএস পরীক্ষার্থী ইমন : আটক ২

মাদারীপুরে প্রেমের বলি বিসিএস পরীক্ষার্থী ইমন : আটক ২

নিউজ ডেস্ক : মাদারীপুরে ত্রিভুজ প্রেমের বলি হলেন বিসিএস পরীক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন ইমন। পরিকল্পিতভাবে গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান পুলিশ সুপার। ঈদের দিন আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে ডেকে নিয়ে চেতনানাশক খাইয়ে পরিকল্পিতভাবে ইমনকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় কথিত প্রেমিকা লাবনী আক্তার (২০) ও তার সহযোগী মেহেদী ফরাজীকে (১৯) গ্রেফতার করেছে মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

 

মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জানা গেছে, গত ১৫ মে রাতে শিবচর উপজেলার সন্নাসীরচর ইউনিয়নের খাসচর বাচামারা গ্রামের মরা আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে একটি পাট ক্ষেতের পাশে গলাকাটা অবস্থায় এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ মিরাজ হোসেন, এসআই সঞ্জীব জোয়াদ্দার, দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি শরীফ আ. রশিদসহ পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

 

নিহত ইসমাইল হোসেন ইমন শিবচরের নিলখী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরকামারকান্দি গ্রামের সেকেন কাজীর ছেলে।
ঘটনার আগের দিন ১৪ মে সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে সে নিখোঁজ হয়। ১৬ মে নিহত ইমনের ভাই কাজী রেজাউল বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় জেলার গোয়েন্দা পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় কথিত প্রেমিকা লাবনী আক্তার ও তার সহযোগী মেহেদী ফরাজীকে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে মাদারীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সবকিছু তুলে ধরেন পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল।মাদারীপুরে ত্রিভূজ প্রেমের বলি বিসিএস পরীক্ষার্থী ইমন : আটক ২

 

মাদারীপুর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আল মামুন বলেন, ‘হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুঁরি ও ইমনের হাতঘড়ি মানিব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় ৪ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। মামলাটি জেলার গোয়েন্দা পুুলিশের পরিদর্শক সঞ্জয় কুমার ঘোষ তদন্ত করছেন। শিঘ্রই আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হবে।’

 

মাদারীপুর পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল জানান, ‘এক বছর আগে মুঠোফোনের মাধ্যমে ইমনের সাথে পরিচয় হয় লাবনীর। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। অন্তরঙ্গ ছবি তোলেন দু‘জনে। পরে লাবনীর সাথে পরিচয় হয় কামরুজ্জামান কামরুল নামের এক যুবকের। এরপর থেকে ইমনের মুঠোফোনে থাকা সব ছবি মুছে ফেলতে বলে লাবনী। ছবি মুছে না ফেরার কারণেই ঈদের দিন বিকেলে ক্লোল্ড ড্রিংসের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করে ছুঁড়ি দিয়ে গলাকেটে ইমনকে হত্যা করা হয়। ত্রিভুজ প্রেমের কারণেই হত্যা করা হয় ইমনকে।’

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com