রবিবার, ১৩ Jun ২০২১, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে লকডাউনে সকল দোকনপাট-যানবাহন বন্ধ, জেলার প্রতিটি রাস্তায় প্রশাসন ও পুলিশের টহল

চাঁপাইনবাবগঞ্জে লকডাউনে সকল দোকনপাট-যানবাহন বন্ধ, জেলার প্রতিটি রাস্তায় প্রশাসন ও পুলিশের টহল

মোহা: সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)সংবাদদাতা :

করোনা প্রতিরোধে গণসচেততা বৃদ্ধিতে সারা দেশের ন্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জেও শু রু হয়েছে ৭দিনের লকডাউন। লকডাইনের প্রথম দিনে জেলা সদরে ২৭টি স্থানে পুলিশ চেকপোষ্ট সহ বাকী ৪টি থানায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশ চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে। থানার পুলিশ কয়েকটি টিমে ভাগ হয়ে লকডাউন সফল করতে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত জেলায় প্রতিটি রাস্তায় তৎপর থাকতে দেখা গেছে। ৫টি থানায় শতাধিক মোড়ে পুলিশ টহল দিতে দেখা গেছে। প্রয়োজন ছাড়া যারা ঘুরাঘুরি করছে তাদের ফেরত পাঠাচ্ছে। প্রতিটি গাড়ি তল্লাশী করছে। সরকারী নির্দেশনার বাইরে কোন যানবাহন চলাচল করতে দিচ্ছে না। কোন যানবাহনের মালিক বাড়াবাড়ি করার চেষ্টা করলে তাদের গাড়ির চাকা নষ্ট করতে দেখা গেছে। কাঁচা খাদ্য ও ঔষধের দোকনা ছাড়া সকল দোকান পাট বন্ধ রয়েছে। জেলা শহর, নাচোল, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলার কোথাও তেমন গাড়ির চাপ ছিল না। কঠোর লকডাউন ঘোষণার পর সোমবার (২৪ মে) বিকেলে জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিক অত্যান্ত তৎপর হয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়াডে মাইকিং করায় জনগণ আগের চেয়ে অনেক বেশী সচেতন হয়েছে।

 

গোবরাতলা ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের যুবক শামীম রেজা বলেন, এর আগে অনেক লকডাউন হলেও এবার সবচেয়ে কঠিত লকডাউন হচ্ছে। প্রচার- প্রচারনা বেশী হওয়ায় করোনার ভয়ে মানুষ অনেক বেশী আতংকিত হয়েছে। কানসাট বাজারে বিশেষ করে আম বাজারে সবসময় জ্যাম লেগে থাকলে আজকে সরজমিনে দেখা দেছে কোন জ্যাম নেই। পুলিশী টহল অব্যাহত রয়েছে। কোন দোকান পাট খোলা ছিল না। যানবাহন বন্ধ থাকায় রাস্তা ছিল ফাঁকা। সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় মাঠ পর্যায়ে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করছে ইউনিয়ন পরিষদ। সেলক্ষ্যে গতকাল (সোমবার) মাইকিং করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ সদস্যরা বাইরের মোড়ে মোড়ে গিয়ে দোকানপাট বন্ধ রাখতে ও মানুষকে ঘরে যেতে বলছে। আজ সকাল শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা বাজারে পুলিশ, ইউনিয়ন সচির আব্দর রাকিব ও গ্রাম পুলিশদের জোর তৎপরতা দেখা গেছে।

জেলা শহরের বিশ্বরোড মোড়ের একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট বলেন, লকডাউনে রাস্তায় চলাচলকারীদের জিজ্ঞেস করা হয়। কোথায় যাবেন, কি কাজ আছে? এসব প্রশ্নের সঠিক উওর দিতে না পারলে যেতে দেয়া হচ্ছেনা। ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে বাড়ি। তবে জরুরি সেবায় সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা অবাধে চলাচল করতে পারছেন।একই চিত্র দেখা গেছে জেলার সব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সচিব ও গ্রাম পুলিশদের ক্ষেত্রে।

 

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাকিব আ লরাব্বী বলেন শিবগঞ্জ উপজেলার পুলিশ, বিজিবি ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ ভ্রাম্যআদালত মোতায়েন রয়েছে। সকল দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। সরকারী নির্দেশনার বাইরে সকল যানবাহন যাতায়াত বন্ধ করা হয়েছে। প্রায় একই মন্তব্য দিয়েছেন অন্যান্য উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাগনও । অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান বলেন, যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে করোনাকালীন সময় অতিবাহিত হচ্ছে, তাই জনসাধারণ আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন। জেলা জুড়ে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়ন করতে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। জেলা পুলিশ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে গেলে ঘরে ফেরত পাঠাচ্ছে। তবে জরুরি সেবা, পন্যবাহী যানবহন ও আম পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবহন কঠোর লকডাউনের আওতায় থাকবে না।

উল্লেখ্য যে জেলা শহরে ৭ জন ও উপজেলা পর্যায়ে ৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিশেষ লকডাউন বাস্তবায়নে নিয়োজিত রয়েছেন।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com